HEADLINE
১৯ নারী ৩ বছর পর বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশে ফেরত পুজামন্ডপ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ভাংচুরের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন পাটকেলঘাটায় যাত্রীবাহি বাস খাদে পড়ে সুপার ভাইজার নিহত : আহত ১০ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী আজ দীর্ঘ ১০ বছর পর অবশেষে সাতক্ষীরার নিউ মার্কেট’র জমির মামলার রায় দিল আদালত সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগের সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা আশাশুনির ৩ ইউনিয়নের ১০ হাজার পরিবার আবারও পানি বন্দী শ্যামনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মা ছেলে আহত সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সম্প্রীতি রক্ষা দিবস পালিত মথুরাপুরের জয়নাল বেকারীতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাবার
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন

একজন চাইনিজ বাড়িওয়ালার গল্প

রিপোটারের নাম / ৬৯
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

প্রায় আড়াই বছর আগের কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী চীনে পরিবার নিয়ে আসার আগে ক্যাম্পাসের বাইরে বাসা নিই। কেননা, ইন্টারন্যাশনাল ডরমেটরিতে স্ব-স্ত্রীক কিছুদিন থাকা গেলেও বাচ্চা নিয়ে থাকার নিয়ম নেই। তাই ক্যাম্পাসের বাইরে বাসা নিয়ে দুইমাসের গরমের ছুটিতে দেশে যাওয়া। ছুটি কাটিয়ে দেশ থেকে অন্তু (আমার মেয়ে) ও ওর মাকে নিয়ে চীনে ফিরলাম। প্রায় দুইদিনের যাত্রার ইতি টেনে যখন বাসায় পৌঁছালাম তখন ক্লান্তিতে সবার নাজেহাল অবস্থা। রুমের চাবি খুলে ভিতরে প্রবেশ করতেই আমার স্ত্রী’র দীর্ঘশ্বাস, আর অন্তু বাসার মেঝেতেই বসে পড়ল। অন্তু প্রথম দেখাতেই বলে এ বাসায় ও থাকবেনা। কারন, বাসা তাদের মনোগত হইনি। বাসাটা অতটা আধুনিক ছিলনা সেটা আমি ভাড়া নেওয়ার আগেও তাদেরকে ভিডিও করে দেখিয়েছিলাম। কিন্তু দেশে যাওয়ার আগে সময়ের স্বল্পতার কারনে তাড়াহুড়োর ভিতরে এর থেকে সুন্দর বাসা ম্যানেজ করা আমার পক্ষে কষ্টকর ছিল। কেননা, চীনা ভাষার দক্ষতা ছাড়া চীনাদের সাথে যোগাযোগ বেশ কঠিন। তাছাড়া বিদেশী দেখলে অনেক চীনারা বাসা ভাড়া দিতে চায়না। বিদেশী ভাড়াটিয়াদের সাথে শুধুমাত্র কমিউনিকেশনের সমস্যা ভেবে বাড়ী ওয়ালারা পিছিয়ে আসে। আমার ক্ষেত্রে ও তেমনটা হয়েছিল। তবে সেক্ষেত্রে এখানকার মেডিকেলের ছাত্র ‘হাসান’ অনেক বেশি সাহায্য করেছিল। হাসানের সাথে দুই তিন দিন খোঁজ করার পরে বর্তমান এই বাসাটির সন্ধান পেয়েছিলাম।

৭৫ বর্গমিটার আয়তনের বাসাটির দুই বেড রুম, দুই পাশে দুই বারান্দা, কিচেন, টয়লেট, ডাইনিং ড্রয়ং সবই আছে। একটু পুরানো গোছের হলেও বাসার সকল আসবাপ পত্র যেমনঃ দুই রুমেই বেড, এয়ার কান্ডিশন, টিভি, আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, ডাইনিং টেবিল, চেয়ার, রান্নাঘরের সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা আছে। শুধু সমস্যাটা হল ফ্লোরে টাইলস নেই। আমরা ঢাকায় যে বাসায় ছিলাম সেটি বেশ আধুনিক ছিল। কিন্তু বিদেশে এসে তার চেয়ে নিন্ম মানের অর্থাৎ মেঝেতে টাইলস ছাড়া বাসায় থাকতে হবে বিষয়টা মেনে নিতে আমাদের সবারই একটু কষ্ট হচ্ছিল। তার পরেও একটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই মালিকের সাথে সবকিছু চূড়ান্ত করেছিলাম। আমার ল্যাব থেকে বাসাটা এতটাই কাছে ছিল যে পায়ে হেঁটে ৩ মিনিটে বাসায় যাতায়াত করা যায়। আমাদের কমিউনিটিটা ও অতটা আধুনিক না। ইচ্ছা করলেও এর থেকে আধুনিক বাসা আমাদের কমিউনিটির ভিতরে মেলানো একটু কষ্টকর। কমিউনিটির ভিতরে সব বাসায় এমন আবার কিছু কিছু বাসার অবস্থা খুবই নাজেহাল। সবদিকে চিন্তা করে মালিক কে দুইমাসের ভাড়া অগ্রিম পরিশোধ করে দুই বছরের জন্য বাসা কনফার্ম করলাম। মালিক এক অক্ষর ও ইংরেজি জানেনা। তার সাথে সকল দেন দরবারে হাসান সাহায্য করেছিল। দুই বছরের মধ্যে দ্বিতীয় বছর নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে প্রতি মাসে ১০০ ইউয়ান (প্রায় ১৪০০ টাকা) করে বাড়তি ভাড়া দিতে হবে এমনটা ও আমাদের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর হয়েছিল।

যাইহোক, অন্তু এবং ওর মাকে সেদিনের মত আস্বস্ত করলাম এই বলে যে ‘অল্প দিনের ভিতরেই সুন্দর একটা বাসা খোঁজ করে আমরা সেখানে শিফট করব’। রাত কাটিয়ে পরের দিন পুলিশ প্রতিবেদন নিতে পাশের পুলিশ স্টেশনে গেলাম। সবাই অনেক ক্লান্ত শরীর নিয়ে পায়ে হেঁটে প্রায় ৪ কি.মি. রাস্তা পাড়ি দিয়ে পুলিশ স্টেশনে পৌঁছাই। পুলিশ স্টেশনটি আমাদের পাশের অন্য একটি বিশ্ববদ্যালয়ের ভিতরে একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত। নিজের ই-বাইক টা রেখে গিয়েছিলাম আমাদের অন্য ক্যাম্পাসে। যেটা বাসা থেকে প্রায় ১০ কি.মি. দূরে। তাই পায়ে হেঁটে যাওয়া ছাড়া কোন সহজ বাহন আমার জানা ছিলনা। এদিকে, চীনে পৌঁছানোর ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পুলিশ স্টেশনে রিপোর্ট না করতে পারলে পরবর্তীতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই সকাল হতেই কাল বিলম্ব না করে পুলিশ স্টেশনে পৌঁছালাম। সেখানে গিয়ে একটু বিপদেই পড়লাম বলা যায়। ওখানে দায়িত্বরতদের সাথে কমিউনিকেশনে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। অনেক কষ্টে নিজেদের প্রয়োজন তাদের বুঝাতে সক্ষম হলাম। কিন্তু তারা আমাকে কি বলল কিছুই বুঝলাম না। প্রায় ১৫-২০ মিনিট বসে আছি। কোনরকম সাড়া শব্দ নেই। স্বভাবত চাইনিজ কোন অফিসে গেলে পূর্বে কখনো বসে থাকা লাগেনি। চীনা ভাষার দক্ষতা না থাকলেও কাগজ পত্র ঠিকঠাক থাকলে এদের সেবা পেতে কখনো কোন সমস্যা পোহাতে হইনি। পুলিশ স্টেশনে থাকা কর্তব্যরত মহিলা বার বার হাতের ইঙ্গিত দিয়ে কি বুঝাতে চাইছে। কিন্তু পরিস্কার বুঝতে পারছি না। কিন্তু এটা বুঝতে পারছি, হবেনা তারা একবার ও বলেনি। বারবার আমাদের বসে থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রায় আধা ঘন্টা পরে দেখলাম আমাদের বাসার মালিক সেখানে গিয়ে হাজির। এতক্ষনে বুঝলাম পুলিশ মহিলা এটাই বোঝাতে চাইছিল যে বাসার মালিক ছাড়া পুলিশি প্রতিবেদন দেওয়া হবেনা। আপনারা অপেক্ষা করেন। উনি আসতেছে। মালিক আসার দুই মিনিটের মাথায় আমরা পুলিশ প্রতিবেদন পেয়ে গেলাম।

মালিক আমার উইচ্যাটে মেসেজ দিয়ে জানাল তোমাদের বাসায় পৌঁছানোর কোন ব্যবস্থা না থাকলে আমার গাড়িতে চল। আমরা একটু হলেও শান্তি পেলাম। কেননা, বাচ্চাটার সাথে আমারাও বেশ কষ্ট পাচ্ছিলাম এই দীর্ঘপথ আবার পায়ে হেঁটে ফিরতে হবে ভেবে। যাইহোক, এক্ষেত্রে মালিকের গাড়ী করে আমরা বাসায় পৌঁছালাম। সবার জন্য প্রথম প্রথম বাসায় খাপ খাওয়ানোটা একটু কষ্ট হলেও সবাই মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলাম। ভালোই চলতে লাগল চীনের আমাদের নতুন সংসার। স্বভাবতই মালিকের উই-চ্যাটে প্রতিমাসের এক তারিখে সেই মাসের বাসা ভাড়া, গত মাসের বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল এগুলো মিটিয়ে দিই। বিদ্যুৎ ও পানির বিল উনি নিজ থেকে পরিশোধ করে আমাকে মোবাইলে স্ক্রিন শট পাঠালে আমি তাৎক্ষণিক ভাবে ওনার উইচ্যাটে সমপরিমান অর্থ ট্রান্সফার করি। নিজেদের মধ্যে বাড়তি কোনরকম কথাবার্তা ছাড়া এভাবেই আমাদের চলতে থাকে মাসের পর মাস।

সবকিছু ভালোই ভালোই এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেল। চুক্তি অনুযায়ী এক বছর পরেই বাড়তি ভাড়া হিসেবে ১০০ ইউয়ান দেওয়ার কথা ছিল। সে মাসের ভাড়া দেওয়ার আগেই মালিক নিজ থেকে বললেন যেটা ভাড়া দিচ্ছেন ওটা দিলেই হবে। অর্থাৎ বাড়তি ভাড়া দেওয়া লাগবেনা। মালিকের এমন মনোভাব দেখে চীনাদের প্রতি নিজেদের ভালোবাসা বহুগুনে বেড়ে গেল। তিনি হয়ত ভেবেছিলেন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর কারনে বাড়তি ভাড়া নেওয়াটা ঠিক হবেনা। যাইহোক, প্রতিমাসে আগের সমপরিমান ভাড়া দিয়ে আমরা আর ও এক বছর পার করলাম। গেল জুলাইয়ে আমাদের দুই বছরের চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। নিয়মানুযায়ী একমাস আগেই (গেল জুনে) মালিক কে জানালাম আমরা জুলাইয়ের পরে বাসা ছেড়ে দেব। কারন হিসেবে বললাম আমরা আরও একটু সাশ্রয়ী বাসা খুঁজছি। মালিক বলল ঠিক আছে।

নতুন বাসা খোঁজার উদ্দেশ্যে আমার ল্যাব মেট বেশ সাহায্য করল। আমাদের একই কমিউনিটিতে ল্যাবমেট আর আমি মিলে বেশ কয়েকটি বাসা দেখলাম। পেয়েও গেলাম কয়েকটি। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে বেশীর ভাগ বাসা ছিল আমাদের বর্তমান বাসার চেয়ে বেহাল অবস্থা আবার ভাড়ার পরিমান ও বেশ বেশি। এসবের জন্য বেশ কিছু কারন ল্যাবমেট আমাকে ব্যাখ্যা করল। আমাদের বসবাসের কমিউনিটি টা বলা যায় শহরের একেবারে শেষ প্রান্তেই অবস্থিত এবং আশপাশে তেমন কোন কমিউনিটি নেই। যদিও বর্তমানে বেশ কিছু আধুনিক কমিউনিটি তৈরি হচ্ছে। এখানে বহু বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত। সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্টাফ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত দোকান বা ক্যান্টিন মালিকেরা সবাই এই কমিউনিটিকে বেছে নেয় বসবাসের জন্য। তাই ভাড়া বেশি হলেও কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সুবিধার্থে এই কমিউনিটিটাই তাদের সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত।

অনেক খোঁজাখুঁজির পরে নিজেদের সাধ্যের মধ্যে একটি সুন্দর বাসা পেলাম। বাসাটি বেশ আধুনিক করা হয়েছে। প্রথম দেখায় যেকারও ভালো লাগার কথা। কিন্তু আয়তনে আমাদের বাসার অর্ধেক। বাসার মালিক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাফ। আমি ও আমার ল্যাবমেট ও পছন্দ করে ফেললাম। এরপর বাসায় কল করলাম। অন্তু ও ওর মা গিয়ে দেখল। অন্তু সুন্দর টাইলসকৃত বাসা পেয়ে সে মহাখুশি। আমরা কাল আমাদের সিদ্ধান্ত জানাব বলে চলে এলাম।

এরপর বাসায় আসতে আসতে চিন্তা করলাম। ওই বাসায় কি আমাদের জন্য আদৌ ভালো হবে। খুবই ছোট একটি বাসা আবার ভাড়া আমাদের বর্তমান বাসার চেয়ে ২০০ ইউয়ান বেশি। হতে পারে আধুনিক কিন্তু বর্তমান বাসার মতো আলো বাতাসের তেমন ব্যবস্থা নেই। অন্তুর কাছে প্রথমে শুনলাম তুমি কি নতুন বাসায় যেতে চাও। কেন জানিনা সে আগে পিছে না ভেবেই একবারেই না বলে দিল। কারন হিসেবে শুনলে সে বলে বাসা ওর পছন্দ হইনি। কেননা, বাসায় ওর খেলার জায়গা নেই। বেলকনি নেই। জানালা দিয়ে রাস্তা দেখা যায়না। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের সামনে যে মাঠ টা আছে সেটা দেখা যায়না। অন্তু প্রতিদনি বিকেলে বেলকনিতে গিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে তার খেলার সাথীরা মাঠে আসছে কিনা। এরপর যখনই দেখে খেলার সাথীরা আসছে তখনই সে বের হয়ে পড়ে। তাদের সাথে খেলে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরে। তারপরে আরও একটা কারন দেখাল। বাসার অন্য পাশের বেলকনিতে সে বৃষ্টির দিনে বসে বসে বৃষ্টি দেখে আর খাবার খায়, নাস্তা করে, ভাত খায় এগুলো সে ওই বাসায় পাবেনা। আমি তখন বললাম তুমিই তো প্রথম দিন এসে বাসা পছন্দ হইনি বলেছিলে। তার জন্যই তো বাসা নতুন খোঁজা। উত্তরে অন্তু বলে তখন ভালো লাগেনি কিন্তু এখন আমার এই বাসা পছন্দ। আমি কোথাও যাবনা এই বাসা ছেড়ে। আমরা ও একরকম অন্তুর কথা চিন্তা করে বাসা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসলাম।

এখন মালিককে জানানোর পালা যে আমরা বাসা ছাড়ছিনা। কিন্তু প্রথমে এ বিষয়ে আমার সুপারভাইজারের সাথে কথা বললাম। সুপারভাইজার বন্ধুর মত আমাকে সবকিছুতেই সাহায্য করে তাই ওনাকে এসব বিষয় জানাতে ভুল করিনা। উনি ও একই কথা বললেন। বাসা পরিবর্তন না করার জন্য। উনি বললেন তোমার বাসার মালিকের নাম্বার দাও আমি ওনাকে বিস্তারিত জানাচ্ছি। আমি ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে একটু চিন্তিত ছিলাম। কেননা, গেল বছর ভাড়া না বাড়ালেও এবার আর উপায় নেই। যাইহোক, সুপারভাইজার ফোন দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথা বললেন। পরে আমাকে বললেন ভাড়া বেশি দেওয়া লাগবেনা। সব আগের মতই থাকবে। তোমরা নিশ্চিন্তে থাকতে পার। আমি একটু অবাকই হলাম মালিকের উদারতা দেখে। কেননা আমাদের বসবাসের কমিউনিটিতে বাসা কখনো খালি পড়ে আছে শোনা যায়নি। বাসা খালি হওয়ার নোটিশ টাঙানোর সাথে সাথেই ভাড়া হয়ে যায়। পূর্ব হতে এ বিষয়টি জানলেও গেল কিছুদিন আগে নতুন বাসা নেওয়ার ব্যাপারে ল্যাব মেটের সাথে একটু ঘোরাঘুরিতেই সেটা ভালো ভাবে বুঝেছি। তাই মালিকের অতিরিক্ত ভাড়া দাবী না করাটা আমাদের প্রতি ওনার উদারতা ছাড়াই আর কিছুই ভেবে পেলাম না। এছাড়া ও চীনে থাকার সময়ে করোনা মহামারীর কারনে বেশ কিছু ফরমালাটি সম্পন্ন করতে হয়েছে। বর্তমানে ও আমাদের প্রদেশে নতুন কিছু করোনা রুগী সনাক্ত হওয়ায় প্রশাসনের তৎপরতা বেশ বেড়ে গেছে। এসবের সবগুলোতেই মালিক আমাদের বহুগুনে সহায়তা করেছে। ভাষা না বুঝলেও ওনার ভিতরে আমাদের ব্যাপারে যে পজেটিভ মনোভাব সেটা চীনাদের প্রতি আমাদের ভালবাসাকে অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। বাসার চুক্তিপত্রে ১ বছর পরে থেকে বাড়তি ভাড়া নিজ থেকেই দেওয়া লাগবেনা বলে দেয়। এছাড়াও ছোটখাট অনেক সুবিধায় মালিকের থেকে অহরহ পেয়ে থাকি।

মালিক আমাদের পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা। বয়স ৪০ বছরের আশপাশে হবে। বেশ সৌখিন একজন লোক। কাঠ খোদাই করে বেশ বড় বড় দৃষ্টি নন্দন ভাস্কর্য বানানোর ব্যবসা আছে ওনার। প্রায়ই দিন সকাল সন্ধ্যা ওনার সাথে দেখা হয়। হাঁটতে গেলে দেখা হয়। দেখা মাত্রই হাত নেড়ে হাই হেল ইঙ্গিত করে। শুধুমাত্র ভাষা বোঝাতে পারিনা সেজন্য কথা বলতে পারিনা ঠিকই কিন্তু এটুকু বুঝতে পারি অনেক বেশি স্নেহ করে আমাদের সকলকে। যার আশ্রয়ে আমাদের চীনের প্রতিটি দিন নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে চলে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে ভাবি আমাদের দেশের বাড়িওয়ালা গুলো যদি হত তাহলে ভাড়াটিয়াদের অনেকেই অযথা হয়রানীর থেকে রেহাই পেত।

লেখকঃ

অজয় কান্তি মন্ডল,

গবেষক,

ফুজিয়ান এগ্রিকালচার এন্ড ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটি,

ফুজো, ফুজিয়ান, চীন।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ