HEADLINE
শ্যামনগরে ইটভাটায় জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে কাঠ সাতক্ষীরায় ঔষধ ফার্মেসী থেকে ৯ হাজার পিচ নেশাদ্রব্য ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ২ জমকালো আয়োজনে ঝাউডাঙ্গায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্ণামেন্ট উদ্বোধন যশোরের কেশবপুরে কোটি কোটি টাকার সোলার স্ট্রিট লাইট নষ্ট! ভূয়া এতিম দেখিয়ে বছরের পর বছর সরকারি অর্থ আত্মসাৎ! ঝাউডাঙ্গায় মেয়াদবিহীন ও লাইসেন্স ছাড়া চলছে বেকারী পণ্য বাজারজাতকরণ ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানে ফিরে আনা জরুরী ঝাউডাঙ্গায় গলায় ফাঁস দিয়ে কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যা নলতায় ডা: ছবুরের বাড়ীতে দুর্ধর্ষ চুরি, টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুট  স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নারী ও যুববান্ধব বাজেটের অন্তরায়
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন

ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানে ফিরে আনা জরুরী

বিশেষ কলাম / ৫৩
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০২২

জহিরুল ইসলাম শাহীনঃ ছাত্রছাত্রীদের আবার পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে হবে এ জন্য আমাদের কিছু করনীয় আছে। শিক্ষার্থীদের ভেতরে একটা ভ্রান্তমূলক ধারনা আছে যে বর্তমান সময়ে আর লেখা পড়া করা লাগে না, স্কুল কলেজে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়লে বা কোচিং করলেই হবে এবং পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে পারলেই খাতায় লিখি বা না লিখি এমনিতেই পাশ হয়ে যাবে। এই ভ্রান্তমূলক ধারনা থেকে আমাদেরকে আবার পূর্বের আবস্থায় ফিরে যেতে হবে। পরীক্ষার্থীরা খাতায় যে যত টুকু লিখবে তার উপর নাম্বার দিতে হবে। পাশের জন্য বা ভাল ফলাফলের জন্য প্রধান পরীক্ষক কর্তৃক বা বোর্ড কর্তৃক বা জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃক বা সরকার কর্তৃক যে চাপে থাকে পাশ করিয়ে দিতেই হবে। এই প্রবনতা থেকে শিক্ষকদের বের হয়ে আসতে হবে। আশির দশকে বা নব্বই এর দশকে একটা পাবলিক পরীক্ষায় দেখা যেত পাশের হার কোন সময় ১৭% আবার কোন সময় ১৯% আবার কোন সময় ৩০% বা সর্বোচ্চ ৪০/৪৫% এর বেশি হতো না। তখনকার ছেলে মেয়েরা পরীক্ষায় ভয় পেত, শিক্ষকদের সম্মান করতো এবং ভয়ে শ্রেনী-কক্ষে পাঠ দানে মর্ত থাকতো এবং মন যোগ সহকারে তারা বাড়িতে বা বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করতো । আশির দশকে বা নব্বই এর দশকে ব্যবহারিক পরীক্ষায় যে ২৫ নম্বর থাকতো সেখানে ১৫/১৬ নাম্বার পাওয়া খুব কঠিন হতো কিন্তু এখন কি দেখা যে পাবলিক পরীক্ষায় ফেল করে তাকেও ২৫ নাম্বর দেওয়া হয় । আমাদের সময় যে কোন একটা প্রশ্নের উত্তর ভাল নোট করে লেখা হতো , আমরা দেখেছি ২০ নম্বরের ভেতরে ১০ থেকে ১২ নম্বর দেওয়া হতো সব চেয়ে মেধাবী ছাত্ররা ব্যবহারিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ২০ পেত । সেখানে বর্তমান সময়ে একটা ছেলে বা মেয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষায় ভাল করুক বা না করুক তাদের কে ২৫ এর মধ্যে ২২/২৩ দিলেও শিক্ষকদের চাপে থাকতে হয়। এর ভেতরে স্কুল কলেজের কিছু অসাধু শিক্ষক থাকে তারা তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেটে বা কোচিং এ উদ্বুদ্ধ করে এবং খাতায় নাম্বার বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য এক ধরনের প্রতারনা করে। এবং পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে বা ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে ঐ সমস্ত শিক্ষকদের ইঙ্গিতে বহিরাগতদেরকে উদ্বুদ্ধ করে সৎ সাহসী ও আদর্শিক গুনের শিক্ষকদের উপর বাড়তি চাপ ও হুমকি প্রদান করা হয়। এর অনেক প্রমান ও আছে । তাই মোর্দা কথা হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে হলে, সৎ চরিত্রের অধিকারী হিসাবে প্রতিষ্টিত করতে হবে। দেশের গর্ব আগামী দিনের ভবিষ্যৎ বা কান্ডারী ভাবতে হবে তাদেরকে আবার পূর্বের ন্যায় পড়ার টেবিলে ফিরাতে হবে । এ ব্যাপারে অভিভাবক দের এবং শিক্ষকদেরকে ও অভাবনীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হবে। বিশেষ করে সমাজের বিভিন্ন পেশার এবং শ্রেনীর জনগনকে সজাগ ও সচেতন হতে হবে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্ব ও পালন করতে হবে। তারা প্রাইভেট পড়ার নাম করে বিভিন্ন অলিতে গলিতে বা বিভিন্ন মোড়ে আড্ডা মারছে বা বিড়ি সিগারেট গাজা বা ইয়াবা ও ফেনসিডিলের মত ভয়ঙ্কর নেশায় মত্ত হচ্ছে এবং জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং পরিবারকেও বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এমনকি মাদকাসক্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ছে । পথে ঘাটে কলেজে পড়ুয়া মেয়েদের উত্তক্ত করছে এবং অনেক মেয়েরা বুঝে ওঠার আগেই কারনে অকারনে ধর্ষনের শিকার হচ্ছে। ফলে সমগ্র সমাজ ব্যবস্থাটা ধংসের দ্বার প্রান্তে পৌছে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ধংসের আরেক টা কারন আমার মনে হয় অল্প বয়সে অভি ভাবকরা তাদের হাতে এ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে। এ্যানড্রয়েড ফোনের ভেতরে আসলে কি আছে এটা যদি আভিভাবক রা একবার ভাবতো তাহলে বুঝতে পারতেন বয়ঃসন্ধিকালের এই তরুণ তরুণীদের হাতে মোবাইল ফোন থাকলে তারা কতটা উশৃংখল হয় বা হতে পারে। সুতরাং আমার কাছে যে জিনিস টা স্পষ্ট সেটা হচ্ছে বেশীর ভাগ বাবা মায়ের কারণেই সন্তানরা নষ্ট বা ধ্বংস হচ্ছে এবং পড়ালেখা থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে যেটা শিক্ষকদের উপর অনেকটা চাপ পড়ে, ছেলে মেয়ে নষ্ট হয়ে গেলে বা লেখা পড়া না করলে বা প্রতিষ্ঠানে হাজির না থাকলে এক শ্রেণীর অভিভাবকরা শিক্ষকদের উপর দোষ চাপায়। এটা ঠিক না, সবাইকে একটা জিনিস ভালভাবে উপলদ্ধি করতে হবে যে পারিবারিক শিক্ষাই বড় শিক্ষা পারিবারিক শিক্ষা না থাকলে, পরিবারের মধ্যে শৃঙ্খলা না থাকলে, বাবা মা সন্তানের খোঁজ খবর না রাখলে সে সন্তান বড় হবে না, শিক্ষিত হতে পারবে না, সমাজে কিছু দিতে পারবে না, সমাজ তার কাছ থেকে কিছু পাবেনা, সমাজে তার কোন সম্মান নেই, ভালবাসার ও কেউ নেই এমন কি সবাই তাকে ঘৃণার চোখে দেখে, এটাই তো ঠিক। মনে রাখতে হবে যে একজন মা-ই সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক, সন্তান কি করে, কোথায় যায়, কোথায় থাকে, মন্দ কাজে আসক্ত কিনা, পড়ার টেবিলে সে পড়াশুনায় মনোযোগী কিনা, একজন মা চেষ্টা করলে সব কিছু বুঝতে পারে। আজকাল আমাদের অনেক সন্তানেরা মাথায় যে ভাবে চুল রাখছে বা সাইজ করছে যে ধরনের পোষাক পরে এমন কি মেয়েরাও যে ধরনের পোষাক পরিধান করছে, সেদিকে মা বাবা বা অভিভাবক যদি খেয়াল না করেন তাহলে সন্তান নষ্ট হয়ে যাবে এতে কোন সন্ধেহ নেই। সুতরাং আমার দৃষ্টিতে সকল অভিযোগ বাবা মায়ের উপর কারন তাদের সন্তানদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন যাপন করার জন্য তারাই দায়ী। এ দায়-দায়িত্ব কোন শিক্ষকের উপর পড়ে না। শিক্ষকরা এই দায়িত্ব নিতে পারে না। শিক্ষকের দায়িত্ব অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে শান্ত পরিবেশে ছাত্র-ছাত্রীদের সামাজিক শিক্ষার পাশাপাশি সিলেবাস অনুযায়ী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তার বক্তব্য ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে উপস্থাপন করা এবং তারা যাতে পাঠদানে মনোযোগী হতে পারে তেমন একটা ইতিবাচক পরিবেশ তৈরী করা। কোনটা ভাল, কোনটা মন্দ সমাজে ঐ শিক্ষার্থীর দায়িত্ব বা কর্তব্য কি, সে সম্পর্কে ও ভাল একটা ধারনা দেওয়া। যাই হোক মোর্দা কথা হচ্ছে বর্তমান সময়ে যে ভাবে আমরা পরীক্ষার মূল্যায়ন এবং খাতা পরীক্ষণ করি সেটা বাদ দিয়ে যদি আমরা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে পারি হয়তো আমরা আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কান্ডারী আমাদের সন্তানদের ভাল পথে ফিরিয়ে আনতে পারবো। আমাদের সময়ে আমাদের মত মেধাবী ছাত্ররাও ব্যবহারিক পরীক্ষায় ১০/১৫ নম্বর পেয়েছি ২৫ এর মধ্যে। খুব ভালো পরীক্ষা দিয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৪০ ও পেয়েছি। বাংলা বা ইংরেজিতে ৪০ থেকে ৫০ পেয়েছি। বিশ^বিদ্যালয়ে সম্মান শ্রেনীতে বা মাষ্টার্সে সবচেয়ে ভাল ফলাফল ২য় শ্রেণী। অর্ধেকের বেশী সেই সময় ৩য় শ্রেণী এবং প্রায় ছাত্রছাত্রীরা ফেল করতো। তখন কার শিক্ষার্থীরা স্যারদের ভয় পেত, সম্মানও করতো এবং ফেল করার ভয়ে বাড়ীতে এবং প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। চা, বিড়ি, সিগারেট, আফিম, গাজা এর নামও জানতো না, পান করা বা খাওয়া তো দুরের কথা। তাই আসুন আমরা আবার খাতা পরীক্ষণ করার ক্ষেত্রে, বিভিন্ন পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে আবারো একটু কঠোরতা অবলম্বন করি। তাহলে হয়তোবা আমরা আমাদের গন্তব্য পৌছাতে পারবো এবৎং একটা ভালো ভল পাবো। সুজলা সুফলা সোনার পরিবেশ ফিরে পাবো এবং পূর্বের ন্যায় সকল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা আবার প্রানবন্ত হয়ে উঠবে এবং শিক্ষকরা তাদের মর্যাদা ফিরে পাবে এবং অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে যোগ্য ও আদর্শ এবং সৎ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। এর জন্য আমাদের দেশের সকল শিক্ষাবোর্ডকে, প্রধান পরীক্ষকগণকে এবং সরকারকে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। তখনই সম্ভব হবে সকল বাধা অতিক্রম করে সুস্থ সন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে কাংখিত গন্তব্যে পদার্পন করা। তা না হলে কোন কিছু সম্ভব নয়। ভাল থাকি সুস্থ থাকি।

লেখকঃজহিরুল ইসলাম শাহীন
সহঃ অধ্যাপক
বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ
কলারোয়া, সাতক্ষীরা।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ