শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

ঝাউডাঙ্গায় বাড়ছে চুরির প্রকোপ : এলাকায় আতঙ্ক!

মোমিনুর রহমান সবুজ / ৩৫৬
প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গায় দিনে-রাতে বাসা-বাড়ি, রাস্তাঘাটে চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়তই চুরির ঘটনা ঘটছে। ছিচকে, গ্রিলকাটা ও চেতনানাশক স্পেরের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের অজ্ঞান করে বাড়িতে চোর-ডাকাতির প্রকোপে মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়ছে সাথে বাড়ছে এলাকায় আতঙ্ক।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ৩রা ডিসেম্বর সকালে ঝাউডাঙ্গা বাজারের প্রধান সড়ক থেকে দুই মালিকের দু’টি বড় খাসি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। ছাগলের মালিক ঝাউডাঙ্গা বাজারের কলুপাড়ার রবিউল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় আমার দুইটা ছাগল সকালে ছেড়ে দিই। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে একটা ছাগল বাড়িতে ফিরলেও অপর ছাগলটি ফিরে না আসায় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা গরিব মানুষ তারমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার টাকার মূল্যের ছাগল চুরি হয়ে গেল। অনেক বছর যাবত ছাগল পালন করি কিন্তু দিনের বেলায় এমন চুরি মানা যায় না। অপর এক ছাগলের মালিক একই এলাকার ট্রাক চালক মোজাম্মেল হকের প্রায় ১৮ হাজার টাকার মূল্যের খাসি ছাগল রাস্তা থেকে একইদিনেই চুরি হয়েছে। জানা গেছে এর আগেও একইভাবে রাস্তা থেকে তার আরো দু’টি ছাগল চুরি হয়েছে। এলাকাবাসীর ধারণা বিশেষ করে হাটবারের দিন একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র টার্গেট করে ইজিবাইক বা মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে। এর আগে, বুধবার গভীর রাতে ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে আলাউদ্দীন সরদারের বাড়িতে পরিবারের তিন সদস্যকে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে দূর্ধষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন সরদার জানান, প্রতিদিনের ন্যায় রাতে খাবার শেষে ঘুমাতে যায়। গভীর রাতে কোনো একসময়ে একদল ডাকাত ঘরের জানালার গ্রিলকেটে ঘরে প্রবেশ করে তিন সদস্যকে চেতনানাশক স্প্রেরের মাধ্যমে অচেতন করে বাড়িতে থাকা নগদ প্রায় দুই লক্ষ টাকা ও প্রায় ছয় ভরি স্বর্ণ অলংকারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে চলে গেছে। তার কয়েকদিন আগে ১২ই নভেম্বর শুক্রবার ওয়ারিয়া বায়তুল নুর জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ চলাকালিন সময়ে ঐস্থান থেকে উত্তর পাথরঘাটা গ্রামের খালিদ হোসেন নামের এক যুবকের অ্যাপাচি আরটিআর’র ৪ভি মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। থানায় অভিযোগের প্রায় ২০দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত তার বাইকটি উদ্ধার না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন ঐ যুবক। ‘এর মাসখানেক আগে গভীর রাতে তুজলপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের পাচিল দেওয়া বাড়ির পাচিল টপকিয়ে ভিতরে ঢুকে পাচিলের তালা ভেঙে ও বসত ঘরে বাহির থেকে তালা লাগিয়ে গোয়ালঘরে থাকা চারটি গরু পিকআপে তুলে নিয়ে গেছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। যার এখনো পর্যন্ত কোনো সুরাহা পাইনি ভুক্তভোগী পরিবার। ‘অন্যদিকে সম্প্রতি ওয়ারিয়া গ্রামের মৃত ইসমাইল মোড়লের বাড়িতে গভীররাতে ৬/৭ জনের একটি দল চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঢুকলে ইসমাইল মোড়লের ছোট ছেলে তাদের আনাগোনা টের পেয়ে কারা কারা বলে চিৎকার দিলে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গ্রাম পুলিশের নিয়মিত টহলের অনুপস্থিতি এবং একের পর এক চুরির ঘটনায় তেমন কোনো প্রতিকার না পাওয়ার কারণে চোরদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিন্তিত করে শাস্তির আওতায় আনার প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ