HEADLINE
সাতক্ষীরা সীমান্তে অপরাধ দমনে বিজিবি ও বিএসএফ এর পতাকা বৈঠক ঝাউডাঙ্গা হাইস্কুল জামে মসজিদের ওযুখানা নির্মাণ কাজ উদ্বোধন শ্যামনগরে বিদ্যুৎস্পর্শে কৃষকের মৃত্যু কাশ্মিরি ও থাইআপেল কুল চাষে সফল সাতক্ষীরার মিলন ঝাউডাঙ্গা সড়কে বাস উল্টে ১০জন আহত ঝাউডাঙ্গায় জমকালো আয়োজনে শুরু হচ্ছে পৌষ সংক্রান্তি মেলা কালিগঞ্জে শীতার্ত মানুষের পাশে ”বিন্দু” মাদ্রাসা শিক্ষক শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে ফের ছাত্র বলাৎকারের অভিযোগ স্বামী বিবেকানন্দ দর্শন আমাদের মুক্তির পথ : সাতক্ষীরায় ১৬০তম জন্মবার্ষিকী উৎসবে আলোচকরা আ’লীগ নেতার বাড়িতে ডাকাতি, ১৫ লাখ টাকা ও ৩৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট 
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০২:১১ অপরাহ্ন

ঝাউডাঙ্গায় বেতনানদী খননে দূর্নীতিসহ সোনালী ফসলের ব্যাপক ক্ষতির অভিযোগ

মোমিনুর রহমান সবুজ / ৩১৫
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ জুন, ২০২২

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গায় বেতনা নদী খননে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দে এই নদী খনন ১৬ নভেম্বর ২০২১ শুরু হয়ে ৩০ জুন ২০২২ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নামমাত্র কাজ হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, যেটুকু বেতনা নদী খনন হয়েছে তার বেশিরভাগ অংশই নদীর ভিতর ধ্বসে পড়ছে। ঝাউডাঙ্গা এলাকার কাঠের ব্রীজ থেকে সরকার পাড়া পর্যন্ত কোন কাজই করেনি। অথচ তার পরের অংশ থেকে নামমাত্র কাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে ব্যাপক অর্থের বিনিময়ে বাজারের উপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই অন্য অংশ থেকে কাজ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও পাউবোর অসাধু ব্যক্তিগণ। তাছাড়াও ঝাউডাঙ্গা এলাকার রাজবাড়ি হাচিমপুরে ব্যক্তি মালিকানাধীন ফসলসহ ফসলি জমিতে অনুমতি ছাড়াই মাটি ফেলে এবং দখল করে নদী খনন করছে। যার ফলে ওই এলাকার কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। জমিতে ফসলের তোয়াক্কা না করে তাদের খেয়াল খুশিমত তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে জমির প্রকৃত মালিকদের জমি নদীর সাথে মিশিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। জমির প্রকৃত মালিকরা বিনয়ের সাথে বলার পরও কোন কাজ হচ্ছে না। কিন্ত যারা টাকা দিচ্ছে তাদের কথামত কাজ করা হচ্ছে। কৃষকরা বলেন তাদের ফসল নষ্ট হলে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সু দৃষ্টি না দেওয়ায় তাদের ভিতর বোবা কান্নার সৃষ্টি হয়েছে। অনতিবিলম্বে তারা জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। যাতে তারা এ ধরনের ক্ষতি থেকে নিজেদেরকে রক্ষা পেতে পারে।

এ বিষয়ে রাজবাড়ি হাচিমপুর এলাকার কৃষক হারুলাল ঘোষ বলেন, এই এলাকার প্রায় ১০০ বিঘা ফসলি জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকদের দূর্নীতির কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। তারা আমাদের ফসল ইচ্ছাকৃতভাবে বিনষ্ট করছে। কিন্ত টাকার বিনিময়ে খাস জমিও রক্ষা করছে। প্রতিকার চাইতে গেলে নানাভাবে হুমকি প্রদান করছে। তাই নিরুপায় হয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। ওই এলাকার দুলাল ঘোষ ও পরিমল ঘোষ জানান, আমরা পৈতৃকভাবে এই জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি।কিন্ত পাউবো ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দূর্নীতির কারণে আমরা সবকিছু হারাতে বসেছি। বর্তমানে জমিতে বাংলার সোনালী আঁশ খ্যাত পাট থাকা স্বত্বেও কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করে পাটক্ষেতে মধ্যে মাটি চাপা দিচ্ছে এবং নদী থেকে উত্তোলনকৃত মাটি পাটের উপরে ফেলে পাট বিনষ্ট করে ফেলছে। যার কারণে আমরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি এবং ভবিষ্যৎ জীবন ধারণ নিয়ে শঙ্কিত। উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন আমাদের মত গরীব কৃষকদের সুদৃষ্টি না দিলে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এই এলাকার দায়িত্বে নিয়োজিত এনামুল ও আনন্দ মানুষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে বলে টাকা গ্রহণ করছে। ঝাউডাঙ্গা এলাকার আব্দুল আলীম বলেন, ১৬ নভেম্বর ২০২১ শুরু হয়ে ৩০ জুন ২০২২ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আজ শেষ দিন। তবুও কাজের ৩০ ভাগ কাজও শেষ হয়নি। অতিদ্রুত কাজ শেষ করে জনসাধারণের ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে জোর দাবী জানান।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ