HEADLINE
চাকরি ও বাসস্থানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট প্রতিবন্ধী তরিকুলের আকুল আবেদন সাতক্ষীরার জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপ ‘ড্রিম সাতক্ষীরা’ প্রথম বারের মতো ফটোকনটেস্টর আয়োজন কেশবপুরে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শ্যামনগরে নৌ-পুলিশের অভিযানে বালখেট জব্দ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা কেশবপুরে ইট ভাটা মালিকের সংবাদ সম্মেলন সারাদেশে নদীভাঙন রোধে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী প্রকল্প হচ্ছেঃ এনামুল হক শ্রীউলায় আন্তক্রিড়া প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন বলাডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধাকে অপহরণের অভিযোগ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট শ্যামনগরে বিদ্যুৎ স্পর্শে তরুণ স্বেচ্ছাসেবক মেহেদী হাসান’র মৃত্যু
শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০১:০২ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরায় শিক্ষার ক্রমোন্নতির ইতিকথা

জহিরুল ইসলাম শাহিন / ১৮৬
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২

সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এই জেলায় শিক্ষার ক্রমোন্নতি অন্যান্য জেলার সাথে পাল্লা দিয়ে প্রাচীন কাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ে অনেক দুর পর্যন্ত অগ্রসর হতে পেরেছে এবং ধাপে ধাপে শীর্ষে অবস্থান করার মত অবস্থায় পৌছে যাচ্ছে বলে মনে করা হয়। শুরু থেকে শিক্ষার ক্রমোন্নতি পর্যায়ক্রমে জানা উচিত যারা আমরা এই জেলায় বিভিন্ন উপজেলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করি। অতি প্রাচীন কালে বাংলার শিক্ষার প্রকৃতি, ধরন ও পদ্ধতি সঠিকভাবে নিরূপন করা খুবই কঠিন কাজ। প্রাচীন যুগে জ্ঞান বিজ্ঞান ও সাহিত্য চর্চার প্রমান ততটা চোখে পড়ার মতো নয়। এমনকি তদানীন্তন সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কেও তেমন কোন তথ্য প্রমান পাওয়া যায় না। মনে হয় খ্রীষ্টীয় ৬ষ্ঠ শতাব্দীর দিকে পূর্ব বাংলার পন্ডিত সমাজ সংস্কৃতি ভাষা ও সাহিত্যের সাথে খুব একটা সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেনি তবে চেষ্টা চলছিল কয়েক শতাব্দী আগে থেকে। বিশেষ করে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা কিছু কিছু শিক্ষা আয়তন ছোট ছোট আকারে গড়ে তুলেছিল। সপ্তম শতকের প্রথম দিকে ইউয়েন সাঙ কজঙ্গল, সমতট, তা¤্র, সিপ্তি এবং বর্ণসুবর্ন ভ্রমন করেছিলেন তখন বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মন শিক্ষা দীক্ষার প্রসার বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল। তিনি জনগণকে শিক্ষা দীক্ষার ব্যাপারে এবং জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে ভূয়শী প্রশংসা করেন। এ সময় কজঙ্গলে ৬/৭ টি বৌদ্ধ বিহার প্রায় তিনশর উপর বৌদ্ধ শ্রমন, পূন্ডবর্ধনের বিশটি, বিহারে তিন হাজাররের উপর শ্রমন, সমতটের ত্রিশটি, বিহারে শ্রমন সংখ্যা দুহাজারের উপর, কর্ন সবর্ণের ১০টি বিহারে দুহাজারের উপর এবং তা¤্রলিপ্তির ১০টি বিহারে একই সংখ্যক শ্রমণ ছিল। বাংলাদেশের বৌদ্ধ বিহার সংঘারাম গুলির প্রত্যেকটিই ছিল বৌদ্ধ জ্ঞান বিজ্ঞান ও শিক্ষা দীক্ষার কেন্দ্র। হিউয়েন সাঙ অনেক দেব মন্দিররের উল্লেখ করেছেন। এভাবে দেখা যায় যে, ৬ষ্ঠ, সপ্তম শতাব্দীর মধ্যে বাংলাদেশে সংস্কৃতি ভাষা এবং বৌদ্ধ জৈন ব্রাহ্মন্য ধর্মকে আশ্রয় করে আর্থ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষা দীক্ষার বীজ বপন করা হয়। এবং শতাব্দী কালের মধ্যেই তা সুফল বয়ে আনে। বাংলাদেশের অন্যান্য বিদ্যার সাথে বেদ, আগম, নীতি জ্যোতিষ, ব্যাকরণ, মীমাংসা, বেদান্ত, শ্রæতি, স্মৃতি, পূরন প্রভৃতি সবকিছুর চর্চা হতো। অষ্টম শতকের মাঝামাঝি সময়ে আমাদের দেশে বৌদ্ধ ধর্ম পাল রাজবংশ এবং একাদশ শতকের শেষ দিকে ব্রাহ্মন ধর্মাবলম্বী সেন রাজ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সময়ে এদেশে বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মন শিক্ষার ব্যপক প্রসার ঘটে। সেনবংশের যুগে ও সংস্কৃত ভাষায় বিদ্যাচর্চা কাব্য চর্চা, জ্ঞান বিজ্ঞানের শিক্ষার প্রসার ঘটে। প্রাচীন বাংলায় শিক্ষা ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করলেও শিক্ষার প্রসারই বিভিন্ন শাস্ত্র চর্চার পথ সুগম করেছিল। সুলতানী আমলে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েমটি স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা মাদ্রাসা স্থাপিত হয়েছিল । বাংলার মুসলমান সুলতানগণ তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব সমূহ সম্পন্ন করার জন্য প্রাথমিক বা উচচতর সব রকম শিক্ষা বিস্তারেই উৎসাহ প্রদান করতেন। শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে শাসক, সুফী অভিজাতকর্ষ, গোষ্ঠীপ্রধান এবং জনহিতৈষী ব্যক্তিবর্গ সকলেরই অবদান রয়েছে। মুসলমান শাসকদের পৃষ্ঠ পোষকতায় তখনকার দিনে আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ মাদ্রাসা স্থাপিত হয় এবং মাদ্রাসা ভিত্তিক শিক্ষা খুব দ্রæত প্রসার বৃদ্ধি করে। পীর খান জাহান আলীর আমলে এবং হুসেন শাহের রাজত্বকালে পুনরায় ব্রাহ্মন প্রধান গ্রাম মাত্রই টোল খুলেছিল এবং শাস্ত্র চর্চা হতো। মাদ্রাসা, মক্তব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এদেশে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটেছিল। পাশাপাশি গণিত, সাহিত্য, ইতিহাস, অর্থনীতি, আইন, কৃষি, নীতি শিক্ষা, চিকিৎসা প্রভৃতি বিষয়ে ও পড়ানো হতো। এর পর মোঘল আমলে জ্ঞানের প্রসার ঘটেছিল বেশী। প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিষ্ঠান গুলি গ্রামে ও শহরে পাঠশালা ও মাদ্রাসা মক্তবের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করেছিল যেখানে পন্ডিত ও মৌলভীরা শিক্ষাদান করতেন। মুদ্রিত বই ঐ আমলে না থাকায় তখনকার ছাত্রদের হস্তলিপি পড়ানো হতো এবং কোন রকম অর্থ না বুঝেই মুখস্ত করানো হতো। চার পর্যায়ে চারটি মাধ্যমে লেখা অভ্যাস করতে হতো। সেগুলো হলো তাল পাতা, কদলী পাতা, কাগজ মাটি ও বালু। শ্লেট, পেন্সিল, চক, ডাস্টার কলম বা বøাকবোর্ডের তখনকার সময়ে কোন অস্তিত্ব ছিল না। প্রাথমিক গণনা হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে এবং নামতা পদ্ধতিতে শেখানো হতো। মোঘল যুগে মুসলমান বালক বালিকাদরে প্রাথমিক ব্যকরণ চিঠিপত্র লেখা, কোরান মুখস্ত করন, ও আরবি হস্ত লিপি বিদ্যা বিনা বেতনে পড়ানো হতো। হিন্দু বালক বালিকারাও ব্যাকরণ, অভিধান, পূরান, সংস্কৃত এবং উপনিষদ ও অধ্যায়ন করতো। মুসলামনদের মধ্যে কাজী ও মৌলভীগণ স্ব-স্ব বাড়ীতে ফার্সি এবং আরবি পড়াতেন, পাঠান আমলের শেষ ভাগে মুসলমানরা গুরু গিরিতে বেশ দক্ষ ছিলেন এমনকি হিন্দু বাড়িতে ও মুসলমান গুরু রাখার প্রথা চালু হয়েছিল। সাতক্ষীরা জেলায় বুড়ন পরগনা নিবাসী পৗরালী, মুসলমান গুরু মাহশয়গণ বুড়ন খা সাহেব নামে হিন্দুর পাঠশালায় শিক্ষকতা করে ছাত্র বর্গের ভয়ভীতি আকর্ষন করতেন। মোঘল আমলে প্রত্যেক ফৌজদারের অধীনে একটি করে মক্তব বা বিদ্যালয় স্থাপিত থাকতো। ঐ সকল বিদ্যালয় গুলি মসজিদের সাথে সংশ্লষ্ট থাকতো। ভদ্র পল্লী মাত্রই দেশীয় পাঠশালা স্থাপিত ছিল সেখানে গুরু মহাশয় ছাত্রদেরকে গণিত, জমিদারী ও মহাজন হিসাব পাট্টা কবুলিয়ত, আদিলিখন পঠন ও জরিপ প্রনালী শিক্ষা দিতেন। মোঘল শাসনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটানো। প্রাথমিক স্তরে মহিলাদের বিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষাদান করা হতো। কিন্তু মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার জন্য বাড়ীতে বাড়ীতে বিশেষ ব্যবস্থা করা হতো। দানবীর হাজী মোহাম্মদ মহসীন মুসলামাদের শিক্ষার জন্য বিরাট অংকের অর্থ প্রদান করেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তার শাসন আমলের গোড়ার দিকে ভারতের অধিবাসীদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের দায়িত্ব অনুভব করেন নি। বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে কোম্পানির প্রধান লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ছিল লাভের দিকে। সেইজন্য তারা প্রজাদের মধ্যে রাজকীয় আওতায় এনে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞান বিজ্ঞানের আলো প্রজ্জলিত করা মোটেই লাভজনক নয়। কাজেই সেই সময় কোন সরকার-সাধারণ মানুষের মধ্যে শিক্ষার বীজ বপন করতে চায়নি। কিন্তু পরবর্তীতে সেই চিন্তাধারার আমুল পরিবর্তন ঘটে। ব্রিটিশ শাসকেরা এবং রাজনীতিবিদরা ভারত সরকারের পক্ষে তার প্রজাকে শিক্ষা দান করা নৈতিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারের সুবিধার জন্য মিশনারীগন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গন সাধারনের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের প্রয়োজন উপলব্ধি করেন। ১৮৩৫ খৃষ্টাব্দের ২০ জানুয়ারী বড় লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক মিশনের শিক্ষক রেভারেন্ট উইলিয়াম এ্যাডামকে বাংলা ও বিহার প্রদেশের দেশীয় শিক্ষা সম্পর্কে ব্যাংক অনুসন্ধান চালিয়ে রিপোর্ট তৈরীর জন্য শিক্ষা কমিশনার নিয়োগ করেন। ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দে উইলিয়াম এডাম তিনটি রিপোর্ট সরকারের কাছে পেশ করেন। এই রিপোর্ট থেকে জানা যায় বাংলার প্রাদেশিক শিক্ষার মাধ্যম ছিল বাংলা। অন্য অন্য জেলার ন্যায় সাতক্ষীরা জেলাতে বাংলা শিক্ষার প্রাধান্যতা ছিল, পাশাপাশি হিন্দি ও উর্দু ও ছিল। মিশনারী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার আলো প্রবেশ করাতে হবে। এ ব্যবস্থায় বিজিত জাতি বিজেতার কাছে এসে একত্রিত হবে এমনটি ব্রিটিশ শাসকেরা মনে করেন। ফলে ইংরেজরা দেশের মধ্যে ইংরেজী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে থাকে। খুলনা জেলার বিভিন্ন স্থানে যেমন সাতক্ষীরা, বাগেরহাট প্রাথমিক ইংরেজী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৮১ সালে খুলনা জেলায় বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৫২ টিতে উপনীত হয়। ১৯০৭ সালে তা বেড়ে দাড়ায় ১১০২ টিতে। এদিকে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় ইংরেজদের সাথে সহমত শোষন করে ইংরেজী শিক্ষা লাভ করার প্রতি ইচ্ছ পোষন করেন এবং ইংরেজী শিক্ষার জন্য বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করেন ইংরেজদের আর্থিক সহযোগিতায়। ত্রিশ ও চল্লিশ দশকের আরও দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারী সিদ্ধান্তের ফলে উচ্চ শিক্ষার জন্য এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা আরও বৃদ্ধি পায়। আর একটি হচ্ছে ১৮৩৭ সালে সরকারী অফিস আদালত সমূহে ফার্সীর বদলে ইংরেজী ভাষা চালু এবং ১৮৪৫ সালে সরকারী চাকরীতে ইংরেজী শিক্ষিতদের অগ্রাধিকার প্রদানের নীতি প্রদান করা হয়। ইংরেজ যুগের বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত রিপোর্ট গুলির মধ্যে বিশেষ করে যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরিশাল এলাকার হিন্দুদের তুলনায় মুসলমানদের মৃত্যুর হার বেশী হবার কারন খুজতে যেয়ে দেখা যায় মুসলমানরা দরিদ্র এবং বেকার এবঙ ইংরেজী শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কম থাকায় হিন্দুরা বেশী চাকুরীতে নিয়োগ পায়। এরপর লর্ড হার্ডিঞ্জের আমলে ইংরেজী শিক্ষা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রসার লাভ করে এবং এই সময় কৃষ্ণনগর কলেজ বর্ধমান, বাকুড়া, বারাসাত ও বগুড়া জেলা স্থাপিত হয়্ ১৮৩৫ সালে ঢাকায় প্রথম ইংরেজী বিদ্যালয় স্থাপিত হয়্ ১৮৪৬ সালে ইহা কলেজে উন্নীত করা হয়। এদিকে গ্রাম গঞ্জের মানুষের শিক্ষা দান করার প্রশ্ন বিবেচনা করে ১৮৪৪ সালে সরকার প্রতি জেলায় বাংলা বিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলা বিহার, উড়িষ্যায় ৩৬ টি জেলায় মোট ১০১টি বিদ্যালয় খোলার ব্যবস্থা করা হয়। প্রতি জেলায় দুই তিনটি শহরে একটি করে বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। বিদ্যালয় বন্টনের ক্ষেত্রে যশোর বিভাগে (যশোর, নদীয়া, ২৪ পরগনা, হুগলীর বর্ধমান, বারাসাত এবং বাকুড়া সহ) ১৯টি বিদ্যালয় স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়। এগুলোকে বোর্ড স্কুল হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কাঙ্খিত ছাত্র না থাকায় বোর্ড স্কুল গুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৪৭-১৯৪৮ সালে পূর্ব বাংলায় ২১১৫টি মধ্য ইংরেজী বিদ্যালয় ছিল যার মধ্যে ১৩টি ছিল সরকার পরিচালিত। আর মধ্য বাংলা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৫০টি। এদের অর্ধেক ছিল সরকারী। ১৮৫৪ সালের চার্লস উডের এডুকেশন ডেসপাশ। প্রত্যেক প্রদেশে শিক্ষা প্রশাসন পরিচালনার জন্য আলাদা ডিপার্টমেন্ট স্থাপিত ১৮৫৭ সালে কলকাতা, মাদ্রাজ ও বোম্বাই বিশ্ব বিদ্যালয় স্থাপিত ও প্রান্টম ইন, এইড প্রথা প্রবর্তনের প্রস্তাব দেয়। পরবর্তি সময়ে ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ব বাংলায় ঢাকা তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাহা শিল্প সম্প্রসারণ কর্মসূচীর অংশবিশেষ। পূর্ব পাকিস্তানের ভৌগলিক সীমানায় যে একটি মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় পড়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল ঢাকা পৌরসভার সীমানার মধ্যে। এর বাইরে সারা দেশের সম্পূর্ণ উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাই যুক্ত ছিল। দেশ বিভাগের কারনে এই অধিভ’ক্তির দায়িত্ব পালনকারীর ব্যপক ভূমিকা বর্তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রদেশের দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, স্থাপিত হয় ১৯৫৪ সালে রাজশাহী শহরে। ৩য় বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬৫ সালে চট্রগ্রাম নগরীকে পাকিস্তান পূর্বে ( ১৯৪৭-১৯৭০) শেষ দিকে পূর্ব পাকিস্তানে আরও দুইটি বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে ময়মনসিং কৃষি বিদ্যালয় ১৯৬১ সালে ও ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি ১৯৬২ সালে। দেশ স্বাধীন হবার পর আরও ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারী পর্যেয়ে স্থাপিত হয়েছে এরপর বেসরকারী উদ্যোগে বাংলাদেশের আশির এবং নববই দশকের প্রথম দিকে থেকে গ্রামে গঞ্জে শহরে অসংখ্যা বেসরকারী স্কুল ও কলেজ গড়ে উঠেছে। সরকার অবাধনীতি গ্রহন করায় এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রন ছিল অতি সামান্য। প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার, বয়স্ক শিক্ষার প্রবর্তন, পেশাভিত্তিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ এবং স্ত্রী শিক্ষা ও অপরাপর অসুবিধাভোগী শ্রেনীর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ প্রভৃতি প্রাদেশিক সরকার সমুহের উন্নয়ন কর্মসুচীর অন্তভর্’ক্ত ছল। মাধ্যকিম শিক্ষার ক্ষেত্রে ও সম্প্রসারন ঘটে এবং বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেক টি গ্রামে শিশু বিকাশের জন্য এবং বাধ্যতা মূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে এতেকরে গ্রাম গঞ্জের অসহায় মেহনতী খেটে খাওয়া মানুষের সন্তান গুলো লেখা পড়ার ব্যাপক সুযোগ পায় এবং স্বাধীনতার পর বাংলার প্রাণ পুরুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সকল প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি জাতীয় করন করে জাতির জন্য অসামান্য অবদান রেখে গেছেন এবং পরবর্তীতে জাতির জনকের যোগ্য কন্যা বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশিষ্ট সকল বেসরকারী রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি জাতীয় করন করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারের রাজত্বকালে সরকারী এবং বেসরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, কারিগরি কলেজসহ অসখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে। যার মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের অত্যন্ত প্রত্যান্ত অঞ্চলেও শিক্ষার সম্প্রসারতা বৃৃদ্ধি পেতে শুরু করে । বাংলাদেশ একদিন হবে শিক্ষা দিক্ষার দিক থেকে বিশ্বের রোল মডেল এমনটাই ভাবা যায় এখন থেকে। আগেই বলা হয়েছে উনবিংশ শতাব্দির মধ্যভাগ পর্যন্ত অবশ্য গ্রামে শিক্ষার প্রসার সংস্কৃতি টোল পাঠশালার মাধ্যমেই পরিচালিত হতো। এবং সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে তা সম্প্রসারিত হতে লাগলো। বিট্রিশ আমলে সাতক্ষীরা এলাকার কুমিরা ঘোষ বাড়ী পন্ডিত সতীন্দ্রনাথ ঘোষের টোল, গনভাঙ্গা টোল, মাগুরা(তালা) পন্ডিত গোবর্ধন বিদ্যারতেœর টোল, খলিশখালী ভট্টাচার্য পাড়ার টোল, সাতক্ষীরা পৌরসভার সুলতানপুর গুরু মহাশয় এজাহার আলীর পাঠ শালা, পানিয়ায় পন্ডিত ভূপেন্দ্র নাথের সন্দীপন পাঠশালা, কেঁড়াগাছি গঙ্গা চরন ভট্টাচার্যের পাঠশালা, মাঘুরালী রামশাস্ত্রীর টোল, নুরনগর দেবেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের পাঠশালা, ছয়ঘরিয়ায়, সোনাবাড়ীয়ায়, চন্দনপুর, বোয়ালিয়া, টাউন শ্রীপুর, উকসা, সাইহাটি, বাবুলিয়া, লক্ষীনাথপুর, দক্ষিন শ্রীপুর, রতনপুর, নলতা এবং নকীপুরের জমিদার বাড়ীতে টোল ও পাঠশালা ছিল। এই সমস্ত টোল বা পাঠশালা গুলো একজন ব্যক্তি বা পারিবারিক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে গড়ে উঠতো। কড়ি ও পাথরের কুচি দিয়ে সংখ্যা গননা, যোগ, বিয়োগ শিক্ষা দেওয়া হতো। সেকালে পাঠশালা বা টোল নামতা ধারাপাত শিক্ষার প্রনালী ছিল যথেষ্ট চিত্তাকর্ষক। এই ভাবে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রামে, গঞ্জে, পাড়া মহল্লায়, অতি উৎসাহের সাথে সাধারণ বালক বালিকাদের কে শিক্ষার সংগে সংযুক্ত করে জ্ঞানের আলো দান করেছেন উক্ত পন্ডিতরা। আমরা তাদেরকে সাধুবাদ জানাই। তাদের পরিকল্পনায় এবং ধারাবাহিকতায় আজকের সাতক্ষীরার শিক্ষা মনোনিবেশকারী সন্তানেরা দেশের অন্য কোন জেলার চাইতে আমাদের সাতক্ষীরা জেলা অনেক শীর্ষে অবস্থান করছে একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাতক্ষীরা কে শিক্ষা দিক্ষায় এবং উন্নয়নে আরো একধাপ এগিয়ে নিবে এই জেলার উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিরা, পন্ডিতেরা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা এবং রাজনীতি বীদরা এই আশায় আমরা এখন করতে পারি।

লেখকঃ জহিরুল ইসলাম শাহিন
সহকারী অধ্যাপক
বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ
কলারোয়া, সাতক্ষীরা।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ