বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন

কলারোয়ায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর উচ্ছেদের তথ্য সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের হুমকি : থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৩৩
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১

মুজিব শতবর্ষে উপলক্ষ্যে দু:স্থ ও অসহায়দের মাঝে ঘর বিতরণ কর্মসূচি আওতায় সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা তৈলকুপি গ্রামে নির্মান করা হয় ১৩টি ঘর। অপরিকল্পিত ভাবে এই ঘর নির্মান করে দু:স্থদের হাতে ঘর হস্তার করাই আগে ঘরগুলি ভেঙে পড়া আশঙ্কা দেখা দেয়, ফলে বসবাসের অনুপযোগী ৭টি ঘর গত ৩ জুলাই ভেঙ্গে দেওয়া হয়। অপরিকল্পিত ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নির্মিত ও উচ্ছেদকৃত ঘরের বিষয় নিয়ে গত ১৪ জুলাই সাতক্ষীরার এডিসি এম এম মাহমুদুর রহমান তদন্ত করিতে যান।

এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, স্থানীয় চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। কলারোয়া উপজেলার বিগত নির্বাহী অফিসার মৌসুমি জেরিন কান্তা ও স্থানীয় চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সীমাহীন দূর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অপরিকল্পিত ভাবে এই ঘরগুলি নির্মান করে।

অভিযোগ ওঠে  মূলত: পুকুর পাড়ে বাঁধ নির্মান ছাড়াই এই ঘরগুলি নির্মান করা হয়। এমনকি আশ্রয় প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের বাড়িতে যাওয়ার কোন রাস্তা নাই। প্রকল্পের ডিজাইন পরিবর্তন করে লে-আউট না করে এই আশ্রয় প্রকল্পের ঘর নির্মান করায় সুবিধাভোগীদের হাতে ঘর হস্তান্তর করার পূর্বেই ঘরগুলি ধসে পড়ার উপক্রম দেখা দেয়।

বসবাসের অনুপযোগী ঘরগুলি বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরামর্শে ৭টি ঘর ৩ জুলাই অপসারন করে পাশ্ববর্তী সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নে ভাদিয়ালী গ্রামে পুন:রায় নির্মানের কাজ শুরু করছেন। অপরিকল্পিতভাবে নির্মান করা ও ৭টি ঘর উচ্ছেদ বিষয় নিয়ে গত ১৪ জুলাই এডিসি এম এম মাহমুদুর রহমান   তদন্তকালে ব্যাপক অনিয়ম লক্ষ্য করেন এবং ইতিপূর্বে স্থানীয় চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাঁধ নির্মানের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আতœসাৎ করেন।

তিনি বাঁধ নির্মানের জন্য অর্থ বরাদ্দ নিয়ে কর্মসৃজন প্রকল্পে শ্রমিকদের দিয়ে নামমাত্র মাটির ভরাট এর কাজ করেন। এসকল অনিয়ম ও দূর্নীতির তথ্য এলাকাবাসী, এম এম মাহমুদুর রহমান এডিসি সাতক্ষীরা ও সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ করলে চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এর সন্ত্রাসীরা একই গ্রামের নাশকতা মামলার আসামী আফজাল হোসেন, ইকবাল, বারিক ও সালামসহ কতিপয় সন্ত্রাসী তদন্ত কর্মকর্তার সামনে সাংবাদিকদের লাঞ্চিত করে গালি-গালাজ করে, কলারোয়া প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রাননাশের হুমকি-ধামকি দেয়। এসময় সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যা: এম এ কালাম  (দৈনিক ভোরের কাগজ), কেএম আনিছুর রহমান  (দৈনিক সমকাল), গোলাম রহমান (দৈনিক অনির্বান) , সরদার জিল্লুর রহমান  (দৈনিক কালের চিত্র) , জাকির হোসেন (২৪ঘন্টা টিভি) ও রায়হান রাজু (দৈনিক দেশ সংযোগ) প্রমুখ।

এব্যাপারে কলারোয়া থানায় একটি জিডি করা হয়েছে, যার নং ৬৬৯, তাং ১৪/০৭/২০২১। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ