HEADLINE
পরিবারের সবাইকে অজ্ঞান করে ১০ লক্ষ টাকার মালামাল লুট! বাংলাদেশের মেয়েরা এখন আর পিছিয়ে নেই এমপি রুহুল হক ভোমরায় পাসপোর্ট যাত্রীদের তল্লাশির নামে বিজিবির হয়রানি সাতক্ষীরা পৌরমেয়র চিশতিসহ পৌর বিএনপির ১০ নেতা আটক শাশুড়ির কামড়ে জামাইয়ের কান ও জামাইয়ের কামড়ে শাশুড়ির হাতের শিরা বিছিন্ন কালিঞ্চী এ. গফ্ফার মাধ্যঃ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন বন্দে আদালতে মামলা বৈকারীতে ১’শ পিস ইয়াবাসহ চোরাকারবারি গ্রেপ্তার রাত পোঁহালেই দেবহাটা প্রেসক্লাবের নির্বাচন সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগ নেতাকে অস্ত্রকান্ডে ফাঁসিয়ে ভারতে পালালেন মূলহোতা নির্বাচন নিয়ে ভাবার কিছু নেই, আমরা গণতান্ত্রিক দল : সাতক্ষীরায় আ.ক.ম মোজাম্মেল হক
বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এ মাসে যা ঘটেছিল

জহিরুল ইসলাম শাহিন / ১৫৪
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল, ২০২২

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টি, বাংলাদেশের ইতিহাস, বাংলাদেশের মর্যাদা পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান করে নিতে জাতীয় পতাকার সম্মান অক্ষুন্ন রাখার জন্য পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর নিপীড়ন, অত্যাচার, নির্যাতন মানুষের অধিকার হননের বিরুদ্ধে যিনি স্মৃতি স্তম্ভের ন্যায় দাড়িয়ে বজ্র কন্ঠের আওয়াজ তুলে গোটা বাঙালী জাতিকে জাগ্রত করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে দেশকে রক্ষার জন্য, দেশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য দুঃসাহসিক অগ্রযাত্রার একমাত্র কান্ডারী হিসাবে, জাতির অভিভাবক হিসাবে, অকুতোভয় সাহসী সৈনিক হিসাবে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি আর কেউ নন তদানীন্তন কালের সাড়ে সাতকোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন বাংলার জনক, বাংলার আকাশের উজ্জল নক্ষত্র, হিমালয় পর্বত দুর্বার অদম্য যোদ্ধা বাংলার স্বাধীনতার প্রান পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালী জাতি যখন পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর নয়া উপনিবেশে পরিণত হল, ঠিক তখনই বাঙালী জাতিকে শোনালেন মুক্তির অগ্নিবানী। ১৯৭১ এর ২৫ শে মার্চ ভয়াল গভীর রাতে যখন পাকিস্তানী শাসকেরা অতর্কিত ভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক এবং শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবিদের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাযজ্ঞ শুরু করল, এমন কি রাজধানী ঢাকায় পুলিশের হেড কোয়াটার রাজার বাগ পুলিশ লাইনে আগুন জালিয়ে দিলো তখন বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারলেন আজ রাত্রেই হয়তো আমাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তখন আর বিলম্ব না করে বাঙালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীন না করা পর্যন্ত আর কেউ ঘরে ফিরবে না এই শপথ নিয়েই তিনি মার্চের ২৫ তারিখ রাতেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন সেই বঙ্গবন্ধুর আপোষহীন নীতি, মনোবল, আদর্শ ও দৃঢ়তার কারনে প্রায় সাড়ে সাতকোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন। তার লালিত স্বপ্ন বক্ষে ধারন করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে বাঙালীরা তাদের অগ্রযাত্রা শুরু করেন । ‘স্বাধীন দেশে আমরা আমাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবো কারোর উপর মাথা নোয়াবো না, কারোর অধীনে থাকবো না, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই’, এইটাই তাদের সংকল্প। এপ্রিল মাস শুরু হয়ে গেল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মিশন। পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর নিপীড়ন নির্যাতনের চিত্র দেখে পৃথিবীর অনেক শক্তিশালী দেশ ও তখন পাকিস্তানী সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে অকুন্ঠ সমর্থন দিতে লাগলেন। স্বাধীনতা ঘোষনার পরপরই স্বাধীনতার জন্য স্বতঃস্ফুর্ত অভ্যুথান গড়ে ওঠে। ঐ অভ্যুথানে অংশ নেয় সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীরা এবং বিশেষ করে বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক ও শ্রমিকেরা। এপ্রিল মাসের ৪ তারিখে মুক্তিবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চা বাগানে পরিবৃত আধা পাহাড়ী এলাকার তেলিপাড়ায় অবস্থিত দ্বিতীয় ইষ্ট বেঙ্গলের সদর দপ্তরে একত্রিত হন। কর্ণেল এম এ জি ওসমানী, লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আব্দুর রব, লেফটেন্যান্ট কর্ণেল সালাহউদ্দিন মোহাম্মাদ রেজা, মেজর কাজী নুরুজ্জামান, মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর নূরুল ইসলাম, মেজর শাফাত জামিল, মেজর মঈনুল হোসেন চৌধুরী প্রমুখ সেনাকর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় চারজন সিনিয়র কমান্ডারকে অপারেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মেজর খালেদ মোশাররফকে কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মেজর জিয়াউর রহমান এবং কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চলের অধিনায়ক হন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী। এ সভাতেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ কারী সম্পর্কিত সাংগাঠনিক ধারনা এবং কমান্ড কাঠামোর রুপ রেখা প্রণীত হয়। এ সভাতে দেশকে পরাধীনতার গøানির হাত থেকে মুক্তির জন্য চৌকষ কর্ণেল এম, এ, জি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর সর্বময় নেতৃত্ব পৃদান করা হয়। ১০ এপ্রিল ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার তথা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১১ই এপ্রিল অর্থাৎ পরের দিনই তাজউদ্দিন আহমদসহ আরও তিনজন আঞ্চলিক অধিনায়কের নাম ঘোষনা করেন। রংপুর অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নওয়াজিশ, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলে মেজর এম, এ, জলিল এবং মেজর নাজমুল হক রাজশাহী পাবনা ও দিনাজপুরে অর্থাৎ উত্তর অঞ্চলের অধিনায়কত্ব লাভ করেন। প্রতিটি অঞ্চলকে একেকটি সেক্টর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। ১০ থেকে ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত সেক্টর কমান্ডারদের এক সম্মেলনে অপারেশন চালানোর সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে এগারোটি সেক্টর ও বিভিন্ন সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। উল্লেখ্য যে তদানীন্তন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী ২৭ মার্চ ১৯৭১ মুক্তি সংগ্রামের প্রতি তার সরকারের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। অত্যাচারিত ও ভীত সত্রস্ত বাঙালীদের নিরাপদ আশ্রয় প্রদানের লক্ষে সীমান্ত উন্মুক্ত করা হয়। এপ্রিল মাসের তৃতীয় সপ্তাহের দিকে বাংলাদেশ থেকে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মীদের বাছাই করে সীমান্তের কাছাকাছি বিভিন্ন প্রদেশে যুদ্ধের কৌশল, অস্ত্র চালনা ও বিষ্ফোরক সম্পর্কে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে বাংলাদেশ বাহিনীর সদর দপ্তর স্থাপিত হয়। ১২ এপ্রিল থেকে ঐ সদর দপ্তর কর্যক্রম শুরু করে। লেঃ কর্নেল এম. এ. রব এবং গ্রæপ ক্যাপ্টেন এ.কে খন্দকারকে যথাক্রমে চীফ অব স্ট্যাফ এবং ডেপুটি চিফ অফ স্ট্যাফ নিয়োগ করা হয়। বাংলাদেশের অভ্যান্তরে মুক্তিবাহিনীর পাশাপাশি আরও অনেক বাহিনী সংগঠিত হয়। এ সকল বাহিনীর মধ্যে টাঙ্গাইলের কাদের বাহিনী, সিরাজগঞ্জের লতিফ মির্জা বাহিনী, ঝিনাইদহের আকবর হোসেন বাহিনী, বরিশালের কুদ্দুস মোল্লা ও গফুর বাহিনী, ময়মনসিংহের আফসার বাহিনী ও আফতাব বাহিনী, ফরিদপুরের হেমায়েত বাহিনী উল্লেখ যোগ্য। এ সকল বাহিনী হানাদার বাহিনীদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে সংগটিত হয়ে বেশ কয়েকটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়। সর্বহারা পার্টির নেতা সিরাজ শিকদার বরিশালে তার বাহিনীকে সংগঠিত করে। এছাড়া মুজিব বাহিনীর সদস্যদের ভারতের সেনাবানিহীর গেরিলাযুদ্ধ বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল ওবানের সক্রিয় সহযোগিতায় ছাত্রলীগ নেতা ফজলুল হক মনি, তোফায়েল আহমদ, আব্দুর রাজ্জাক এবং সিরাজুল আলম খান ছিলেন ঐ বাহিনীর সংগঠক। মুক্তি বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত ও অনিয়মিত দুইটি ভাগে বিভক্ত ছিল। নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভূক্ত ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা। এবং অনিয়মিত বাহিনী গনবাহিনী নামে পরিচিত ছিল। যেখানে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক দলের কর্মীরা প্রাথমিক ভাবে প্রশিক্ষণ নিত। জেড ফোর্স নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়। এই বিগ্রেডের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের নামের ইংরেজী আদ্যক্ষর জেড অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়। ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়। এম ফোর্ড নামে পরিচিত হয় নিয়মিত ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়। এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন সফিউল্লাহ। খালেদ মোশাররফ এর অধিনায়কত্বে যে ফোর্স গঠিত হয় যেখানে ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যরা ছিলেন। মুক্তি বাহিনী শুরুতে প্রতিরোধ মূলক অনেক গুলি যুদ্ধে শত্রæর বিরুদ্ধে সফল ভাবে লড়াই করে কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে তাদের সাময়িক পশ্চাদপ্রসরন করতে হয়। মুক্তি যোদ্ধারা অবশ্য পরে সংগঠিত হয়ে এপ্রিল ও মে সাসের শুরুর দিকে উন্নততর অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নব উদ্দীপনায় অবতীর্ণ হন। এপ্রিল থেকেই বাংলাদেশে মুক্তি যুদ্ধ চলাকালে কৌশলগত কারণে মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র ও গন প্রজাতন্ত্রী চীন পাকিস্তানের অভ্যান্তরীন বিষয় বলে এই যুদ্ধকে চালিয়ে দেয়। কিন্তু ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন বর্তমানে রাশিয়া নামে পরিচিত, জাপানসহ অনেক বড় বড় দেশ বাংলাদেশকে অকুন্ঠভাবে সমর্থন দেয়। এদিকে ১৪ই এপ্রিল ১৯৭১ ঢাকায় শান্তি কমিটি পাকিস্তানের অভ্যান্তরীন বিষয়ে ভারতীয় হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলের পুরো ভাগে খান এ সবুর , খাজা খায়ের উদঈন, মাহমুদ আলী, গোলাম আযম, শফিকুল ইসলাম, এটি সাদী, আবুল কাসেম, আব্দুল জব্বার খদ্দর, সৈয়দ আজিজুল হক নান্না মিয়া, জুলমত আলী খান, এ.এস.এম সোলায়মান, মেজর (অবঃ) আফসার উদ্দীন আহমেদ, বেনজির আহমেদ, পীর মোহসেন উদ্দীন প্রমুখকে দেখা যায়। এদের অনেকেরই বিজয় দিবসের পরপরই এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বাংলাদেশকে ভারতের ফরদ রাজ্য বলে মধ্যপ্রাচ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকেন, শেখ মুজিব ইসলামী জমঘুরী পাকিস্তানকে ভেঙ্গে হিন্দু ঘেষা বাংলাদেশ বানিয়েছেন। “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরীয় মুখপাত্রে ৬ এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন- পাকিস্তানকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র এ ধরনের পরিস্থিতে ব্যবহৃত হলে স্বাভাবতই আমেরিকানরা উদ্বিগ্ন হবেন। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ২১ এপ্রিল জাতি সংঘে বাংলাদেশের কুটনৈতিক মিশনে বিশেষ প্রতিনিধী নিযুক্ত হন। ২৫ এপ্রিল মুজিবনগর থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয়। ১০-১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানের তোড়জোড় শুরু হয়। মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলার আ¤্রকাননে অনাড়ম্বর ভাবে এ শপথ গ্রহন অনুষ্ঠান দেশ বিদেশের মিডিয়ার উপস্থিতিকে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়। এ সময়ে বিভিন্ন পেশার মানুষ মুক্তি বাহিনীতে যোগদান করতে থাকেন। এপ্রিল মাসে দশ জন কুটনৈতিক সার্ভিসের কর্মকর্তা গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এবং পাকিস্তানী মিশন থেকে পদত্যাগ করেন। তাদের মধ্যে বন্ধুবর ও ব্যাচমেট কে.এম শেহাবউদ্দীন দিল্লীতে এবং আবুল হাসান মাহমুদ আলী ২৬ এপ্রিল নিউইয়র্কে বিশ্ব মিডিয়া তরঙ্গের শিরোনাম হয়ে স্বাধীন দেশের শক্তি সঞ্চয়ে বিরাট অবদান রাখেন। মুক্তিযুদ্ধকে তরান্বিত করার জন্য গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এবং ঐক্যবদ্ধ ভাবে আন্দোলনে আরও শক্তি সঞ্চয় করে পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাস্ত করার জন্য যুদ্ধের শুরুতেই এপ্রিল মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনায় ১০ এবং ১৭ এপ্রিলের গৃহীত সিদ্ধান্ত ঘোষনা পত্র সরকারের শপথ অনুষ্ঠান বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং অংশ। এটি ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস একেবারেই কল্পনার বিষয় হতে পারবে না। সুতরাং আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাঠন বা পাঠনের কথা বলবো তখন এপ্রিলে দুই দিবসের মহত্তম তাৎপর্যকে একীভূত করে এর যথার্থ মর্ম বুঝতে হবে। তা হলেই আমরা মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে জানতে বুঝতে এবং ধারণ করতে পারব বলে আশা করি।

লেখক: জহিরুল ইসলাম শাহিন
সহকারি অধ্যাপক
বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ
কলারোয়া, সাতক্ষীরা।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ