শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন

কেশবপুরে মাদকের ব্যবসা ও সেবন যেনো থামছে না

কেশবপুর প্রতিনিধি / ২১৭
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০২২


যশোরের কেশবপুরে মাদকের ব্যবসা ও সেবন যেনো থামছে না। পুলিশি অভিযান চললেও এরা গোপনে চলিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা । নেশার টাকা যোগাতে ছিচকে অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। শিক্ষার্থীরা আসক্ত হয়ে পড়ায় অভিভাবক মহল চিন্তায়। শুধু চলতি বছরের মে মাস ও ৮ জুন পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন মাদক বিক্রির সম্ভাব্য স্থানগুলোতে হানা দিয়ে থানা পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের সদস্যরা মাদকদ্রব্যসহ ৬ ব্যক্তিকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা ও গাঁজা। পুলিশ বলছে কেশবপুরে মাদকের সঙ্গে যুক্ত হলে কোন ব্যক্তিই ছাড় পাবে না।

কেশবপুর শহর কেন্দ্রীক এলাকাসহ ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে উপজেলার মজিদপুর, বাগদা, দেউলি, প্রতাপপুর, শ্রীফলা, মঙ্গলকোট, চুয়াডাঙ্গা, কর্ন্দপপুর, আলতাপোল, হাসানপুর, টিটাবাজিতপুর, বুড়িহাটি, চিংড়া, সাগরদাঁড়ি, পাঁজিয়া বাজার, বাউশলা, ফতেপুর, আলতাপোল, সন্যাসগাছা ব্রীজেরমাথা ,গৃধরনগর ও পৌর এলাকায় প্রতিনিয়ত স্থানীয় ও বহিরাগত যুবকেরা এসে মাদক ব্যবসাসহ সেবন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সময়ে কেশবপুর থানা, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করে মাদক উদ্ধারসহ জড়িতদের আটক করলেও থামছে না মাদকের ছোবল।
জানা গেছে, কেশবপুর থানা পুলিশ গত গত ৮ মে উপজেলার দেউলি গ্রামের বিমল দাসের ছেলে পলাশ দাস (২৬) ও বিষ্ণুপদ দাসের ছেলেকে (২১) ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করে। যার মামলা নং- ৩। গত ৩১ মে উপজেলার আলতাপোল মীরপাড়া এলাকার লিয়াকত আলীর ছেলে ইজাজুল ইসলামকে (৩৫) ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার করে। যার মামলা নং- ১৫। গত ৬ জুন উপজেলার গৃধরনগর গ্রামের মৃত সাজ্জাত আলী গাজীর ছেলে মমিন উদ্দিনকে (৫২) ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার করে। যার মামলা নং- ৪। গত ৭ জুন উপজেলার ফতেপুর গ্রামের আবদুল গফফার শেখের ছেলে আক্তারুজ্জামানকে (৩২) ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার করে। যার মামলা নং- ৫। একই দিনে উপজেলার বাউশলা গ্রামের নফর আলী মোড়লের ছেলে শাহিনুর রহমানকে (২৫) ১২২ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ সাতক্ষীরা। যার মামলা নং- ৬।
কেশবপুর পৌর শহরের রাসেল হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলার মধ্যকুল এলাকায় এক মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর পলাশ বলেন, হঠাৎ করে মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীসহ উঠতি বয়সী যুবক। প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীসহ যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।
উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদের বিশ্বাস বলেন, মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছনে বটগাছ তলায়, বসুন্তিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার দিকে মাদক বিক্রেতা এবং সেবনকারীদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বোরহান উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, গত মে মাস ও ৮ জুন পর্যন্ত ৬ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের সাথে কোন আপোষ নেই। কেশবপুরে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ