HEADLINE
কালিঞ্চী এ. গফ্ফার মাধ্যঃ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন বন্দে আদালতে মামলা বৈকারীতে ১’শ পিস ইয়াবাসহ চোরাকারবারি গ্রেপ্তার রাত পোঁহালেই দেবহাটা প্রেসক্লাবের নির্বাচন সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগ নেতাকে অস্ত্রকান্ডে ফাঁসিয়ে ভারতে পালালেন মূলহোতা নির্বাচন নিয়ে ভাবার কিছু নেই, আমরা গণতান্ত্রিক দল : সাতক্ষীরায় আ.ক.ম মোজাম্মেল হক কুলিয়ায় পানিতে ভাসছে কাফনের কাপড় পরিহিত লাশ সাতক্ষীরায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা: তদন্ত পিবিআইতে সাতক্ষীরায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়ী বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত কলারোয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ২৫ ইভটিজিং প্রতিরোধে আমাদের করণীয়
রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৭:১৭ অপরাহ্ন

ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সৌন্দর্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রয়োজন

জহিরুল ইসলাম শাহীন / ১৯৯
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০২২

ছাত্রদের সাথে শিক্ষকদের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। একজন শিক্ষক ছাত্রের কাছে কখনও কখনও অভিভাবক বা আবার কখনও কখনও ভাল বন্ধু কারণ শিক্ষকের মাধ্যমে একজন ছাত্র তার ভবিষ্যৎ রচনা করতে পারে। শিক্ষকের আদর্শ অনুসরণ করে আগামী দিন গুলোকে নিয়ে ভাবতে শুরু করে একজন ছাত্র। কিভাবে সে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে, কিভাবে দুঃস্থ আতুর দরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে, বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কিভাবে দেশ ও দশের সেবা দিতে পারে। একজন ছাত্র একজন আদর্শবান বা নীতিবান শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। ঠিক তেমনি একজন শিক্ষকের নৈতিক দায়িত্ব ছাত্ররা বর্তমান সময়ে কিভাবে সামনের দিকে অগ্রসর হবে, কিভাবে পাঠ্যপুস্তকে মনোনিবেশ করলে সে ভাল ফলাফল অর্জন করে দেশের জন্য সেবা বা দায়িত্ব পালন করতে পারবে, অসৎ পথ পরিহার করে সৎ পথে ফিরিয়ে আনতে হবে কিভাবে সেটাও একজন শিক্ষকের দায়িত্ব। সুতরাং এ থেকে বোঝা যায় শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে যে সমস্ত সম্পর্ক তৈরি হয় সেটা অতি মধুর, অনাবিল এবং প্রশান্তিপূর্ণ। শিক্ষক ছাত্রদের কাছে শুধু শিক্ষা গুরুই নয়, সত্যিকারের পথ প্রদর্শক। শিক্ষাকে জাতীয় জীবনে ফলপ্রসু এবং কল্যান প্রসু করে তোলার জন্য ছাত্র শিক্ষকের সম্পর্কের সব সময় ঘনিষ্ঠতার পর্যায়ে রাখতে হবে। কিন্তু আমরা বর্তমানে সমাজে কি দেখতে পাই, ছাত্র সমাজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। তারা আজ দিশেহারা, বিভ্রান্ত। জীবনের সঠিক আদর্শ তাদের সামনে না থাকায় জীবনের সঠিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের পরিবর্তে নানাবিধ অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। আজকের তারা স্কুল কলেজের লেখাপড়া ফাকী দিয়ে রাস্তায় বা বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দাড়িয়ে বিশৃংখলা সৃষ্টি করা ছাড়াও মদ, গাঁজা, আফিম, ফেনসিডিল, ইয়াবা সহ বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্য খেয়ে বা পান করে মাতলামী শুরু করছে। অনেকটা বেসামাল হয়ে পড়েছে। বাবা মা কে ও পর্যন্ত গুরুত্ব দেয় না। সম্মান শ্রদ্ধা করেনা। এমনকি বাবা মাকে গালিগালাজ করতে দিধা বোধ করেনা। শিক্ষকদের তো মানেই না। বরং বিভিন্ন ভাষায় হুমকি, এমনকি শিক্ষকদের মারধর করে এবং তারা এখন শিক্ষকদের হত্যা করতেও কুণ্ঠা বোধ করে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তেমন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এর পেছনে নানাবিধ কারণ নিহীত। রাজনৈতিক কারন এবং পেশী শক্তি এর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া অনেক বাবা মা আছেন তাদের সন্তানদের প্রতি তেমন একটা সচেতন না। সন্তান কি করে, কোথায় যাচ্ছে, কাদের সঙ্গে বেড়াচ্ছে, কোন ভাবেই বাবা মা খোঁজ খবর রাখে না। সুতরাং বাবা মায়ের শাসন না থাকার কারনে তারা আজ দুর্দান্ত হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে বাবা মা ই মূলত দায়ী। সুতরাং আমরা স্পষ্ট ভাবে বুঝি শিক্ষকরা বড্ডই অসহায় তাদের কিছু করণীয় নাই। বরং শাসন করতে গেলে উল্টো বাবা মা শিক্ষকদের বিপক্ষে অবস্থান নেয় এবং প্রশাসন তো সাথেই আছে। তাদেরকে শাসন না করে বরং সমাজ বিরোধী কর্ম কান্ডে উৎসাহিত করার কারণে আজকের এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর বিরুদ্ধে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ ভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। হয়তো বা তখন কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। সমাজ ব্যবস্থার আজকের কি হাল যে শিক্ষকের গায়ে হাত ওঠানো হচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে শিক্ষার্থী কখনও সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। একথা বাংলাদেশের প্রত্যেক ছাত্রের মনে রাখা উচিত, বাবা তূল্য শিক্ষককের গায়ে আঘাত করে বা মনে কষ্ট দিয়ে পৃথিবীর কোন ছাত্র বা শিক্ষার্থী বড় হয়েছে ইতিহাসে কোন নজির নেই। এখনও সময় আছে, ছাত্র শিক্ষকের মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টি করে এ সমস্যা দুর করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা অনেক সময় অপরিণত মন নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করে। তাদের মনে শিক্ষা গ্রহনের আকাংখা থাকে প্রবল হয়তোবা। শিক্ষার্থীদের সামনে যদি পরিস্কার ভাবে মহৎ আদর্শ তুলে ধরা যায়, তবে তাদের কাছ থেকে জাতির কল্যাণ কিছুটা আশা করা যায়। তাদের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে শিক্ষকদের। তাদের সংগে খারাপ আচরণ করলে, তাদের সাথে ভাল ব্যবহার না করতে পারলে, তাদের সাহায্যে বা সহযোগিতায় এগিয়ে না আসতে পারলে, তাদের দুর্বব্যহারে শাস্তির ব্যবস্থা না করে আমরা যদি তাদের সাথে সদাচারণ করি নিজেদের হুদয়ের কাছাকাছি আনতে পারি, তখনই সম্ভব হবে তাদের কাছ থেকে ভাল একটা কিছু আশা করা। সর্ব দিক থেকে শিক্ষার্থীর মনে শিক্ষার আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। একটু অতীতে গেলে আমরা দেখি, ছাত্ররা শিক্ষা পেত গুরু গৃহ থেকে। সে সময়ে ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক ছিল প্রকৃতই গুরু শিষ্যের মতো। বর্তমানে সেটা আর নেই। আমরা কেউ কাউকে মানতে নারাজ। এখন বিদ্যালয়ে বা মহাবিদ্যালয়ে যেয়ে শিক্ষা লাভ করতে হয়। প্রতিটি বিষয়ে রয়েছে আলাদা আলাদা শিক্ষক, একজন বেতন দেয় অন্যজন তা গ্রহণ করে। এ ব্যবস্থায় একটা যান্ত্রিকতা ফুটে ওঠা স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। সম্পর্কটা গড়ে যায় অনেকটা দেনা পাওনার ভিতর দিয়ে, তাই সেকাল ও একালের ছাত্র শিক্ষক সম্পর্কের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। শিক্ষা জীবনের ক্ষেত্রে শিক্ষক ছাত্রদের প্রতি তার ব্যবহার, মায়, মততা ও ¯েœহ দিয়ে মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন। পড়া লেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সংগে মেলা মেশার, কথা বার্তা বলার তাদের কথাগুলো শুনার বা বোঝার যথেষ্ট সুযোগ শিক্ষকদের রয়েছে। সে সুযোগের সদ্ব্যবহার সচেতন শিক্ষক মাত্রই করা প্রয়োজন। আবার শিক্ষার্থীদের ও তেমনি শিক্ষকদের প্রতি অনেক কর্তব্য রয়েছে। এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে তারা শুধু শিক্ষার্থীর কাছে শিক্ষকই নন, তাদের নির্ভর যোগ্য পিতৃতূল্য অভিভাবকও, বটে বন্ধুও বটে। পিতা মাতার পর অভিভাবক হিসেবে আন্তরিক ¯েœহ, মায়া, মমতা, ভালোবাসা দেয়ার কেউ যদি থাকেন, সেটা শুধুমাত্র শিক্ষক। শিক্ষার্থীর ব্যবহার, স্বভাব, চরিত্র মূলত, শিক্ষকদের উপদেশ, অনুকরণ, আদেশ এবং পরামর্শেই গড়ে ওঠে। সুতরাং আমরা বলতে পারি, ছাত্রদের ভবিষ্যত জীবন গড়ে তোলার দায়িত্ব অনেকাংশে শিক্ষকদের উপর পড়ে ঠিক শিক্ষার্থীদের পিতা মাতার মতো করে। ভবিষ্যতে ছাত্রদের মধ্যে কেউ কোনভাবে বিখ্যাত হলে পিতার চেয়ে শিক্ষকরাই গর্ববোধ করেন বেশী। ছাত্রদের ও কর্তব্য শিক্ষকদের উপদেশ শোনা এবং পরামর্শ অনুযায়ী লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া। শিক্ষকদের মনে কষ্ট হয়, শিক্ষকরা আঘাত পায়, এমন কিছু ছাত্রদের মোটেই করা উচিত নয়। উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক সুন্দর না হলে শিক্ষার্থীর পক্ষে যথার্থ শিক্ষা লাভ করা একেবারে কঠিন। আর সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হতে পারলে ভবিষ্যত জীবনের সামনে অন্ধকার নেমে আসবে। শিক্ষকদের ও গর্ব করার যৌক্তিকতা থাকবে না । কাজেই ছাত্র শিক্ষকের মধ্যে সুম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম। ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক শ্রদ্ধা ভক্তি বা ¯েœহ প্রীতির সম্পর্ক। আজকাল সেটার অনেক পরিবর্তন। এখনকার ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের তেমন একটা সম্মান শ্রদ্ধা করতে চায় না। উপদেশ বা পরামর্শ ও শুনতে চায় না, মান্য ও করে না। ব্যাপার টা আমাদের জন্য, সমাজের জন্য, পরিবারের জন্য বা গোটা জাতির জন্য দুঃখজনক, কেননা শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা ভক্তি সম্মান ভালোবাসা না থাকলে, ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার জন্য কোন উপযুক্ত ব্যক্তি পাওয়ার আশা করা যায় না। কাজেই শিক্ষকের শ্রদ্ধা করা প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীর নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। যে সমস্ত ছাত্ররা শিক্ষকদের সম্মান শ্রদ্ধা করে না, সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যতবড় ডিগ্রী অর্জন করুক না কেন সে কুশিক্ষিত এবং সে সমাজের কারোর কাছ থেকে শ্রদ্ধা বা সম্মান পাওয়ার উপযুক্ত নয়। শুধু যে এটা শিক্ষার্থীদের জন্য তা নয়, শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ও একই অভিযোগ আসাটা বিচিত্র নয়, শিক্ষকদের মধ্যে ও আদব কায়দা নেই, ব্যক্তিত্বহীন, আদর্শহীন, নীতি নৈতিকতা বর্জিত, দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, বদমেজাজী লোক দেখা যায়। শিক্ষক হলেই যে সম্মান পায় এ কথা ঠিক নয়। শিক্ষকদের ও বিভিন্ন চায়ের টেবিলে, বিভিন্ন দোকান পাটে বসে ধূমপান করা বা আড্ডা মারতে দেখা যায়। আশে পাশের লোক জন এটাকে ভালো চোখে দেখে না। এ জাতীয় শিক্ষকদের কেউ সম্মান করতে চায় না। এমনকি কিছু কিছু শিক্ষক সমাজ বিরোধী অনেক কর্ম কান্ডের সাথে ও জড়িত থাকে। এ শিক্ষক ও কুশিক্ষক হিসেবে পরিচিত। এরা জাতির বিবেক না হয়ে কলঙ্ক হয়ে ওঠে। আবার শ্রেণী কক্ষে অনেক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে ভাল আচরণ করে না, রুঢ় ব্যবহার করে, পাঠ দানে ফাকি ও দেয়। সহসা অনেকেই ক্লাসটা নিতে চায় না বা যতেœর সাথে শ্রেণী কক্ষে দায়িত্ব পালন করে না। প্রাইভেট, টিউশনির দিকে বেশী মনোযোগী হয়, এ ব্যাপারে এক বাক্যে তাদের দায়ী করা যায় না কারন আমাদের দেশে অনেক শিক্ষক আছেন, যারা আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল নয়। সরকারের যে বেতন পান তাতে দেখা যায় একটা মাসের অর্ধেক সময় ও চলে না। অনেক শিক্ষকদের বাড়ি যেয়ে যেয়ে টিউশনি করতে হয়। সে ক্ষেত্রে এ জাতীয় শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে প্রাপ্য সম্মান পান না। এর একমাত্র পরিত্রানের উপায় হলো সরকারের উচিত শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান বৃদ্ধির জন্য তাদের বেতন, ভাতাও বৃদ্ধি করে দেওয়া। যাতে তারা তাদের সন্তানদের নিয়ে স্বাচ্ছন্দে সংসার পরিচালনা করতে কষ্ট না হয়। এবং অবশ্যই শিক্ষকদের টিউশন বা প্রাইভেট পড়ানো অনেকটা কমে যাবে। অন্য দিকে ছাত্র শিক্ষকদের মধ্যে দুঃখ জনক সম্পর্কের জন্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও অনেকটা দায়ী। শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও বিজ্ঞান সম্মত করতে না পারলে সম্পর্কের উন্নতির কথা ভাবা যায় না। এছাড়া আমাদের দেশে রাজনৈতিক কারনেও ছাত্র শিক্ষক সম্পর্কের অবনতি ঘটে থাকে কারণ- সর্বস্তরে রাজনৈতিক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। আবার শিক্ষকরা ও দলীয় ভাবে দুই তিন ভাগে বিভক্ত । অন্যদিকে ছাত্ররা তো আরো বেশী। বিশেষ করে কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়ে নির্বাচনের সময় শিক্ষকরাও রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় নির্বাচন করেন। ফলে ছাত্রদের মধ্যে মারামারি এবং মর্মান্তিক সন্ত্রাসী ঘটনা ও ঘটে। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই জড়িয়ে পড়েন ঐ সমস্ত সন্ত্রাসী ঘটনার সাথে। তাতে ছাত্র শিক্ষক সম্পর্কের অনেক তিক্ততা সৃষ্টি হয়। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গুলোতে রাজনীতি কঠোর হস্তে দমন করা উচিত বলে আমি মনে করি। তা না হলে ছাত্র শিক্ষক সম্পর্কের উন্নতি আশা দুরাশাই থেকে যাবে। আর এটা আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের ছোট ঘন বসতির দেশ বাংলাদেশে মোটেই কল্যান কর নয়। মোর্দ্দা কথা হচ্ছে, শিক্ষক সমাজে আদর্শের প্রতীক, ন্যায়ের প্রতীক, নীতির প্রতীক, ব্যক্তিত্বের প্রতীক, শিক্ষকদের আদর্শের দিকে, সততার দিকে, মূল্য বোধের দিকে গোটা জাতি তাকিয়ে আছে। একমাত্র শিক্ষকরাই পারেন একটি জাতিকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে। শিক্ষকের সঠিক দিক নির্দেশনা শিক্ষার্থীর জীবনকে সুন্দর ও মহৎ করে তুলতে পারে। তাদের সৎ সাহচার্য না পেলে কোন শিক্ষার্থীর জীবন পরিপূর্ণ হতে পারে না। এ জন্য শিক্ষকই পারেন শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তুলে তার বিকাশ ঘটাতে। অন্য পক্ষে যে শিক্ষকের আদর্শ বলে কিছুই নেই, অর্থ উপার্জন করাই একমাত্র লক্ষ্য, তিনি ডাস্টবিনে নিক্ষিপ্ত হবেন। কেহ তাকে শ্রদ্ধা জানাবেন না এটাই সত্য। এহেন অযোগ্য শিক্ষকদের সাহচার্য ছাত্রদের কোন উপকারে আসে না। সমাজে তারা ঘৃনার পাত্র। তাই সমাজ থেকে সুদখোর, ঘুষখোর, দুর্ণীতিবাজ, আদর্শহীন ও চরিত্রহীন শিক্ষকদের বিতাড়িত করার জন্য শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে। এবং এ ব্যাপারে সকল কে সজাগ করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী প্রণয়ন করতে হবে। ক্যাম্পাস হবে জঞ্জাল মুক্ত, দুর্নীতি মুক্ত এবং শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে দক্ষ যোগ্য মেধাবী ও দূর্নীতি মুক্ত শিক্ষকদের দ্বারাই। একজন যোগ্য শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব হবে পুঁথিগত বিদ্যার সাথে সাথে নিজের আদর্শকে ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া এবং বিকাশের চেষ্টা করা, যাতে ছাত্রদের ভবিষ্যত জীবন সুন্দর ভাবে গড়ে উঠতে পারে। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাত্র শিক্ষকের সম্পর্ককে বিচার করেছেন পরস্পর নির্ভরশীল, সৌহার্দমূলক সম্পর্ক হিসেবে। সুতরাং ছাত্র ও শিক্ষক উভয় উভয়ের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। বন্ধুর প্রেম ও পিতার ¯েœহ দিয়ে শিক্ষক ছাত্রদের আপন করে নেবেন। ছাত্ররা ঠিক তেমনি শিক্ষকদের প্রতি ভক্তি এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে। ছাত্র শিক্ষক উভয় উভয়েরই প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করলে দেশের প্রতিটা পরিবারে, সমাজে বা বিভিন্ন অঞ্চলে সুন্দর মনোরম ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে উঠবে। এই সহানুভূতিশীল আদান প্রদান ও ব্যবহারের মধ্যে দিয়েই মধুর সম্পর্ক সফল ও সার্থক হতে পারে ছাত্র শিক্ষকের মধ্যে নির্দিধায় আমরা বলতে পারি- “শিক্ষক ছাত্রকে দেন সব শিক্ষা, ছাত্রের কাজ হলো নেয়া গুরুশিক্ষা।”

লেখকঃ জহিরুল ইসলাম শাহীন
সহঃ অধ্যাপক
বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ
কলারোয়া, সাতক্ষীরা।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ