HEADLINE
সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বীমা দিবস পালিত ছাত্র রাজনীতি এখন কোন দিকে ছওয়াব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ”আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যাকাতের ভূমিকা” শীর্ষক সেমিনার ঝাউডাঙ্গা ভূমি অফিসের তহসিলদারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ দাঁতভাঙা বিলে মৎস্য ঘের থেকে অজ্ঞাত নারীর লা’শ উদ্ধার মুখে মাস্ক পরে দেবহাটায় একরাতে ৪টি দোকানে চুরি ভাগ্য খুলতে পারে খুলনা জেলা ছাত্রলীগের! স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সাতক্ষীরায় বেসরকারি ক্লিনিকে অভিযানে ভুয়া চিকিৎসকসহ দু’জনের কারাদণ্ড সাতক্ষীরা হার্ট ফাউন্ডেশনে সেবিকার কর্তব্য অবহেলায় বৃদ্ধার মৃ’ত্যুর অভিযোগ
শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন

বড্ডালের হাটঃ একটি প্রাচীন অতীত

জাকির হোসেন রাজু / ২৯৫
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৩

আপনি ধরেন কারো পায়ে পাড়া দিলেন, আমার এলাকায় অবশ্যই আপনাকে শুনতে হবে “বড্ডালের হাটে যাসনি”? বড্ডালের হাট এর সত্যিকারের নাম হচ্ছে বড়দালের হাট, আমি আমার ৩০ বছরের জীবনে এই হাটের নাম শত শত বার শুনলেও যাওয়া হয়ে ওঠেনি সেখানে। এবারের লম্বা ছুটিতে আমি অনেক যায়গা ঘুরে বেড়িয়েছি তার মধ্যে এই হাট খানা ছিলো। অনেকেই হাট এর নাম শুধু বইতেই পড়েছেন আর গাবতলি গরুর হাটের কথা টিভিতে দেখেছেন, কিন্তু বড়দালের হাটের ঐতিহ্য সাতক্ষীরার ও খুলনার দক্ষিণাংশে সমাদৃতই না শুধু বহুল চর্চিত ছিলো একটা সময়। আশাশুনি উপজেলার বড়দাল গ্রামে আরপাংগাসিয়া নদীর তীরে এই হাট কবে থেকে শুরু সে ইতিহাস জানা যায় না তবে আমার দাদার দাদা ও এই হাট দেখেছে বলে জেনেছি। এক সময়ের রবিবার সারাদিন ব্যাপি ব্যাপ্তি এই হাটের পরিধি কমে এসেছে আজ। সারাদিন নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় জীনেসের সাথে কাপড়চোপড়, বইপত্র, বৃহত্তর কাচা বাজার, নানান মাছের বাজার, মাটির হাড়িপাতিল, বাঁশের জিনিসপাতি, ভ্রাম্যমাণ রেস্টুরেন্ট, বিশাল পানশুপারির বাজার, সেলুন, নানান সুতার দোকান, মেরামতের কারবারি, কসমেটিকক্স, মিষ্টিমিঠাই, চারাগাছ থেকে শুরু করে এমন কিছুই নেই যে বড্ডালের হাটে পাওয়া যেত না। আর সবকিছুর দাম ছিলো অতি সামান্য কারণ স্থানীয় জিনিসপত্রে ঠাসা ছিলো এই হাট।
দূর দুরন্ত থেকে নৌকা, বিভিন্ন যানবাহন এমনকি পায়ে হেটে ও অসংখ্য ক্রেতা এখানে এসে উপস্থিত হত খুচরা ও পাইকারি জিনিস ক্রয়ের জন্য। জনসমাগম এত হত যে হাটে গিয়ে অনেক মানুষ হারিয়ে যেত এবং তারা একে অপরকে হাটে আর খুঁজে পেত না। এতোটাই ভিড় হতো যে, একে অন্যের পায়ে পাড়া দেয়া ছিলো খুব সামান্য ব্যাপার। আর সেই থেকে কেউ কারো পায়ে পাড়া দিলেই বলা হতো “বড্ডালের হাটে যাসনি?” সাপখেলা, মলম ইত্যাদি বিক্রির জন্য অনেক ভন্ডদের আগমন হত এই হাটে। সন্ধ্যা হয়ে যেত তবুও হাট শেষ হত না। কালের পরিক্রমায় আজ হাটের পরিধি এত ছোট হয়ে এসেছে যে অবাক না হয়ে উপায় নেই। তবুও এখনো নৌকায় করে নানান জিনিসপাতি আসে, পাইকারি কাপড়চোপড় এর জন্য নানানরকম দ্রব্যসামগ্রী আসে। আমি জীবনে প্রথমবার এই হাটে গেলাম, হুট করেই সিধান্ত নিয়ে একা একা গিয়ে উপস্থিত হলাম হাটে। কালের পরিক্রমায় কমে এলেও এখনো এতোটাই বড় রয়েছে যে প্রায় ঘন্টা খানেক ঘুরে ঘুরেও আমি শেষ করতে পারিনাই। এই হাট এখন শুধুই প্রাচীন অতীত।

লেখক: জাকির হোসেন রাজু
ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক
সাব-ইন্সপেক্টর, সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ