রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন

অর্থনৈতিক উন্নয়নে দক্ষিণ বঙ্গের টার্নিং পয়েন্ট হবে পদ্মা সেতু

জহিরুল ইসলাম শাহিন / ১১১
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২

বাংলাদেশের দক্ষিন অঞ্চলের বিশেষ করে দক্ষিণ বঙ্গের ২১টি জেলা অর্থনৈতিক উন্নয়নে সামাজিক উন্নয়নে এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেশের পূর্বাঞ্চল উত্তর অঞ্চল ও মধ্য অঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে আছে সেই বৃটিশ আমল থেকে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হবার পর ও উন্নয়নে ছোয়া পদ্মার এ পারের মানুষের উপর বিন্দু মাত্র পড়েনি। সাতক্ষীরা বা খুলনা এবং বরিশাল অঞ্চল থেকে ঢাকায় যাওয়ার বা দেশের উত্তরাঞ্চলে ভ্রমন করা একে বারেই অসম্ভব ছিল। কিন্তু আশি এবং নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে এসে আমরা দেখলাম, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ তার রাজনৈতিক গঠনতন্ত্রে আনেকটা পরিবর্তন, পরিধর্বন, সংযোন ও পরিমার্জন এনেছিলেন দেশের সকল প্রান্তে সফল উন্নয়নের জন্য । যদিও তিনি সৈরতান্ত্রিক যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা ছিনতাই করেছিলেন কিন্তু আমি তাকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারছি না, কারণ একটি দেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে ভাবলে যে কাজ গুলো গুরুত্বপূর্ণ বা আশু প্রয়োজন সে গুলোর মধ্যে তিনি অনেক কাজই করেছিলেন। যেমন দেশের সকল মহাকুমা গুলোকে জেলায় রুপান্তরিত করা, প্রত্যেকটা থানা কে উপজেলায় উন্নীত করা এবং পল্লী অঞ্চলের গ্রাম গুলোকে গুচ্ছ গ্রাম, আদর্শ গ্রামে রুপান্তরিত করা প্রতিটা ইউনিয়নে, একটি করে মাতৃ সদন বা ক্লিনিক স্থাপন করা এবং এক কথায় যেটা বুঝায় সেটা হচ্ছে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীয় করণ করা। এই সমস্ত প্রকল্প গুলো অবশ্যই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরপর স্বৈরশাসকের পতনের পর রাজনীতিতে নতুন ভাবে চলার পথ সুগম হলো। বিশেষ করে দেশের ক্লান্তি লগ্নে দুইটি বড়দল মুক্তিযোদ্ধার পক্ষের এবং স্বাধীনতার নেতৃত্ব দানকারী রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা, জাতির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কারী এবং সোনার বাংলার রুপকার জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও অদমনীয় নেতৃত্বে অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং তদকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গড়া বহুদলীয় গনতন্ত্রে নির্মিত দল বাংলাদেশ জাতীয়তা বাদী দল (বি,এন,পি) বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং দুই দলের রাজনৈতিক ম্যানুফেষ্টে দক্ষিন বঙ্গে কিছুটা উন্নতির ছোয়া পেতে শুরু করে। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় সেটা হচ্ছে দক্ষিণ বঙ্গের সাথে রাজধানী ঢাকা এং বন্দর নগরী ও শিল্প নগরী চট্রগ্রামের সাথে সড়ক ও নদী পথে যোগাযোগ স্থাপন করা। আমরা সবাই জানি দক্ষিন বঙ্গের সাথে রাজধানী ঢাকায় যোগাযোগের মধ্যে সর্ব প্রথম যিনি যমুনা নদীর উপর সেতু নির্মানের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি হচ্ছেন জাতির পিতা ও প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং পরিশেষে যমুনা সেতু নির্মানের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ বঙ্গের জনগণ উত্তর বঙ্গ এবং রাজধানীর সাথে স্বপ্নের যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। এরপর আমরা আসি দক্ষিণ বঙ্গের ২১টি জেলার মানুষের প্রাণের দাবী পদ্মা সেতু যার মাধ্যমে মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। সারা বাংলাদেশ অর্থাৎ এখন প্রায় আঠারো কোটি জনগণের হাতের মুঠোয়, ইচ্ছা করলেই এখন সাতক্ষীরা খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার জনগন সকালে উঠেই ঢাকা যেতে পারবে এবং সন্ধ্যার মধ্যে ঘরে ফিরতে পারবে এ যেন এক অনাবিল শান্তি এবং স্বপ্ন, কখনোই আমরা ধারণা করতে পারিনি যে অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম সেতু গুলোই সংঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছোট ঘন জনবসতির বাংলাদেশ অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক এবং অদম্য প্রচেষ্টা ও সাহসের কারনেই সকল রাজনৈতিক ও আন্তজাতিক মহলের ষড়যন্ত্রের বীজ রুখে দিয়ে এবং সকল বাধাকে অতিক্রম করে এই অসম্ভব কাজ কে সম্ভব করা সম্পূন্ন হয়েছে। তাকে সাতক্ষীরা জেলার পক্ষ থেকে জানাই রক্তিম অভিনন্দন, ফুলেল শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ। নেতৃত্বে ইস্পাত কঠিন প্রত্যয় ও দৃঢ়তা এবং একাগ্রতা ও সততা থাকলেই সম্ভব করা যায় অসম্ভবকে। শুধুমাত্র বর্তমান প্রধানন্ত্রী ও বাংলাদেশের উদ্ধত উচ্চারণ শেখ হাসিনার দ্বারাই সেটা সম্ভব। পদ্মা সেতুর ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের একটু হলেও ধারণা থাকা দরকার। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ নদী পদ্মার ক্ষর¯্রােত, ভয়ংকর তান্ডবলীলা, হঠাৎ করে অগ্নিরুপ ধারণা এবং যৌবনের উন্মাদনায় মত্ত¡ গভীর এবং চওড়া পদ্মা নদীর উপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা যুক্ত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর ও পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটেছে। আমরা সবাই অত্যন্ত উৎফুল্ল এবং খুশি ও আনন্দে আত্মহারা যে চলতি মাসের এবং চলতি বছরের ২৫শে জুন পদ্মা নদীর উপর বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সেতুর ৬.১৫ কিঃমিঃ দীর্ঘ উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে। বাংলাদেশের মত একটি ছোট বনজ পাহাড়ী এবং স্বল্প উন্নত দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে এর ইতিহাসের একটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মান প্রকল্প। দুই স্তর বিশিষ্ট ষ্টীল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির উপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নীচের স্তরটিতে থাকবে একটি একক রেল পথ। পদ্মা ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা নদীর অববাহিকার ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্পাম ইতিমধ্যে বসানো সম্পন্ন হয়েছে। ৬.১৫০কিঃমিঃ দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মিত হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় সেতু। পদ্মা সেতু নির্মানকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না, মেজর ব্রীজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী ইতি মধ্যে জানিয়েছে পদ্মা সেতু যান চলাচলের উপযোগী হতে ২০২২ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত লেগে যাবে। অথ্যাৎ এর মধ্যে পদ্মা সেতুর যান চলা চলের সমগ্র কার্য সম্পন্ন হয়েছে। ২৫ শে জুন উদ্বোধন করতে পিছনে আর তেমন কোন সমস্যা রইলো না, পদ্মা সেতু প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরেই এখন সব ব্যস্ততা। প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশ সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা সেতু এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন। টুক টাক কোন কাজ যদি এখনো বাকী থাকে সেগুলো ১৫ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এমন নির্দেশনা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দিয়েছেন। সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন দুই পাড়ে আ্যম্বুলেন্সের ব্যবস্থা থাকবে। জরুরী স্বাস্থ্য সেবার প্রয়োজন হলে দুই পাড়েই পদ্মা সেতু প্রকল্পের অধীন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের জন্য তৈরি করা পূনর্বাসন এলাকার পাঁচটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র ব্যবহার করা হবে। সেতু নির্মানের স্বপ্নটা ছিল মূলত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারণ তিনিই পদ্মার অপর পারের অর্থাৎ দক্ষিণ বঙ্গের জনগণের মনের কথা বোঝেন। তিনি জানতেন দক্ষিণ বঙ্গের জনগন দেশের অনেক উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড থেকে বঞ্চিত, রাজধানী ঢাকাতে যাওয়া, উত্তরাঞ্চলে ভ্রমণ করা এবং এমনকি দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের মানুষের সংগে যোগাযোগ রাখা যেন একেবারে অসম্ভব। তাই জাতির জনকের অসম্পূর্ন স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য কাধে দায়িত্ব নিয়ে অসম্ভব কার্য বাস্তবায়ন করলেন তারই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। সমগ্র বিশ্বকে অবাক করে দিলেন। অনেকেই হয়তো ভেবে ছিলেন আন্তর্জাতিক চক্রের ষড়যন্ত্রের কারনে তিনি কাজটি বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। কিন্তু সব কিছু উপেক্ষা করে অত্যন্ত আত্ম বিশ্বাস ও দৃঢ় প্রত্যয়ের ভিতর দিয়ে তিনি আত্মার সাথে বৃহত্তর সেতুর মাধ্যমে সেতুর বন্ধন সৃষ্টি করে দিলেন দুই প্রান্তের দুইিটি জেলার অর্থাৎ মুন্সীগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলার জনগনের হৃদয়ের সাথে। “সাবাস! শেখ হাসিনা এগিয়ে যাও সামনের দিকে। আরও বড় বড় মেগা প্রকল্প নিয়ে জনগন তাকিয়ে আছে তোমার দিকে। কখনও তুমি নেত্রী হয়ে, কখনও অভিভাবক হয়ে, কখনও কারোর বোন হয়ে এবং সর্বোপরি মাতা হয়ে দায়িত্ব নিয়েছো কাঁধে। তুমি কখনও ব্যর্থ না। সর্বদাই সফল।” ঋণ প্রস্তাব বাতিল করেছে বিশ্বব্যাংক, দূর্নীতির অভিযোগ দিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। ছিলো দেশে বিদেশে সমালোচনা এসবের পাশাপাশি ছিল প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জও । প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনেকে উপহাস করেছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয় বিশ্বের অন্যতম খর¯্রােতা নদী পদ্মা এবং এই নদীর তলদেশে মাটির স্তরের গঠন নিয়েও ছিল জটিলতা। তবে এত জটিলতার বিপরীতে ছিলেন একজন মাত্র স্ট্রেইট ফরওয়ার্ড অর্থাৎ স্ট্রেট ম্যান তিনি আর কেই নন বাংলার আকাশের রক্তিম প্রতীক উজ্জল নক্ষত্র আমাদের প্রাণ প্রিয় নেত্রী, জনগনের আকাঙ্খার প্রতীক, উন্নয়নের রোল মডেল মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। উজ্জল নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত বহুমুখী পদ্মা সেতু ছিল তার নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকা আত্ম বিশ্বাসী শেখ হাসিন। বাস্তবায়ন করেছে তার বাবার স্বপ্ন, তার স্বপ্নই দক্ষিণ বঙ্গের মানুষের স্বপ্ন এবং বাংলার জনগণের স্বপ্ন ও চ্যালেঞ্জের বাস্তবায়ন। দেশের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এই সেতু শুধুমাত্র আমাদের জন্য একটি অবকাঠামো নয়। এটা দেশের মানুষের কাছে সক্ষমতার প্রতীক, আত্মমর্যাদার প্রতীক, গৌরবের প্রতীক, অহংকারের ও সম্মানের প্রতীক। আত্ম মর্যাদা সম্পন্ন জাতি বাঙালি জাতির গর্বের আরেকটি নতুন সংযোজন পদ্মা সেতু। ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইস্তেহারে যমুনা, বুড়িগঙ্গা, কর্ণফুলী ও শীত লক্ষ্যার উপরে সেতু নির্মানের প্রতিশ্রæতি দিলেও, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু পদ্মানদীর উপর সেতু নির্মানের ঘোষনা দেন। কিন্তু ৭৫ এ নির্মম ট্রাজেডির পর পদ্মা সেতুর স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। কিন্তু ঠিকই তার যোগ্য কন্যা সেই স্বপ্ন কে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। অযাচিত কারনে বিশ্ব ব্যাংক, এডিপি, জাইকা এবং আইডিবির মত উন্নয়ন সহযোগীরা সাহায্য করা থেকে সরে দাড়ালেও মাত্র এক সপ্তাহে ২০১২ সালের ৮ই জুলাই প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মানের ঘোষনা দেন। পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০১০ সালে বিশ্ব ব্যাংক নিজের তদন্ত শুরু করে এবং তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই তারা কানাডা পুলিশকে সেদেশের এসএনসি, লাভালিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। পাঁচ বছরের বেশী সময় ধরে বিচার প্রক্রিয়া শেষে কানাডার একটি আদালত ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রæয়ারি সেই দুর্ণীতির অভিযোগ দায়ের করা মামলা খারিজ করে দেয়। আদালত রায়ে বলেন এই মামলায় যে সব তথ্য দেওয়া হয়েছে সেটা অনুমান ভিত্তিক, গালগল্প এবং গুজব। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের তিন কর্মকর্তাকে অব্যাহতি সহ পুরো মামলাটি খারিজ করে দেন বিজ্ঞ আদালত। সেই সময় বাংলাদেশ আবারো দাবী করে দুর্নীতি নয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে ওই অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে শুরু হয় মুল সেতুর কাজ, সংগে স্বপ্ন বাস্তবায়নেরও। তখন অনেকেই এটাকে ডেড্রিম বা ইমপোসিবল বলেও মন্তব্য করেন। অনেকেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মানে ভায়েবল নয় বলেও মন্তব্য করেন। কিন্তু কোন কিছুই শেখ হাসিনাকে দুর্বল করতে পারেনি- বা তার জায়গা থেকে সরাতে পারেনি। পারেনি তাকে কেউ দমাতে বা দাবিয়ে রাখতে। তিনি আরও গর্জে উঠলেন। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধান মন্ত্রী মূল সেতুর নির্মান কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তিনি সেই দিন বলেছিলেন বড় কাজ করতে গেলে হাত পাততে হবে। এ মানসিকতা ভাঙতেই নিজস্ব অর্থায়নে দেশের সবচেয়ে এই বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। “আমি চেয়েছিলাম আমরা পারি, আমরা তা করে দেখাবো। আজ আমরা সেই দিনটিতে এসে পৌঁছেছি। বাঙালি জাতি কারও কাছে মাথা নত করেনি, করবেও না।” পরবর্তীতে সব কিছু মোকাবেলা করে মাওয়া আর জাজিরাকে সংযুক্ত করে ৪২টি পিলারের উপর দাড়িয়ে আছে ৬.১৫ কি: মি: পদ্মা সেতু। এতদিন স্বপ্নের সেতু বলা হলেও আজ সেটা বাস্তব সত্য। এই বহুমুখী সংযোগ সেতু দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের একুশটা জেলার মানুষের ভাগ্য বদলে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের মাইল ফলক হিসাবে ইতিহাস সৃষ্টি করলো। রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশের সঙ্গে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। পিছিয়ে পড়া জন-গোষ্ঠীর এ অঞ্চলে আসবে বিনিয়োগও হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ, অর্থনীতিতে আসবে গতি, বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে এত সমস্যা মোকাবিলা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মানের স্বপ্ন দেখা এবং সেটার বাস্তবায়নের জন্য হাজার হাজার জনগনের পক্ষ থেকে স্যালুট শেখ হাসিনার প্রাপ্য। পরিশেষে বিশ্ব নেত্রী, জনতার নেত্রী দেশ দরদী, মানবতার জননীর কাছে তথা বর্তমান সরকারের এবং বিভিন্ন প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে দক্ষিণ বঙ্গের জনগনের কাছে আর একটি প্রানের দাবি যদি আরিচা দৌলতদিয়া ঘাটে রাজবাড়ী জেলার সাথে মানিকগঞ্জ জেলার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধির লক্ষে আরেকটি বহুমুখী সেতু স্থাপন করা যায় তবে দক্ষিণ পশ্চিম ও উত্তর বঙ্গের মানুষের সাথে সারা দেশের মানুষের যোগাযোগ যাতায়াত ব্যবস্থা, ব্যবসা বানিজ্যের প্রসারতা, শিল্পে, কৃষিতে ও মৎস্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবাধ সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং সমগ্র বাঙালী জনতার এবং বাংলাদেশের শেষ স্বপ্ন পূরন হবে। আর কোন কিছু বাকী থাকবে না। তাই আসুন সবাই মিলে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করি এবং বাংলাদেশ সারা বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল হোক এটাই আমরা কামনা করি। সাবাস বাংলাদেশ ঐ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।

লেখকঃ জহিরুল ইসলাম শাহিন
সহকারী অধ্যাপক
বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ
কলারোয়া, সাতক্ষীরা।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ