HEADLINE
কালিঞ্চী এ. গফ্ফার মাধ্যঃ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন বন্দে আদালতে মামলা বৈকারীতে ১’শ পিস ইয়াবাসহ চোরাকারবারি গ্রেপ্তার রাত পোঁহালেই দেবহাটা প্রেসক্লাবের নির্বাচন সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগ নেতাকে অস্ত্রকান্ডে ফাঁসিয়ে ভারতে পালালেন মূলহোতা নির্বাচন নিয়ে ভাবার কিছু নেই, আমরা গণতান্ত্রিক দল : সাতক্ষীরায় আ.ক.ম মোজাম্মেল হক কুলিয়ায় পানিতে ভাসছে কাফনের কাপড় পরিহিত লাশ সাতক্ষীরায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা: তদন্ত পিবিআইতে সাতক্ষীরায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়ী বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত কলারোয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ২৫ ইভটিজিং প্রতিরোধে আমাদের করণীয়
রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন

আশ্রায়ণ প্রকল্পের জায়গায়ও দূর্নীতির আশ্রয়!  

শেখ জাকির হোসেন / ১৭২
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ, ২০২২

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আশ্রায়ণ প্রকল্পর জায়গায়ও দূর্নীতির আশ্রয়  !  একই জায়গায় দুই প্রকল্প। অভিযোগ স্বয়ং প্রকল্প সেক্রটারীর। কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের কাবিখা,কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের কোনো কাজ না করই বরাদ্ধকীত সমুদয় টাকা প্রকল্প সভাপতি ও পিআইও’র মধ্যে আধা ভাগের মাধ্যমে আত্মসাতের খবর পাওয়া গেছে। সরজমিনে গিয়ে প্রকল্প গুলাতে কাজের কোনো আলামতই দেখতে পাওয়া যাইনি। সরকার যখন দূর্নীতি জিরো টলারেন্স নিয়ে আসার প্রাণপন চেষ্টা করছে  তখন প্রকল্প সভাপতি ও  উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দূর্নীতিতে চাম্পিয়ান হওয়ার অভিযাগ তুলছেন এলাকাবাসী। বাদ পড়নি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের আশ্রায়ণ প্রকল্পের জায়গায়ও দূর্নীতি করা  অভিযাগ জানাযায়,গত ২০২০ -২১ অর্থ বছর সম্পিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ অবকাঠামা রক্ষানাবেক্ষণ টিআর, কাজের বিনিময় খাদ্য ও কাজের বিনিময় টাকা কর্মসূচির আওতায় জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদ কয়কটি প্রকল্প বরাদ্ধ পায়। প্রকল্পগুলার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী স্বপ্নের আশ্রায়ণ প্রকল্পের জায়গায় টিআর প্রকল্পের প্রস্তাবনায় “ খার্দ্দবাঁটরা ভমিহীন ও গরীবদের পুনর্বাসনর জন্য নিচু জায়গায় মাটি ভরাট” প্রকল্পের বিপরীতে ৬২,০০০ টাকা বরাদ্ধ হয়। এ জায়গায় আশ্রায়ন প্রকল্প আছে। এছাড়া “জয়নগর খালের ধারে কাঁচা রাস্তা সংস্কার প্রকল্পের বিপরীতে ৬২,৪০০টাকা বরাদ্ধ হয়। ওই দু’টা প্রকল্পের সভাপতি জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদর সাবেক চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন আল- মাসুদ নিজে ছিলেন।  তিনি প্রকল্প গুলাতে একটি টাকারও কাজ করেননি বলে অভিযোগ তুলছেন স্বয়ং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সেক্রটারী জয়নগর ইউপি’র সাবেক মেম্বর বজলুর রহমান সরদার। তিনিসহ আশ্রায়ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা জানান বরাদ্ধকীত টাকায় এক ঝুড়ি মাটি পড়নি এখানে। সাবেক ওই ইউপি মেম্বার আরো জানান, তাঁর দিয়ে আশ্রায়ণ প্রকল্পের মোট ১৭টি ঘরর মধ্যে থেকে প্রথম ১০টি ঘরের ভীত ৮২,৪০০টাকার মাটি ভরাট করেনেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুলতানা জাহান।  দীর্ঘ সমায় পার হলেও ওই মেম্বরকে  টাকা পরিষধ করা হয়নি। জয়নগর গ্রামের রুস্তম আলী,আবু তালব,মানান মোড়লসহ অনেকই বলেন,শুধু এবার না, জয়নগর খালের ধারের রাস্তায় বিগত কয়ক বছরও মাটি পড়নি। এছাড়া ক্ষেত্রপাড়া গ্রামে কাবিখা প্রকল্পের প্রস্তবনায় “অজেত মোড়লের বাড়ী হতে বল মাঠ অভিমুখী রাস্তা সংস্কার” প্রকল্পর বিপরীতে ৪.৫০টন খাদ্য বরাদ্ধ হয়। এ প্রকল্পেরও সভাপতি জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন  আল- মাসুদ। তিনি এখানও এক ঝুড়িরও  মাটির কাজ করেননি বলে এলাকাবাসী জানান।এছাড়া উত্তর ক্ষেত্রপাড়া গ্রামে টিআর প্রকল্পের প্রস্তাবনায় “ ওসমান মোড়লের বাড়ী হইতে সাহা পাড়া অভিমুখী কাঁচা রাস্তা সংস্কার” প্রকল্পর বিপরীত ১,২৪,০০০ টাকা বরাদ্ধ হয়। উক্ত প্রকল্পের সভাপতি জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসন সদস্যা কোহিনুর বেগম । তিনিও এ প্রকল্পের একটি টাকারও কাজ করননি বলে অভিযোগ আছে। ওই সব প্রকল্প আদো কাজ না হলেও কলারায়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সুলতানা জাহান  প্রকল্প গুলোর বিপরীতে বরাদ্ধো সমস্ত টাকা উত্তালন করার সুযোগ করে দিয়েছেন। সরজমিনে ওই সব প্রকল্প গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পাধীন রাস্তা গুলোতে এক ঝুড়ি মাটি পড়েনি। মাটি পড়ার আলামতও নেই প্রকল্প গুলাতে। প্রকল্প এলাকার একাধিক লোকের সাথে কথা বলে তারা জানায়, দুই এক মাস নয়, দুই-চার বছরেও ওই সব রাস্তায় এক ঝুুড়ি মাটি ফেলনি কেউ। তারা আরাও জানান,সরকারি টাকায় রাস্তা গুলাতে কাজ হবে এমন খবরও রাখেনা তারা। অথচ বিগত কয়েক বছর ধরে বর্ষকালে রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপাযোগী হয়ে পড়ছে। এ প্রতিবেদককে উদ্দশ্য করে তারা বলেন,আপনার মুখ থেকে শুনছি  রাস্তায় সরকারি টাকা বরাদ্ধ ছিলা।  কি তাও খেলো বগিতে। এমনি ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। অভিযোগে জানাযায়, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুলতানা জাহান প্রকল্প সভাপতিদের সাথে আধা ভাগ ঘুষের টাকা নিয়ে প্রকল্প গুলো পরিদর্শন করেনি। নিজের ঘুষের টাকার ভাগ বুঝেনিয়ে ওই সব প্রকল্পের শতভাগ বরাদ্ধ উত্তোলনের জন্য ছাড় করিয়ে দেন। বিগত ২০১৪ সালর ১০ই আগষ্ট তারিখ ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কলারোয়ায় যোগদান করেন। নাম প্রকাশে অনিছুক কলারোয়ার অনেক ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা জানান, দীর্ঘদিন এক ষ্টশনে চাকুরী করায় কলারোয়ার পিআইও’র ঘুষের রেট অনেক বেশী। কলারোয়ায় প্রকল্প সভাপতিরা নয়, সরকারি টাকা নয়-ছয় হত সরকারি ওই কর্মকর্তাই যথষ্ট। এবিষয় টিআর প্রকল্পের সভাপতি কহিনুর বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার জানামতে প্রকল্প কাজ হয়েছিলো। প্রকল্প সভাপতি জয়নগর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন আল- মাসুদ প্রবাসে থাকায় তাঁর সাথ মুঠাফোনে যোগাযোগ হলে তিনি জানান, টুকটাক প্রকল্প কাজ হয়েছিলো সব কাজ হব কিভাব ? পিআইও’র যে রেট তাতে কাজ করার মতো ছিলনা। তবে উপজলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুলতানা জাহান ঘুষের টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, অসুস্থ জনিত কারনে তখন প্রকল্পগুলা পরিদর্শন করা হয়নি। অর্থবছর শেষ হয়ে যাছিলো বলে টাকা ছাড় করা হয়েছিলো।   প্রকল্প কাজ না হওয়ায় প্রকল্প সভাপতিদের কাছে বরাদ্ধর টাকা ফরত চেয়ে চিঠি ইস্যু হয়ছিলা কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে পিআইও না বলেন। পর্ব -১


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ