HEADLINE
৫ দিন পর ভোমরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু দেবহাটায় পাল্টাপাল্টি মারপিটে ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ সভাপতি সহ আহত ৫ সাতক্ষীরা সীমান্তে নয়টি স্বর্ণের বার’সহ চোরাকারবারি আটক সাতক্ষীরায় চেতনানাশক স্প্রে করে দুই পরিবারের নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট আশাশুনির কোপাত বাহিনীর প্রধান কারাগারে সজিনা গাছের ডাল কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে একজনের মৃত্যু কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলায় পলাতক আসামি যশোরে গ্রেপ্তার দেবহাটায় নদীতে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে শিশুর ম’র্মা’ন্তিক মৃ’ত্যু সাতক্ষীরায় দু’বস্তা ফেনসিডিল’সহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আমাদের সাতক্ষীরা জেলা উন্নয়নে অনেকটা অবহেলিত
বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩৯ অপরাহ্ন

ইউনিফর্ম না পরে পরীক্ষা দিতে আসায় শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬৬৪
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৫ জুন, ২০২২

ইউনিফর্ম না পরে পরীক্ষা দিতে আসায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৯ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শনিবার (৪ জুন) সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার শহিদুল ইসলাম চুপড়িয়া গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত ইন্দ্রজিৎ কুমার ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।

বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা বলেন, সকাল ১১টার সময় আমরা পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করি। এসময় কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ কুমার শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলামকে দাঁড়াতে বলেন এবং ইউনিফর্মের একাংশ (প্যান্ট) না পরে পরীক্ষা দিতে আসার কারণ জানতে চান। এসময় শহিদুল তার প্যান্ট না পরার কারণ জানালেও শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ কুমার তাকে স্কেল দিয়ে বেধড়কভাবে মারপিট করেন। একপর্যায়ে শহিদুলকে গলাধাক্কা দিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে বের করে দেন। তারা আরও বলেন, পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে বের করার পরেও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পড়ে থাকা একটি গাছের ডাল দিয়ে শহিদুলকে মারধর করেন ইন্দ্রজিৎ স্যার। এসময় শহিদুলের চিৎকারে বিদ্যালয়টির অন্যান্য শিক্ষকরা ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ব্যাপারে নির্যাতনের শিকার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অভাব অনটনের সংসারে ঠিকমতো খাওয়া হয়না। তারউপর বিদ্যালয়টি করোনার কারণে দীর্ঘদিন ছুটি থাকায় ইউনিফর্মগুলো নষ্ট হয়ে যায়। তারপরেও নষ্ট ইউনিফর্ম পড়ে স্কুলে আসতাম। তবে এটা নিয়ে সহপাঠীরা হাসাহাসি করতো। উপায় না পেয়ে অভাব অনটনের ভিতরেও আব্বুকে বলে দর্জির কাছে প্যান্ট তৈরী করতে দেয়। কিন্তু, দর্জি প্যান্ট না দেওয়ায় পরীক্ষার দিন আমি প্যান্ট পরে আসতে পারিনি। আমি স্যারকে বারবার বলেছি যে, স্যার আমি প্যান্ট তৈরী করতে দিয়েছি। তবে দর্জি এখনও প্যান্টটা দেয়নি। দর্জি প্যান্ট দিলে আমি পূর্ণাঙ্গ ইউনিফর্ম পরে স্কুলে আসবো। তারপরেও স্যার আমার কোন কথা না শুনে আমাকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করেছে। আর এ ঘটনায় আমার সহপাঠীসহ পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মামলার হুমকী দেয়া হয়েছে।

এব্যাপারে নির্যাতিত শহিদুলের বাবা কবির হোসেন ও মা রাহেলা খাতুন বলেন, ‘আমরা দিনমুজুর। একবেলা কাজ জুটলে খাওয়া হয়। কাজ না জুটলে অনাহারে থাকতে হয়। আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মতো যেন সন্তানকে দিন মুজুরের কাজ করতে না হয় সেকারণে শহিদুলকে স্কুলে পড়াই। স্কুলে পড়াকালীন সময়ে করোনার ছুটি থাকায় শহিদুলের জামা প্যান্ট নষ্ট হয়ে যায়। তারপরেও নষ্ট জামা প্যান্ট পড়ে শহিদুল স্কুল পড়তো। তবে সহপাঠীরা সেটা নিয়ে হাসাহাসি করায় শহিদ্লু একপর্যায়ে স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়। তারা আরও বলেন, পরীক্ষার আগে শহিদুলের জামা প্যান্ট তৈরী করতে দেয়া হয় দর্জির কাছে। তবে দর্জি জামা দিলেও প্যান্ট তৈরী করা শেষ না হওয়ায় সেটা দিতে পারিনি। এতে করে পরীক্ষার দিন শহিদুল ইউনিফর্মের জামা পরলেও প্যান্ট পরে স্কুলে যেতে পারেনি। এই অপরাধে আমার ছেলেকে পরীক্ষার কেন্দ্রের ভিতরে থেকে মারধর করে বের করা দেওয়া হয়েছে। আমরা এর ন্যায় বিচার চাই।

এব্যাপারে বিদ্যালয়টির অভিযুক্ত শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ সরকার বলেন, ইউনিফর্ম না পরে আসায় ওই শিক্ষার্থীকে অল্প মারধর করা হয়েছে। তবে নিউজ করার মতো মারধর করা হয়নি জানিয়ে ফোন কলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি। পরে একাধিকবার অভিযুক্ত শিক্ষককে ফোন দিলেও তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এব্যাপারে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শহিদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে বলে আমি জেনেছি। এবিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে লিখিতভাবে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ