HEADLINE
সাতক্ষীরা সীমান্তে অপরাধ দমনে বিজিবি ও বিএসএফ এর পতাকা বৈঠক ঝাউডাঙ্গা হাইস্কুল জামে মসজিদের ওযুখানা নির্মাণ কাজ উদ্বোধন শ্যামনগরে বিদ্যুৎস্পর্শে কৃষকের মৃত্যু কাশ্মিরি ও থাইআপেল কুল চাষে সফল সাতক্ষীরার মিলন ঝাউডাঙ্গা সড়কে বাস উল্টে ১০জন আহত ঝাউডাঙ্গায় জমকালো আয়োজনে শুরু হচ্ছে পৌষ সংক্রান্তি মেলা কালিগঞ্জে শীতার্ত মানুষের পাশে ”বিন্দু” মাদ্রাসা শিক্ষক শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে ফের ছাত্র বলাৎকারের অভিযোগ স্বামী বিবেকানন্দ দর্শন আমাদের মুক্তির পথ : সাতক্ষীরায় ১৬০তম জন্মবার্ষিকী উৎসবে আলোচকরা আ’লীগ নেতার বাড়িতে ডাকাতি, ১৫ লাখ টাকা ও ৩৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট 
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০১:৫১ অপরাহ্ন

মানব পাচার প্রতিরোধে চাই সামাজিক সচেতনতা ও আইনের যথার্থ প্রয়োগ

জি.এম আবুল হোসাইন / ২৭৬
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০২২

সভ্যতা বিবর্জিত জঘন্য অপকর্ম ‘মানব পাচার’ একটি সামাজিক ব্যাধি। কোনো ব্যক্তিকে তার দেশের অভ্যন্তরে বা বাইরে বিক্রি বা পাচারের উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখা, আশ্রয় দেয়া, অন্যকোনভাবে সহায়তা করা হলে মানবপাচার হিসাবে গণ্য হয়। আমাদের দেশে কিছু মানুষের ধারণা, কোনো রকমে একবার বিদেশে পাড়ি জমাতে পারলেই ভাগ্য বদলে যাবে। এ ধরনের অজ্ঞ মানুষই বিশেষভাবে প্রতারণার শিকার হন।

বাংলাদেশে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী, ‘মানব পাচার’ অর্থ কোনো ব্যক্তিকে ভয় দেখিয়ে, বল প্রয়োগ বা প্রতারণার মাধ্যমে তাঁর আর্থ-সামাজিক, পরিবেশগত বা অন্য কোনো অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এবং টাকা-পয়সার বিনিময়ে বা অন্য কোনো সুবিধা লাভের জন্য তাঁর ওপর নিয়ন্ত্রণ আছে এমন কারো সম্মতি নিয়ে এবং বাংলাদেশের ভিতরে বা বাইরে যৌন শোষণ, শ্রম শোষণ অথবা অন্য কোনো শোষণ বা নিপীড়নের উদ্দেশ্যে ক্রয় বা বিক্রয়, সংগ্রহ বা গ্রহণ, নির্বাসন বা স্থানান্তর, চালান বা আটক করা বা লুকিয়ে রাখা বা আশ্রয় দেয়া। উল্লেখ্য, পাচারের শিকার ব্যক্তির বয়স ১৮ বছরের কম হলে বলপ্রয়োগ, প্রতারণা বা প্রলোভন দেয়া হয়েছে কি না তা বিবেচনা করার দরকার নেই বরং শোষণ বা নিপীড়ন হলেই তা মানব পাচার প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট। অপরাধের মাত্রাভেদে আইনের মধ্যে মানব পাচারের বিভিন্ন রকম শাস্তির বিধান রয়েছে। ‘মানবপাচার’ আইনের ৬ ধারা অনুসারে মানব পাচার নিষিদ্ধ করে এর জন্য অনধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এজন্য নতুন আইন ও শাস্তির বিধান করা উচিত। নতুন আইনে ‘মানব পাচার’ বা অন্য কোনো ধরনের যৌনশোষণ বা নিপীড়নের জন্য আমদানি বা স্থানান্তরের দণ্ড অনধিক ১০ থেকে ১৪ বছর এবং কমপক্ষে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ২.৫০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড রাখা প্রয়োজন। ধারা ৭ অনুসারে সংঘবদ্ধ মানব পাচার অপরাধের দণ্ড মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কমপক্ষে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

এ ছাড়া এ আইনের ধারা ৮ অনুসারে অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র বা চেষ্টা চালানোর দণ্ড হিসেবে অনধিক সাত বছর এবং কমপক্ষে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবংড় কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড রাখা হয়েছে। ধারা ৯ অনুসারে জবরদস্তি বা দাসত্বমূলক শ্রম বা সেবা প্রদান করতে বাধ্য করার দণ্ড অনধিক ১২ বছর এবং কমপক্ষে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড। উক্ত আইনের ধারা ১০ অনুসারে মানব পাচার অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অপহরণ, চুরি এবং আটক করার দণ্ড এবং মানব পাচারের অপরাধ সংঘটনের অভিপ্রায়ে বা যৌনশোষণ ও নিপীড়নের শাস্তি অনধিক ১০ বছর এবং কমপক্ষে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত রাখা হয়েছে। নবজাতক শিশু অপহরণ বা চুরির দণ্ড অনধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড রাখা হয়েছে। এ আইনের পতিতাবৃত্তি বা অন্য কোনো ধরনের যৌনশোষণ বা নিপীড়নের জন্য আমদানি বা স্থানান্তরের দণ্ড অনধিক সাত বছর এবং কমপক্ষে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড রাখা হয়েছে। এ আইনের অধীন অপরাধগুলো আমলযোগ্য, আপস অযোগ্য এবং অ-জামিনযোগ্য। হতাশার বিষয় হলো, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে মানব পাচার অব্যাহত রয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। নিজেকে এবং অন্যদেরকে পাচারের হাত থেকে রক্ষা করুন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সহায়তা করুন।

তথ্য সংগ্রহে : জি.এম আবুল হোসাইন, সিটিপ, সিডব্লিউসিএস, সাতক্ষীরা।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ