HEADLINE
শ্যামনগরে ইটভাটায় জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে কাঠ সাতক্ষীরায় ঔষধ ফার্মেসী থেকে ৯ হাজার পিচ নেশাদ্রব্য ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ২ জমকালো আয়োজনে ঝাউডাঙ্গায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্ণামেন্ট উদ্বোধন যশোরের কেশবপুরে কোটি কোটি টাকার সোলার স্ট্রিট লাইট নষ্ট! ভূয়া এতিম দেখিয়ে বছরের পর বছর সরকারি অর্থ আত্মসাৎ! ঝাউডাঙ্গায় মেয়াদবিহীন ও লাইসেন্স ছাড়া চলছে বেকারী পণ্য বাজারজাতকরণ ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানে ফিরে আনা জরুরী ঝাউডাঙ্গায় গলায় ফাঁস দিয়ে কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যা নলতায় ডা: ছবুরের বাড়ীতে দুর্ধর্ষ চুরি, টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুট  স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নারী ও যুববান্ধব বাজেটের অন্তরায়
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন

৭১’এর মুক্তিযুদ্ধে সাতক্ষীরার গনহত্যা

জহিরুল ইসলাম শাহীন / ৬৯৩
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১

১৯৭১ সালের ২০শে এপ্রিল পাক হানাদার বাহিনী সর্ব প্রথমে সাতক্ষীরাতে আসে এবং সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং এমনকি সুন্দরবন এলাকা পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা দের উপরে এবং নিরীহ নর নারীরর উপরে হত্যা যজ্ঞ চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে এবং চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের উপরে নিপীড়ন, নির্যাতন, অত্যাচার শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধসহ কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকর, উপন্যাসিক এবং সচেতন ব্যক্তিরা তারাও প্রতিহত করার জন্য এবং বিশেষ করে সাতক্ষীরা জেলাকে রাজকার আলবদর, আল শামস্ বাহিনী অবমুক্ত করার জন্য প্রানপন চেষ্টা করে এবং কিছুটা প্রতিশ্রæতি বদ্ধ হয়ে এক সাথে কাজ করতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী পাক হানাদার বাহিনীর সাথে খন্ড খন্ড ও যুদ্ধ ও লড়াই শুরু হয়। উক্ত যুদ্ধ ও লড়াইয়ে অনেকে পাকিস্থানি সেনাবাহিনী হতাহত হয় এবং আমাদের সাতক্ষীরা জেলার অনেক মুক্তিবাহিনী ও নিরীহ নর নারী ও হতাহত হয় এবং মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে। সর্বপ্রথমে রাজাকার আলবদর বাহিনীর সহযোগিতায় পাক সেনা বাহিনীরা আসার সময় যশোর সাতক্ষীরা সড়কের ঝাউডাঙ্গা বাজারে তাদের কনভয় পৌছালে ভারত গামী এক বিশাল শরনার্থী দলের ওপর তারা গুলি বর্ষন করে। তাতে বহু নারী পুরুষ ও শিশু হতাহত হয়। ২১ এপ্রিল ১৯৭১ পাক সেনারা সাতক্ষীরা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রিত শরনার্থীদের মধ্যে থেকে অধিকাংশকে পার্শ্ববর্তী দিনেশ কর্মকারের বাড়িতে নিয়ে বেনেট দিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে। একই দিনে তারা শহরের কাটিয়া এলাকার এ্যাড: কাজী মসরুর আহম্মেদ এর তার দ্বিতল বাড়ির পূর্বাংশ ধ্বংশ করে এবং তাকে ও তার শ্যালক শেখ মাসুদার রহমান কে গুলি করে হত্যা করে। হানাদার বাহিনী সুলতানপুর কুমার পাড়ায় একই পরিবারের তিন জনকে হত্যা করে এবং সাতক্ষীরা সিলভার পুবিলা প্রাথ: বিদ্যা: এর শিক্ষক আ: কাদের ও সাতক্ষীরা কোটের মোহরাপূন্য শাহাকে গুলি করে হত্যা করে। ২৯ এপ্রিল ১৯৭১ সাতক্ষীরা সীমান্ত ভোমরায় পাক বাহিনীর সংগে নতুন প্রশিক্ষন প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড যুদ্ধ হয় এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন সুবেদার আইয়ুব আলী। ১৬-১৭ ঘন্টা ব্যাপী যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর সুবেদার শামছুল হক, দেবহাটার আবুল কাসেম সহ ৪ জন মুক্তি যোদ্ধা শহীদ হন। এ ছাড়া দেবহাটা উপজেলায় ইছামতী নদীর তীরে টাউন শ্রীপুরে ক্যাপ্টেন শাহাজাহান মাষ্টারের নেতৃত্বে ৩২ জন মুক্তিযোদ্ধা বিশ্রাম করছিলেন। ভোরবেলা স্থানীয় মসজিদের একজন মোয়াজ্জেম ফজরের নামাজ শেষে মুক্তিযোদ্ধা দের দেখতে পেয়ে খান সেনাদের ক্যাম্পে খবর দেয় এবং সাথে সাথে খান সেনারা শাহাজাহান ক্যাপ্টেনের বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং যুদ্ধ শুরু হয়। এই ভয়াবহ যুদ্ধে শামদুজ্জোহা খান কাজল নাজমুল আবেদীন খোকন, নারায়ন চন্দ্র হোড় ইঞ্জি: আবুল কালাম আজাদ সহ ৮ জন মুক্তি যোদ্ধা শহীদ হন, আহত হন অনেকে। এ যুদ্ধে স. ম. বাবর আলী সাহসী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ এর নভেম্বর মাসের কোন এক রাতে মুক্তি যোদ্ধারা সাতক্ষীরা পাওয়ার হাউজ ধবংস করার লক্ষ্যে কাটা তারের বেড়া কেটে সিমানার মধ্যে প্রবেশ করে এবং ইঞ্জিন রুমে দুটো বোমা পুতে রাখে। কিছুক্ষন পরে বোমা দুইটি বিস্ফোড়িত হলে পাওয়ার হাউজের ইঞ্জিন ধ্বংস হয়। যার নেতৃত্ব দেন শেখ আব্দুল মালেক সোনা। ৩০ এপ্রিল ১৯৭১ কলারোয়া থানার মাহমুদ পুর, বামনখালী, মুরারীকাটী, নাথুপুরসহ অনেক জায়গায় হানাদার বাহিনীরা রাজাকারদের সহায়তায় হত্যাযজ্ঞ, বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ ও মালামাল লুট করে। জুলাই মাসের কোন এক সময় বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ৫ জন ছাত্র কলারোয়ার ভিতরে দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার পথে পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। তার মধ্যে দুই জন ছাত্র পালাতে পারলেও বাকী তিন মেধাবী ছাত্রদের হত্যা করা হয়। ১৯৮৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর কলারোয়াতে তাদের কবর পাকা করে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মান করা হয়েছে। এরপর ২৭ আগষ্ট ১৯৭১ হিজলদিতে পাক বাহিনীর সংগে মুক্তি বাহিনীর খন্ড খন্ড আকারে যুদ্ধ হয় যাহা হিজলদী যুদ্ধ নামে খ্যাত। এই যুদ্ধে বেশ কয়েক জন পাক সেনা নিহত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ অক্টোবর কলারোয়া থানার কাকডাঙ্গা এলাকায় দুই দিন ধরে প্রচন্ড যুদ্ধ হয় মুক্তিযোদ্ধা ও পাক হানাদার দের মধ্যে। উভয় পক্ষ গোলা বারুদ ভারী কামান সহ অতি আধুনিক সমরাস্ত্র ব্যবহার করে। উক্ত যুদ্ধে কয়েক জন বীর মুক্তিযোদ্ধা নিহত হন বলে জানা যায়, তবে ১৭ জন পাক সেনারা নিহত হন এবং তিন জন ধরা পড়েন। আবার ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ বালিয়াডাঙ্গায় উভয় গ্রপের মধ্যে যুদ্ধ হয় যুদ্ধে বহু পাকসেনা নিহত হয় এবং ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা নিহত হন। তালা থানাকে মুক্ত করার জন্য তদানীন্তন সময়ে মুক্তি যোদ্ধারা খুব সাহসী ভূমিকা পালন করেন। পাটকেল ঘাটা বাজারে একদল শরনার্থী সহ বহু মানুষকে এক সংগে হত্যা করে পাক সেনারা ২৫ এপ্রিল ১৯৭১ এ । ঘটনটি এখন ও পাটকেল ঘাটা গনহত্যা নামে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে। ১৬ই আগষ্ট পাক হানাদার বাহিনীর খাদ্য বোঝাই একটি লঞ্চ কপোতাক্ষ নদ দিয়ে যাবার সময় জালাল পুর গ্রামে অবস্থানরত মুক্তি যোদ্ধারা সেটি আক্রমন করে। প্রতিশোধ স্বরূপ জালালপুর গ্রামে ঢুকে খান সেনারা বহু বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয় এবং অনেক মানুষকে হত্যা করে। ২০ নভেম্বর ১৯৭১ সনে মাগুরায় তালা মুক্তি বাহিনীর সাথে রাজাকার ও পাক বাহিনীর মধ্যে একটি খন্ড যুদ্ধ হয়। সংবাদ পেয়ে ঐ যুদ্ধে আরো পাক সেনারা যোগদেয় এবং মুক্তি যোদ্ধারা ও প্রস্তুত থাকে কিন্তু দু:খের বিষয় এ যুদ্ধে বেশ কিছু মুক্তি যোদ্ধা শহীদ হন এবং কয়েক জন নিরীহ গ্রামবাসীকে হানাদার বাহিনী হত্যা করে রাজাকারদের সহযোগিতায়। অপর দিকে তালার পার্শ্ববতী আশাশুনি থানায় ১৪ই আগষ্ট ১৯৭১ নৌবাহিনীর একটি দল মংলা বন্দরে অবস্থানরত পাকিস্তানী অস্ত্র বোঝাই একটি জাহাজ মাইন দ্বারা ক্ষতি করে। ১৫ই আগষ্ট মুক্তি যোদ্ধারা নৌকা যোগে ভারত ফেরার পথে বুধহাটায় রাজাকার বাহিনীর সংগে যুদ্ধে সাতক্ষীরা শহরের মুক্তি যোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, বাগাআচাঁড়ার আফতাব উদ্দীন শহীদ হন এবং কয়েক জন ধরা পড়েন। পরবর্তীতে শহীদ সিরাজুল ইসলামের নামে সাতক্ষীরা শহরের একটি রাস্তার নামকরন করা হয়েছে। ১৬ই আগষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে শত্রæদের ও রাজাকারদের সাথে কেয়ার গাতি গ্রামে খোল পেটুয়া নদীর তীরে কয়েক ঘন্টা সম্মুখ যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা তাদের হাতে ধরা পড়ে। বীর মুক্তিসেনা স. ম. বাবর আলীর নেতৃত্বে গোয়ালিডাঙ্গা গ্রামে (আশাশুনী) রাজাকার দের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে কয়েক জন রাজাকার ধরা পড়ে ( অস্ত্র সহ)। বাকীরা পালিয়ে যায় কিন্তু যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা মনোরঞ্জন শহীদ হন। ৩০শে অক্টোবর মুক্তি যোদ্ধারা চাঁপড়া রাজাকার ক্যাম্প আক্রমনে কয়েকজন রাজাকার হতাহত হয়। খান সেনারা প্রথম বারের মত সাতক্ষীরা থেকে কালিগঞ্জ যায়। যাওয়ার পথে দেবহাটার পারুলিয়া বাজারে অজিয়ার রহমান নামক এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে। ফেরার পথে বাজারে বিভিন্ন দোকানে আগুন লাগিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। পারুলিয়া বাজারের সন্নিকটে অবস্থিত সাপমারা খালের উপর নির্মিত পুরানো কাঠের পুলটি ধবংসের জন্য নবম সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার লে: মাহফুজ আলম বেগের নেতৃত্বে মুক্তি যোদ্ধারা একটি সফল অভিযান চালায়। অভিযানে গ্রামটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে সাব সেক্টর কমান্ডর মুজাহিদ ক্যাপ্টেন শাহাজাহান মাষ্টারের নেতৃত্বে মুক্তি যোদ্ধারা শাঁকরা কোমরপুর পাক বাহিনীর ঘাটি আক্রমন করে। প্রচন্ড যুদ্ধে শত্রæ বাহিনীর ৫৬ জন সেনা নিহত হয়। কুমিরা গ্রামের গোলজার হোসেন ঐ যুদ্ধে নিহত হন। ঘটনা টি ভাতশালা যুদ্ধ নামে খ্যাত। ১৯৭১ সালের ১৩ জুন ক্যাপ্টেন নুরুল হুদার (সাব সেক্টর কমান্ডর) নেতৃত্বে ৩৫ জন মুক্তি যোদ্ধা বসন্তপুর (কালিগঞ্জ) পাকসেনা ক্যাম্প আক্রমন করে। এতে ২০ জন পাক সেনা মার যায় এবং পাক সেনা দের বহু অস্ত্র মুক্তি যোদ্ধাদের হাতে চলে যায়। জুলাই মাসের মাঝা মাঝি সময়ে খান জিয়া বিওপি ক্যাম্পের দখল নিতে পাকসেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে পাকসেনারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং তাদের মধ্যে থেকে চারজন আহত অবস্থায় ধরা পড়ে। এর পর ২৮ জুলাই কালিগঞ্জের উকশা সীমান্তে মুক্তি যোদ্ধাদের পুতে রাখা মাইন বিস্ফোড়নে কয়েকজন পাক সেনা মারা যায়। বীর মুক্তি যোদ্ধাদের ফাঁদে পড়ে খান সেনারা জীবন দেয় বলে ঘটনাটি উকশার মরন ফাদ নামে পরিচিত। ৪ সেপ্টেম্বর পিরোজপুর গ্রামে গড়ে ওঠা মুক্তি যোদ্ধাদের ঘাটি আক্রমন করতে আসা পাক বাহিনীর সদস্যরা মারা পড়ে। ১৯৭১ সনের ২৬ সেপ্টেম্বর সাব সেক্টর কমান্ডার লে: মাহফুজ আলম বেগ ও কমান্ডার শেখ ওয়াহেদুজ্জমানের নেতৃত্বে মুক্তি সেনারা কালিগঞ্জ রাজাকার ক্যাম্প আক্রমন করে ওই একই দিনে কালিগঞ্জ বাজারে অবস্থিত ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, কালিগঞ্জ শাখায় অপারেশন করে বেশ কয়েকটি বন্দুক হস্তগত করে। কালিগঞ্জ ওয়াপদা কলোনীতে অবস্থানরত পাক বাহিনীর উপর ২০ নভেম্বর ১৯৭১ মুক্তি যোদ্ধারা অতর্কিত হামলা চালালে প্রচুন্ড যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে পাক বাহিনীরা পিছু হটে তবে বেশ কিছু পাক সেনা মুক্তি যোদ্ধাদের হাতে বন্দি হয়। দিন টি কালিগঞ্জ বিজয় দিবস হিসাবে পালিত হয়। সাতক্ষীরা জেলা সহ সমগ্র বাংলাদেশের দক্ষিন অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সেক্টর কমান্ডার মেজর এম, এ, জলিল সহ ৯ সেক্টরের নেতৃস্তানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র ও অস্ত্র ভর্তি দুইটি লঞ্চ নিয়ে যাবার পথে শ্যামনগরের গারুরায় পাক নৌ বাহিনীর গানবোটের মুখে পড়ে। যুদ্ধের এক পর্যয়ে মুক্তি যোদ্ধাদের গোলা বারুদ ফুরিয়ে যায় এবং তাদের লঞ্চে পাক সেনাদের গোলার আঘাতে আগুন ধরে যায়। তারা নদীর ধারে নেমে পড়লে পিচ কমিটির লোকের হাতে ধরা পড়েন। মেজর এম, এ জলিল সহ কেউ কেউ কৌশলে পালাতে পারলে ও ১১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা কে নিষ্ঠর ভাবে হত্যা করা হয়। শ্যামগনরের গোপালপুরে পাক সেনা ও রাজাকারদের সাথে মুক্তি সেনাদের এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ১৮ই আগষ্ট দীবাগত রাতে পাক বাহিনীর একটি কোম্পানী মুক্তি যোদ্ধাদের উপর অতর্কিত আক্রমন করলে ৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। গোপালপুরে তাদের কবরে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান কর হয়েছে। এরপর সেপ্টেম্বর ৩, ১৯৭১ কয়েক জন খানসেনা হরিনগর স্কুলে যায়। খবর পেয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা নবান্দি ফকির তার দলবল নিয়ে পাক গান বোটের ওপর হামলা চালায় ফলে পাক সেনার ফিরে যেতে বাধ্য হয়। পরবর্তী ৯ সেপ্টেম্বর পাক বাহিনীর ও রাজাকাররা প্রতিশোধ নিতে হরি নগর বাজার ঘেরার করে ২৮ জন নিরীহ গ্রাম বাসীকে হত্যা করে এবং বাজারে লুটতারাজ ও অগ্নিসংযোগ করে অনেক ক্ষতি সাধন করে। একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা হিসাবে হরিনগর গনহত্যা দিবস হিসাবে ইতিহাসে লিখিত রয়েছে। ১২ অক্টোবর ভেটখালীর রাজাকার ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমন করলে কিছু খন গুলাগুলির পর রাজাকাররা ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে মুক্তিযোদ্ধারা ক্যাম্পটি উড়িয়ে দেয়। এই ভাবে স¦শস্ত্র যুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অকুতভয় সাহসী সৈনিকদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকসেনা বাহিনীর সদস্যরা সাতক্ষীরা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। মুক্ত হয় সাতক্ষীরা। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সংগ্রাম এবং সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে লক্ষ প্রানের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এদেশের সার্বভৌমত্ব, এদেশের স্বাধীনতা, এদেশের মুক্তি, এদেশের জাতীয় পতাকা, এদেশের বিজয় এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। আজ আমাদের পবিত্র দায়িত্ব যারা নিঃস্বার্থ ভাবে দেশের জন্য জীবন দান করলেন পঙ্গু হয়ে বা যুদ্ধহত হয়ে ঘরে বসে আছেন একান্ত নিরুপায় যে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের প্রতি সেবা দেওয়া, খোজ খবর নেওয়া। আমারা যেন কখনও ভূলে না যাই তাদের। প্রাপ্ত সম্মান মর্যাদা যেন আমরা তাদের দেই। তাদের ঋন কখনও আমরা শোধ করতে পারবো না। তাই আসুন আমরা সকলেই মিলে তাদের স্বপ্ন পূরন করার জন্য, সোনার দেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য, দুর্নীতি মুক্ত, কলংক মুক্ত, ঘুষ, মুক্ত মাদক মুক্ত এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশ গড়ে তাদের শান্তিতে পরকালে ঘুমানোর সকল চেষ্টা আমরা করি। এবং মুক্তি যোদ্ধাদের শেষ স্মৃতি চিহু কবর গুলো সংরক্ষনের জন্য জোর দাবি জানাই বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা স্বপক্ষের সরকারের কাছে।

লেখকঃ জহিরুল ইসলাম শাহীন
অধ্যপক, বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ
কলারোয়া, সাতক্ষীরা।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ