রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন

বল্লী মুজিবুর রহমান মাধ্যঃ বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্টের চেষ্টা! জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৩২
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১২নং বল্লী ইউনিয়নের বল্লী মো: মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই প্রতিষ্ঠানের বহিষ্কৃত সহকারী শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুলসহ কয়েকজন সহযোগী শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ।

সরেজমিনে জানা যায়, শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুলের নেতৃত্বে সহযোগিরা ২০১৩ সালে বল্লী ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় তান্ডব চালিয়ে অশান্ত করে তোলে। তার নামে প্রায় ১০টি নাশকতার মামলা হয়। সেই সময় মামলা থাকার কারণে পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে এলাকা ছেড়ে তিনি ঢাকার রয়েল পাবলিকেশন্সের কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জোনে থাকতেন। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, একাধিক নাশকতা মামলার আসামি আজহারুজ্জামান মুকুল বিদ্যালয়ে প্রায় ৬ বছরের অধিক সময় অনুপস্থিত থেকে নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন। স্থানীয়রা জানান, একই ব্যক্তি কীভাবে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে এবং উভয় প্রতিষ্ঠান থেকে বেতনও উত্তোলন করে-এটা আমাদের বোধগম্য নয়। নতুন করে বিদ্যালয় নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে বহিষ্কৃত শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুলের নিকট সরাসরি কথা বলে জানতে চাইলে উত্তরে জানায়, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও জেলা আ’লীগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ও অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক যোগসাজস করে আমাকে বিদ্যালয়ে ফিরতে দেয়নি। এজন্য আমি ওই আ’লীগ নেতা ও প্রধান শিক্ষকের নামে হাইকোর্টে একটি মামলা করেছি এবং বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ আগামী মাসে শেষ হবে কিন্তু তিনি আবার চুক্তিভিত্তিক থাকবেন। বিষয়টি আমি জানতে পেরে উপরিমহলে জানানোর চেষ্টা করবো।

এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমার চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে স্থানীয় মানুষ এবং কর্তৃপক্ষ যদি পুনরায় আমাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন, সেক্ষেত্রে আমি চাকরি করবো কি করবো না, সেটি ভেবে দেখবো। এখন এবিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। তাছাড়া যে মুকুল যড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। কর্তৃপক্ষ অনেক বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে এবং সমস্ত ঘটনা ইতোপূর্বে ধারাবাহিকভাবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যা এলাকাবাসীসহ জানে। আমার নতুন করে কিছু বলার নেই,

এব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি বজলুর রহমান জানান, শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুল একাধিক নাশকতার মামলায় আসামী হওয়ার পর থেকে শুধু বিদ্যালয় নয়, আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে ফের অত্র এলাকা অশান্তের পায়তারা চালাচ্ছে। তিনি আরও জানান, একজন একাধিক নাশকতার মামলায় জড়িত থেকে দুই প্রতিষ্ঠানে একই সাথে চাকরি করে বেতন উত্তোলন করে কিভাবে? এলাকাবাসী বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ