HEADLINE
শ্যামনগরে ইটভাটায় জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে কাঠ সাতক্ষীরায় ঔষধ ফার্মেসী থেকে ৯ হাজার পিচ নেশাদ্রব্য ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ২ জমকালো আয়োজনে ঝাউডাঙ্গায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্ণামেন্ট উদ্বোধন যশোরের কেশবপুরে কোটি কোটি টাকার সোলার স্ট্রিট লাইট নষ্ট! ভূয়া এতিম দেখিয়ে বছরের পর বছর সরকারি অর্থ আত্মসাৎ! ঝাউডাঙ্গায় মেয়াদবিহীন ও লাইসেন্স ছাড়া চলছে বেকারী পণ্য বাজারজাতকরণ ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানে ফিরে আনা জরুরী ঝাউডাঙ্গায় গলায় ফাঁস দিয়ে কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যা নলতায় ডা: ছবুরের বাড়ীতে দুর্ধর্ষ চুরি, টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুট  স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নারী ও যুববান্ধব বাজেটের অন্তরায়
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন

যুদ্ধ কোন সমাধান নয়, সমাধান আলোচনায়

জহিরুল ইসলাম শাহীন / ৬৯
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২২

রাশিয়া চাইলেই পারমানবিক ক্ষেপনাস্ত্র দিয়ে মাত্র তিরিশ মিনিটের মধেই ধবংস করে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকে। আবার গোটা ইউরোপকেও ধ্বংস করে দিতে পারে ওই অল্প সময়ের মধ্যে। ঠিক তেমনি মাত্র তিরিশ মিনিটের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে ধ্বংস করে দিতে পারে। ইউরোপ ও পারে রাশিয়কে ধ্বংস করতে। তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে যুক্তরাষ্টের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্টান টেসলারের প্রধান ও বিশে^র শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্টের ও ইউরোপের পারমানবিক সক্ষমতার কথাও বলেছেন। সব চেয়ে বিষ্ময় কর যে বিষয় সেটা হচ্ছে বিশে^র বেশীর ভাগ মানুষই এটা জানেন না। প্রথম বিশ^যুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধ থেকে গোটা পৃথিবীকে শিক্ষা নিতে হবে, কি হয়েছিল বা কি ঘটেছিল ঐ দুই টা বিশ^যুদ্ধে। পৃথিবীর বহু দেশ ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য মানুষ বিনা কারনে নিহত হয়েছে রক্তের বন্যা বয়েছে। পারমানবিক বোমা ও অস্ত্রের ঝনঝনানী মানুষ দেখেছে, উপলব্ধি করেছে। যুদ্ধের মুল কারন ‘জোর যার মুল্লক তার’ গায়ের জোরে সব কিছুই দখল করতে হবে। অভাবী ও অনুন্নত দরিদ্রদেশ গুলোকে আরো কুক্ষীগত করা এবং সারা পৃথিবীতে অস্থীতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা। এতে লাভ বা ক্ষতি কার আমরা সকলেই আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবো যুদ্ধ কোন ভাল ফল বয়ে আনে না, আলোচনার পথ সকলের জন্য উন্মুক্ত। আলোচনা করে বিভিন্ন ইসু নিয়ে বিভিন্ন যুুক্তি তর্ক দিয়ে যে কোন সমস্যার সমাধান করা যায়। বিশ^ায়নের যুগে প্রযুক্তি নির্ভর পৃথিবীতে পরাশক্তির দেশ আপনারাই বলছেন আমরা সারা পৃথিবীকে একাকার করে ফেলবো, কোথাও দারিদ্র থাকবে না, কোথাও অশান্তি থাকবে না, একে অপরের সাহয্য এগিয়ে যাব এবং মানবধিকার সুনিশ্চিত করবো। পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষের কাছে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেব অন্ন, বস্ত্র,বাসস্থান চিকিৎসা সুনিশ্চিত করবো। শুধু শান্তি আর শান্তি চারদিকে শুধু প্রশান্তি বিরাজ করবে কিন্তু কই সারা পৃথিবী তো হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত। এক দিকে দ্রব্য মুল্যের উর্দ্ধোগতি, তেলের দাম বৃদ্ধি, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, আবার অন্য দিকে ছোট ছোট দেশ গুলোর উপর বানিজ্যিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন স্থাপনার উপর ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করে একে বারে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এক সময় পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন যার নাম বর্তমান রাশিয়া পৃথিবীর মানচিত্রের চার ভাগের এক ভাগ। দীর্ঘ ৭১ বছর পর সেখানে গনতন্ত্রমনা এক রাষ্ট নায়ক বরিৎ ইয়ালৎ সিং এর নেতৃত্বে মিখাইল গর্ভচেভের কাছ থেকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যায়। বিশেষ করে মুসলিম দেশ গুলোর প্রভাব ও প্রবনতা অনেক বেশী এমন অবস্থা সৃষ্টি করে রেখেছে যেখানে পৃথিবীর ধ্বংশের শেষ দিন পর্যন্তও মিমংসার কোন পথ নেই। এক্ষেত্রে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, মিশর, সিরিয়া ইরাক তো আগেই শেষ, সোমালিয়া, বসনিয়া, কঙ্গো, লাইব্রেরীয়া সহ অনেক দেশ, সৌদি আরবের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের একটা নিবিড় সম্পর্ক ছিল সেটাও ইউক্রেন যুদ্ধ ও তেল নিয়ে সামান্য কথা বলার জন্য সৌদি আরবের উপর হুমকি দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ ইরান কে ও নিষেধাঙ্গার ভিতরে ফেলে দিয়েছে সেখানেও রাজনৈতিক অস্থিশীলতা সৃষ্টি করে দিয়েছে সরকারি ও বিরোধী দল গুলোর মধ্যে। প্রতিদিন ডজন কি ডজন নারী শিশু ও পুরুষ হত্যা করা হচ্ছে, গুলি করা হচ্ছে, নির্মমভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে ঐ পরাশক্তির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায়। দুই কোরিয়ার ভেতরে তো পারমানবিক যুদ্ধ না বাধলেও এমন একটা অবস্থা তৈরী করেছে যুক্তরাষ্ট্র যে উভয়ই যদি নদী পথে বা স্থল পথে মুখো মুখী হয় তাহলে কারর অস্তিত্ব থাকবে না। এদিকে ভারতের সাথে নানাবিধ কারনে অন্তর্দ্ব›দ্ব তাহলে বলুন ছোট ছোট দেশ গুলো যাবে কোথায়। পৃথিবীর সকল দেশে গনতন্ত্র¿ ফিরে আসবে, মানুষ তার অধিকার ফিরে পাবে, সবাই কথা বলবে স্বাধীন ভাবে কিন্তু সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে অনেক ছোট ছোট রাষ্ট্র ৯০ এর দশকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের নাম মুছে গেল পৃথিবীর মানচিত্র থেকে। এরপর আজীবন প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন, তার বিরুদ্ধে আর কোন নির্বাচন হবেনা। যতদিন তিনি বেচে থাকবে ততদিনই তিনি প্রেসিডেন্ট থাকবেন। তিনি যেটা বলবেন যেটা করবেন সেটাই আইন, কোন মানুষ কোন বিষয় নিয়ে বাদ প্রতিবাদ করতে পারবে না এটাই কি সমাজন্ত্র বা গণতন্ত্রের সংজ্ঞা। একই চিত্র বিশে^র আরেকটি পারমানবিক শক্তিধর দেশ গণ চীনের সেখানেও এই একই চিত্র সেখানেও কোন ভোট হবে না, কোন মিছিল হবে না, সেখানে জনগন স্বাধীন ভাবে কিছু বলতে পারবে না। তিব্বত তাদের, হংকং তাদের, তাইওয়ান ও তাদের। আবার বাংলাদেশকেও অস্থিতিশীল করতে চায়, ভারতের ও কিছু কিছু অঞ্চল দখল করতে চায়। তাহলে বড় বড় দেশ গুলোর মুখে গনতন্ত্রের কথা, বলবে এক আর কাজ হবে আর এক। ছোট ছোট দেশ গুলো কি করবে কর্তার ইচ্ছাই কর্ম, এছাড়া তাদের কিছু করার থাকেনা, অন্য দিকে বিশে^র প্রভু দেশ যুক্তরাষ্ট্র তারাতো সাহায্য সহযোগিতার নাম করে একে বারে সারা পৃথিবীতে ছোট ছোট দেশ গুলোর মধ্যে একটা রাজনীতির বিভাজন নীতি সৃষ্টি কওে চলেছে। একটা গ্রæপের সমর্থন নিয়ে কোন কোন সময় সরকার উৎখাত আবার কোন কোন সময় সরকারের পক্ষ নিয়ে বিরোধী দলের উপর দমন পীড়ন নীতি অব্যহত রেখেছে। কিছুদিন আগে রাশিয়া হুশিয়ারি উচ্চারন করেছে আমাদের উপর বেশি বাড়াবাড়ী করলে আমরা ইউক্রেনে পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনকে পৃথিবীর মান চিত্র থেকে চিরতরের জন্য নিশ্চিহৃ করে ফেলব। সারা পৃথিবীতে বিশ^যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে সাথে সাথে ফ্রান্স ও পাল্টা জবাব দিয়েছে তোমরা পুতিন পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করবা আর আমরা ঘরে বসে থাকব আমাদের কি পারমানবিক আস্ত্র নেই? এ দিকে যুক্তরাষ্ট্র সাথে সাথে রাশিয়া কে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, রাশিয়া তোমাকে অত্যন্ত ভয়বহ পরিনতি শিকার করতে হবে। যারা গনতন্ত্রের কথা বলছে, যারা শান্তির কথা বলছে, যারা জনগনের মানবতার কথা বলছে, যারা দরিদ্র দেশ গুলোর সাহয্য বা সহযোগিতার কথা বলছে, তারাই আবার সারা পৃথিবীকে ভয়াবহ পরিনতির কথা বলছে। তো ছোট ছোট দেশ গুলো কি করবে না যেতে পারছে রাশিয়ার দিকে না পারছে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে । আমরাও সমস্যায় আছি না পারি ভারতের সমর্থন করতে, না পারি গনচীনের সমর্থন দিতে। উভায় সংকটে আমাদের এই ক্ষুদ্র দেশ গুলো যদি একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে এটা পাগলামি ছাড়া কিছুই নয় ক্ষতি হবেতো নিজেদের। তবে ইউক্রেন ও রাশিয়া জুড়ে যে পরিস্থিতি বিরাজমান সেটাও আসলে পাগলামি, পাগলামি করতে করতে হয়তো বা বড় ধরনের অঘটন ঘটে যেতে পারে তখন সামাল দেওয়া কিছুটা কঠিন হয়ে পড়বে। যুদ্ধ বাধার পেছনে কারোর কারোর উস্কানি আছে বা ইঙ্গিত আছে। যে দেশ গুলোতে তেল গ্যাস স্যার বা বিভিন্ন খাদ্য শস্য মুজুত আছে তাদের অনেক সুবিধা হবে তারা পুজি বাদ থেকে আরও শক্তিশালি পুজিবাদীর দিকে বেগবান হবে। আর দরিদ্র দেশ গুলোতে বিভিন্ন দ্রব্য গ্যাস তেল স্যার ইত্যাদি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনেক অসুবিধা ভোগ করতে পারে এমন কি দুর্ভিক্ষের ও সম্মুখীন হতে হবে। বিশেষ করে তৃতীয় বিশে^র আমাদের মত গরীব ও ঘন জনবসতি দেশ গুলোর উপর ব্যাপক নেতি বাচক প্রভাব পড়বে যা কাটিয়ে উঠা কিছুটা অসম্ভব হয়ে দাড়াবে। এ মুহুতে বাংলাদেশ প্রতিটা পরিবারে খরচের পরিমান শতকরা ৪০ ভাগ বেড়ে গেছে। কাঁচা বাজারে ঢুকলে বিভিন্ন শাক সবজির দাম এ মুহুতে দ্বিগুন মাছ মাংস ও তাই কাপড় কাচা সাবান, গায়ে দেওয়া সাবান, শ্যাম্পু, পাউডার, ¯েœা, সব কিছুই সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে , সুতারাং ছোট ছোট দেশ গুলোতে মধ্যবৃত্ত, নিন্ম মধ্যবৃত্ত, ও দরিদ্র শ্রেনীর মানুষ গুলোকে বেচে থাকার সংগ্রাম করতে হবে। তাই কেউ কারোর ফাদে পা দিয়ে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় না নেমে পাগলামি না করে যুদ্ধে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার না করে একে অপরের সংগে মহড়ায় না যেয়ে পারষ্পারিক সোহার্দ্যপূর্ন পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে এখন ও সময় আছে ক্ষয় ক্ষতি না করে শান্তির টেবিলে বসে বিশ^ নেতারা শপথ নিন আজ থেকে আমরা যুদ্ধে জড়াবো না, যুদ্ধে যাবো না, যুদ্ধ কে না বলি। আমরা সকলেই মিলে সারা বিশ্বে বিশ^ শান্তি প্রতিষ্ঠিত করবো কোন লোক কে অনাহারে থাকতে দেব না আর্তমানবতার সেবাই আমরা নিজেকে নিয়োজিত করবো। ইউক্রেন প্রায় ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌছে গেছে। ঐখানে কেউ শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না। সবাই ভয় ভীতির মধ্যে আছে রাজধানী শহর কিয়েভ সহ অন্য শহর গুলোতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলো ধ্বংসস্তুপে পরিনতি হয়েছে। তাই আর কোন দেশকে যেনো ইউক্রেনের মত পরিনতি ভোগ করতে না হয় সেদিকে বিশ^ নেতাদের নজর দেওয়া উচিত। সারা বিশ^ কে বসবাস উপযোগী করার জন্য যুদ্ধেুর অস্ত্র তৈরি, অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে শান্তি ফিরে আনা হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা যুদ্ধের ফল কখনো শুভ হতে পারে না। শান্তি সকলেরই কাম্য হওয়া উচিত। তাই আসুন সকলের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি করে পারষ্পরিক স্বাধীনতার প্রতি মর্যদাশীল হয়ে সারা বিশ্ব শান্তির সুবাতাস বয়ে আনি। আমরা সকলেই মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করি তিনি যেন সারা বিশে^ মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বোধ সৃষ্টি করে চির শান্তি এনে দেন।

লেখকঃ জহিরুল ইসলাম শাহীন
সহঃ অধ্যাপক
বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ
কলারোয়া, সাতক্ষীরা।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ