HEADLINE
ভারত থেকে চিকিৎসা নিয়ে দেশের ফেরার সময় ইমিগ্রেশনে পাসপোর্টযাত্রীর মৃত্যু দেবহাটা প্রেসক্লাবের বার্ষিক সভায় বর্তমান কমিটির মেয়াদ বর্ধিত; সদস্য অন্তর্ভূক্তির লক্ষ্যে উপ-কমিটি ঝাউডাঙ্গায় ৭১ সালের বালিয়াডাঙ্গা যুদ্ধের স্মৃতি চারণে আলোচনা সভা ৪র্থ বার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত কলারোয়ার যুগিখালীর ইউপি সদস্য মফিজুল সাংবাদিক আজিজুল’র মৃত্যুতে সাতক্ষীরা সাংবাদিক সমিতির গভীর শোক সাতক্ষীরায় ধানক্ষেতে ইঁদুর মারা বিদ্যুতের ফাঁদে জড়িয়ে দু’জনের মৃত্যু বাংলাদেশ ভারত এর বন্ধুত্ব বিশ্বে রোল মডেলঃ নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী সাতক্ষীরায় গোপন বৈঠক কালে জামায়াতে ইসলামীর ১০ মহিলা নেতাকর্মী আটক ঐতিহ্যবাহী গুড় পুকুরের মেলা উপলক্ষে মাধবকাটি বলফিল্ড মাঠে উৎসবের আমেজ পরীক্ষার সময় পরিবহন চলা নিয়ে নিশ্চিত নয় জবির পরিবহন পুল
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় জন্ম ভূমি

জহিরুল ইসলাম শাহিন / ২২৫
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১

কোন দেশকে অন্য কোন পরাশক্তি সম্পন্ন দেশের হাত থেকে মুক্তি পেতে যদি অবিরাম যুদ্ধ করতে হয়, প্রচুর রক্ত ঝরাতে হয় অনেক জীবন দান করতে হয় বা পঙ্গুত্ব বরন করতে হয় বা নিপিড়ীত নির্যাতিত হতে হয় এবং সর্বশেষ ইজ্জত বিলিয়ে দিতে হয়, সব কিছুর বিনিময়ে যদি স্বাধীন হয় তবে সেই দেশটিই বিশ্বের দরবারে একটি ঐতিহাসিক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বিবেচিত হয় এবং ঐ স্বাধীন দেশটাই প্রিয় জন্মভূমি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তাই আজ ব্রিটিশ উনবিবেশ থেকে আলাদা এবং পাকিস্তান থেকে আলাদা তৃতীয় বিশ্বের এক বিশাল জনসংখ্যা বিশিষ্ট দারিদ্রপীড়িত একটি দেশ জন্ম গ্রহন করলো ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যার নাম বাংলাদেশ। আর এই কারনেই দেশটি আমাদের কাছে অতি প্রিয় এবং আমাদের প্রিয় জন্মভূমি। এক সময়ের শস্য শ্যামলা সুজলা সুফলা, নদী মাতৃক এবং পাহাড় বেষ্টিত এবং বিশ্বের নামকরা ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট এ আচ্ছদিত এবং সাগর সংলগ্ন এ বাংলাদেশ পথ পরিক্রমায় বর্তমান সময়ে তার নিজ গতি লক্ষ্য, উদ্দেশ্যে এনেছে অনেক পরিবর্তন। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রত্যাশা অনেক। প্রায় সুদীর্ঘ দুইশত বছর ধরে ব্রিটিশ শাসনের যাতাকলে নিষ্পেষিত হয়েছে বাঙালী জাতি। এদেশের কৃষি কালচার হয়েছে ভুলুন্ঠিত। পদে পদে লাঞ্চনা, বঞ্চনা, শোষন, শাসন এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালী বার বার প্রতিবাদ মুখর হয়েছে। যার ফলশ্রæতিতে বিশ শতকের মাঝা মাঝি পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু তাতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব বদল ছাড়া বাস্তবে কিছুই পাওয়া যায়নি। ব্রিটিশ শাসনের অবসানে জগদ্দল পাথরের মত পাকিস্তানিরা চেপে বসে বাঙালীর বুকে। আঘাত আসে বার বার বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির উপর। কিন্তু সংগ্রাম থেমে থাকেনি। ভাষার জন্য উৎসর্গিত হল বুকের তাজা রক্ত। সেই রক্ত মাখা পিচ্ছিল পথেই আসে একাত্তরের মহান মুক্তি সংগ্রাম। ৩০ লাখ মানুষের জীবন, দুই লক্ষ মা বোনের ইজ্জত এবং কোটি কোটি টাকার সম্পদের বিনিময়ে অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হল বাঙালী জাতির প্রত্যশিত স্বাধীনতা। তাই এদেশ এতটাই প্রিয় আমাদের কাছে। আগামী ভবিষ্যত রচনা করে বিশ্বের মানচিত্রে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি মাথা উচু করে দাড়াক, এটাই হোক আমাদের শপথ। দেশটাকে উন্নত দেশের সাথে তুলনা করতে হলে প্রথমত দরিদ্রতা উত্তরনের পথ খুজে বের করতে হবে, ভয়াবহ জনসংখ্যা বিষ্ফোড়নের মারাতœক প্রতিক্রিয়ায় দিন দিন বাড়ছে বেকার সমস্যা। এই বেকার সমস্যার পথ রোধ করতে হবে এবং বিশেষ করে যুবকদেরকে বিশেষ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করতে হবে, ছায়াশীতল শান্তির নীড় পল্লী বাংলার মানুষকে শিক্ষার সুযোগ করে দিতে হবে। সে শিক্ষা হবে কারিগরী শিক্ষা, বৃত্তিমুলক শিক্ষা এবং বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী প্রনয়ন করতে হবে যার মাধ্যমে গ্রাম থেকে দরিদ্রতা চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব হবে। গ্রাম গঞ্জ থেকে মানুষ আজ শহরে ভিড় করছে একটু উপার্জনের আশায়। একটু সচ্ছল জীবনের প্রত্যাশার কারনে। শিল্প কল কারখানা, বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান গার্মেন্টস সবই আজ শহরে অবস্থিত। গ্রামে গঞ্জেও যদি আজ পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের শিল্প প্রতিস্থাপন করা যায় তবে মানুষ শহরের দিকে ভিড়তো না বরং গ্রামে থেকেই তারা তাদের কারিগরি শিক্ষার এবং কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ লাভ করে আজকের গ্রামে বিভন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারতো। শহরের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা আজ গ্রামে বসেই সবাই অর্জন করতে পারতো। গ্রামই হয়ত বা একদিন শহরে রূপ নিত। বিশ্বের অত্যন্ত উন্নত দেশ গুলো আজ শহরের ন্যায় গ্রামে ও বিভিন্ন ধরনের শিল্প কল কারখানা প্রতিষ্ঠিত করেছে বিধায় তারা দরিদ্রতা মুক্ত, বেকার মুক্ত দেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদের দেশে গ্রাম ও শহরের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য খুজে পাওয়া যায় না। সুতরাং বিশ্বের উন্নত দেশ গুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন শতকের তৃতীয় দশকের শুভলগ্নে বাংলাদেশ ঐ ধরনের বিভিন্ন সমস্যা কাটিয়ে সুন্দর সুখময় নতুন বাংলাদেশ অর্জন করবে এটাই আজ আমাদের সাধনা এবং সপ্ন। উপর্যুক্ত শত শত সমস্যার মাঝে ও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে। বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের চেতনা ধারী বাংলাদেশ বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের পাশে দাড়িয়েছে সব সময়। আন্তর্জাতিক বহির্মন্ডলে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে এবং হচ্ছে। বহুজাতিক বাহিনীতে বাঙালী সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর অংশগ্রহন সাইপ্রাস, নামিবিয়া, সিয়েরালিওনে, লাইব্রেরী, কম্বো, সোমালিয়াসহ সৈন্য প্রেরন, ফিলিস্তিন সমস্যায় জোরালো বক্তব্য প্রদান, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য জাতিসংঘে বার্তাসহ উন্নত ও প্রভাবশালী দেশগুলির সাথে যোগাযোগ রাখা, বৈশ্বিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য জোরালো বক্তব্য প্রদান এবং সারা পৃথিবী থেকে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের ডাক এবং বিভিন্ন বিপর্যয়ের সমস্ত সহযোগিতার হাত বাড়ানো, ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মর্যাদা বেড়েছে বহুগুনে। বাংলাদেশ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে এবং সেই সাথে আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার ২১শে ফেব্রæয়ারী কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান একটি অনন্য সাধারণ ঘটনা। বিশ্বময় বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে পারা বাঙালি জাতির এক গৌরবের ব্যাপার। ক্রিড়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ করে ক্রিকেটে বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ আরেকটি মাইল ষ্টোন স্থাপন করেছে। সারা বিশ্ব আজ কেপে উঠেছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সোনার ছেলেদের হুংকারে এবং সম্প্রতি অষ্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে টি২০ ক্রিকেটে অবিষ্মরনীয় জয়। এ সমস্ত সোনালী ইতিহাসের মনি কোঠায় পা রেখেই একবিংশ শতকে বাংলাদেশের পদচারনা এবং ভাবমুর্তি আরো তাৎপর্যময় হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। এবং সুগভীর নিবিড়তায় বাঙালী জাতি সদর্পে বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাড়াবে এটিই হোক আজ আমাদের কাম্য। আমাদের প্রিয় দেশ, প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ আতœপ্রত্যয় ও আতœপ্রচেষ্টা করা একদিন আতœ প্রতিষ্ঠা লাভ করবে এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ হবে। জন সংখ্যাকে জনশক্তিতে রুপান্তরিত করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক উন্নয়ন সাধন করে দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে হবে। রাজনীতির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ বিশ্বে চির উজ্জ্বল। কারন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানর মত নেতার এই দেশে জন্ম এবং অত্যন্ত নিঃস্বার্থ, নির্লোভ এবং উদার রাজনীতির কারনে তিনি বিশ্বের দরবারে বিখ্যাত রাজনীতিবিদদের মধ্যে তিনি অন্যতম প্রধান। এছাড়া মাওলানা ভাষানী, এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী নিজ মহিমায় সমুজ্জল, উনাদের মত নেতাদের স্মৃতিচারন করে ও আদর্শকে সামনে রেখে বাংলাদেশ একবিংশ শতাব্দীতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। গড়ে তুলতে পারবে স্বপ্নের স্বনির্ভর বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় জন্মভূমি হবে দূর্নীতিমুক্ত, শোষনমুক্ত, অন্যায় ও অর্থনৈতিক বৈষম্যমুক্ত। এদেশে আর কোন নারী তার সম্ভ্রম হারাবে না, নির্যাতিত হবে না, ধর্ষিত হবে না, সবাই প্রকৃত মানব সন্তানের মত বেড়ে উঠবে, অনাহারে বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না একজনও, দূর্নীতি হবে না, মাদক সেবন করবে না কেহ, সন্ত্রাসী মনোভাব থাকবে না কারোর ভিতর, জঙ্গীবাদ দের স্থান দেবে না কেহ। এক কথায় আমাদের প্রিয় জন্ম ভূমি বাংলাদেশ একদিন হয়ে উঠবে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য প্রধান গর্বিত দেশ।

লেখকঃ জহিরুল ইসলাম শাহিন
সহকারি অধ্যাপক, বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ
কলারোয়া, সাতক্ষীরা।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ