বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৪৯ অপরাহ্ন

ঝাউডাঙ্গায় শেষ মুহূর্তে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা, বেড়েছে ভোটারদের কদর

মোমিনুর রহমান সবুজ / ৪০৪
প্রকাশের সময় : সোমবার, ৮ নভেম্বর, ২০২১

আগামী ১১ই নভেম্বর আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নে শেষ মুহূর্তে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে প্রার্থীরা। প্রচারণার শেষ পর্যায়ে জমে উঠেছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। ভোটারদের মন জয় করার জন্য নানা কলা কৌশল নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। এবার এ ইউনিয়নে মোট ভোটার ২৮ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ হাজার ৫১ জন এবং নারী ভোটার ১৩,৯৮৭ জন।

সরেজমিনে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থান পোস্টারে ছেয়ে গেছে। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বাজছে নির্বাচনী নানান সঙ্গীতও। প্রার্থীরা ভোটের জন্য ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। এবারের ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, সাধারণ সদস্য (পুরুষ) পদে ৪১ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি কেন্দ্রে ১১ নভেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই গরম হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আজমল উদ্দিন। মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও আর এক স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যবসায়ী জয়দেব ঘোষ আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আজমল উদ্দিন প্রতীক পাওয়ার পরপরই পথসভা জনসভাসহ খুব জোরেশোরে প্রচার প্রচারণায় নেমেছেন। তবে নির্বাচনের সময় ছাড়া সারাবছরে তার তেমন পরিষদে বা জনগণের সাথে দেখা মেলেনা বলে অভিযোগ তুলেছেন অধিকাংশ ভোটাররা। তিনি বলেন, ১৯ বছর এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে চলেছি। আমার সময় ইউনিয়নবাসীর কখনো অতিরিক্ত ট্যাক্স দিতে হয়নি। এবার নির্বাচিত হতে পারলে সম্পন্ন ট্যাক্স মুক্ত ইউনিয়ন হবে। আর আমি কখনো অন্যায় দূর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়নি আর কখনো দেবো না। তাবাদে আমার দুই ছেলে এখন ডাক্তার, তাদের দ্বারা ইউনিয়নবাসী ফ্রী চিকিৎসা সেবা পাবে ইনশাল্লাহ। আশা রাখি পূনরায় ইউনিয়নবাসী আবারো নৌকায় আমাকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করবেন।

অপরদিকে মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পথসভা মতবিনিময়ের মধ্যে দিয়ে প্রচার প্রচারণায় অনেকটাই এগিয়ে। তবে তিনি বেশি স্বজনপ্রীতি দেখালেও গত পাঁচ বছর ইউনিয়নের দায়িত্বে না থেকেও সকল সময় সদালাপে জনগণের পাশে থেকেছে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। তিনি বলেন, ৫ বছর ইউনিয়নের দায়িত্বে থেকে জনগণের সুখে দুঃখে সকল সময় পাশে থেকেছি। তাছাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থাকা কালিন এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। তাছাড়া ইতিপূর্বে তার কর্মী সর্মথকদের প্রচার প্রচারণায় বাঁধাসহ মারপিটের অভিযোগ তুলেছেন নৌকার কর্মী সর্মথকদের বিরুদ্ধে। তবুও যদি ভোটাররা সঠিকভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন তা হলে আমার বিজয় নিশ্চিত।

আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যবসায়ী জয়দেব ঘোষ খুব জোরেশোরে প্রচার প্রচারণায় নেমেছেন। জনসমর্থমে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও নির্বাচনী প্রচারে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় শুধু তার দেখা মিলছে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। তিনি জানান, আমি নির্বাচিত হলে ইউনিয়নে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে। বঞ্চিত, অসহায় মানুষ আমার সাথে আছে। নির্বাচিত হলে ইউনিয়কে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবো। তবে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ইউনিয়নবাসী তাকেই নির্বাচিত করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এসব বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আবুল হোসেন বলেন, যে সৎ যোগ্য ব্যক্তি ও ইউনিয়নের উন্নয়ন করবে তাকেই আমরা নির্বাচিত করব। অন্যদিকে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্র এখন চলছে নির্বাচনী আলোচনা। নির্বাচনকে সামনে রেখে চারদিকে সাজ সাজ রব। পছন্দের প্রার্থীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক প্রচারণা। প্রার্থীরা ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে এবং দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, নির্বাচন অবাধ এবং সুষ্ঠু করার জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ