HEADLINE
১৯ নারী ৩ বছর পর বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশে ফেরত পুজামন্ডপ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ভাংচুরের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন পাটকেলঘাটায় যাত্রীবাহি বাস খাদে পড়ে সুপার ভাইজার নিহত : আহত ১০ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী আজ দীর্ঘ ১০ বছর পর অবশেষে সাতক্ষীরার নিউ মার্কেট’র জমির মামলার রায় দিল আদালত সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগের সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা আশাশুনির ৩ ইউনিয়নের ১০ হাজার পরিবার আবারও পানি বন্দী শ্যামনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মা ছেলে আহত সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সম্প্রীতি রক্ষা দিবস পালিত মথুরাপুরের জয়নাল বেকারীতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাবার
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন

একবিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশ

জহিরুল ইসলাম শাহিন / ৬৪
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১

ইতিহাস কোন আইন মানে না। কোন নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয় না। যে কেহ ইচ্ছা করলে বদলাতে বা পরিবর্তন করতে পারে না। গত শতাব্দীতে কি ঘটলো তাহা ঐ শতাব্দীর ইতিহাস। একবিংশ শতাব্দীতে কি ঘটলো বা কি ঘটবে বা কি ঘটতে যাচ্ছে তা বর্তমান শতাব্দীর ইতিহাস। ইতিহাস ইতিহাসই। চির দিনের জন্য স্মরনীয় হয়ে থাকে, পৃথিবীর জন্ম লগ্ন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত সব কিছুর মধ্যেই টিকে থাকে। অতীতের পাঠকগন থেকে শুরু করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এর পাঠকদের ভিতর বিদ্যমান থাকবে, এটাই ইতিহাস । যাই হোক আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যক্তি, আমি বর্তমান সময় থেকে শুরু করে একবিংশ শতাব্দীর শেষ দিন পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ কতদুর পৌছাতে পারে সে বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। তবে অনেক কিছুর পরিবর্তন হবে বা হচ্ছে এটা বলা যায়। বিগত শতকের গোড়ার দিকে কেহ কল্পনা করেনি বিশ শতকের মাঝা মাঝি সময়ের মধ্যে ভারত বর্ষে ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যের গৌরব উজ্জল সূর্য পশ্চিমা আকাশে অস্তমিত হবে। একশত বছর আগেও কেহ কল্পনা করেনি যে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত মানুষ এত কাছা কাছি আসবে, একে অপরের সংগে বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে, কেহ ভাবতেও পারিনি যে টিভি, ভিডিও, টেপ রেকর্ডার, ভিসি আর, সুপার সনিক প্লেন, ডিস এন্টেনা, স্যাটেলাইট চ্যানেল, ইন্টারনেট এবং কম্পিউটারের মত যন্ত্র আবিষ্কারের কথা। তাই ২০০১ থেকে ২১০০ সাল পর্যন্ত এবং এর মধ্যে বাংলাদেশের চেহারাটা আসলে কেমন হবে এবং কিভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, তা অনুমান করা একেবারে অসম্ভব, আমরা কি কখনও ভেবেছিলাম যে মাত্র একাবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ডিকেডের ভিতরে নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মান করবে? চ্যালেঞ্জে সত্যিই বাংলাদেশ জয় লাভ করেছে। মানুষ কল্পনা প্রবন, ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবে। আমরাও দেশ প্রেমিকরা মুক্তিযোদ্ধার সোনার সন্তানেরা এবং বাংলাদেশের সূর্য সৈনিক জনগন আশায় বুক বেধে বর্তমান একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবি। একবিংশ শতাব্দীকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য এবং গৌরবান্বিত করে গড়ে তোলার জন্য বিশ্বজুড়ে বিশ্বের প্রখ্যাত নেতারা প্রস্তুত নিচ্ছে। যদিও বিশ্ব এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে একটা উন্নত বিশ্ব এবং অন্যটি অনুন্নত বিশ্ব। উন্নত বিশ্বের দেশগুলি জ্ঞান-বিজ্ঞানে, মেধায়, প্রতিভায়, শিক্ষা-দিক্ষায়, চেতনায়, ভাবনায়, কল্পনায় এবং ঐশ্বর্য সমৃদ্ধিতে পূর্ণতা লাভ করেছে। তারা আজ সব ধরনের স্বপ্ন পূরনে এবং সুখ লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। অপরদিকে অনুন্নত দেশ গুলোর অধিকাংশই দারিদ্র সীমার নীচে অবস্থান করছে। শিক্ষা দীক্ষায় জ্ঞান বিজ্ঞানে কোন দিকেই অনুন্নত দেশ গুলোর অগ্রগতি নেই। অনুন্নত দেশ গুলোর জনসাধারণ হাজার হাজার সমস্যার যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে। উন্নত দেশগুলির সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া তাদের অস্তিত্ব টিকে রাখাই আজ বড় কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত দেশ গুলোর মধ্যে একটি দরিদ্রতম দেশ। বাংলাদেশ আজ এ দারিদ্র্যের অভিশাপ মাথায় নিয়েই একবিংশ শতাব্দীর সাগর পথে হাঁটতে শুরু করেছে। আমরা মনে প্রানে বিশ্বাস করি এই শতাব্দীতে বাংলাদেশ হয়তবা অতি সহজেই একটি গৌরবের স্থান দখল করে নিবে যদি চলার পধ সুগম হয়। অসম্ভব বলে কোন শব্দ নাই শুধু দরকার দৃঢ় মনোবলের। আমরা জানি বাংলাদেশের মাথার উপর অসংখ্য বোঝা বা সমস্যা চেপে বসে আছে। বিশ্বে যত গুলি ঘনবসতির দেশ আছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম প্রধান। বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হলো অধিক জনসংখ্যার বিষ্ফোড়ন। ক্ষুদ্রায়তনের এ দেশটির জনসংখ্যা এখন প্রায় সতের কোটি। বিপুল জনসংখ্যার এখন ও প্রায় ৩০ ভাগ জনগন নিরক্ষর তাই তারা জাতির বোঝা। স্বাক্ষরতার হার বেশী না, দারিদ্রের অভিশাপ, অনগ্রসরতার পিছুটান, আধুনিক প্রযুক্তির অবর্তমানতা, পরিবেশ দূষন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ঘুষ দূর্নীতি, পানি সংকট, নদীর নাব্যতা হ্রাস প্রভৃতি মিলিয়ে দরিদ্রতম দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ক্রমাগত নি¤œমুখী।
বৈদেশিক সাহায্য ছাড়া দেশ চলে না। দেশের ঘাড়ে চেপে আছে বিপুল পরিমান ঋণের বোঝা। দাতা গোষ্ঠীর অযৌক্তিক শর্ত সমূহের করাল গ্রাসে জাতি আজ অনেকটা পঙ্গু। কর্মহীন শিক্ষানীতির ফলে দেশে বেকার সমস্যার সংখ্যা অনেক বেশী। দক্ষ জনশক্তির সংখ্যা ও মোটা মুটি কম। যে শিক্ষা জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে বা সম্পদে পরিণত করতে পারে সে ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের দেশে অপুতল। তাই বর্তমান শতাব্দীতে এ নৈরাশ্যজনক অবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে আমাদেরকে। সমগ্র বিশ্ব যখন বিচিত্র কৌশলে বর্তমান শতাব্দীর অগ্রগতির বিস্ময়কর সম্ভাবনায় অগ্রসর হচ্ছে, এ অবস্থায় আমাদের কে স্থবির হয়ে বসে থাকলে চলবে না। বিশ্বের উন্নত স্বয়ং সম্পূর্ন দেশ গুলোর সাথে তাল মিলিয়ে যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিজ্ঞা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সংগে অগ্রসর হতে হবে জাতীয় জীবনের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সুপরিকল্পিত ভাবে। দারিদ্র বিমোচনের পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য শিক্ষা দীক্ষার দ্রæত অগ্রগতি সাধন করতে হবে, বেকারত্বের অভিশাপ দুর করার জন্য সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধি অর্জন করতে হবে, উন্নত বিশ্বের দেশ গুলোর সংগে সুন্দর সম্পর্ক সৃষ্টি করে। দেশের জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিনত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সংগে সমঝোতার মাধ্যমে পানি বন্টনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে আমাদের কৃষির জন্য অনেক উপকার হবে নতুবা কৃষিতে আমাদের অনেকটা হুমকির মধ্যে পড়তে হবে যদিও সরকার বারবার সম পরিমান বন্টন চুক্তি ভারতের সংগে করে আসছে কিন্তু উপযুক্ত পরিমান বা নায্য হিসাব আমরা পাচ্ছি না। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজমান সেটা যদি একটা স্থিতিশীল পরিবেশের ভিতরে আনা না যায় তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই আভ্যন্তরীন সমস্যা সমাধান করা সম্ভবপর হবে না। তাই দলমত নির্বিশেষে সকলেই একসংগে বসে একই ধরনের মতামত পোষন করে একটি সুন্দর সুখকর এবং স্বস্তির সমঝোতা আবশ্যক। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ সরকার এবং তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বদান জনগনের কাছে অত্যন্ত আস্থাভাজন পরিবেশ বান্ধব প্রধান মন্ত্রী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা দেশ দরদী জননী শেখ হাসিনা একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কার্যক্রম শুরু করেছেন। বাংলাদেশ যদিও একটি ক্ষুদ্র দেশ, বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন নয় অতি অল্প সময়ের মধ্যে জননেত্রী বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বে যথেষ্ট পরিচিতি লাভ করেছে। বিশ্ব সংস্থাগুলোর সাথে বাংলাদেশ এ মুহুর্তে বেশ ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রসারের ফলে বিশ্বের নানা দেশের মানুষ পরস্পরের অনেক কাছাকাছি এসেছে। বিশ্ব নেতৃত্ব যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তার সংগে তাল রক্ষার জন্য বাংলাদেশেও কিছু পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে যাহা একবিংশ শতাব্দীকে অর্থবহ করে তুলতে পারে। প্রতিবেশী দেশ গুলোতে যেমন ভারত, ভূটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, মায়ানমার যে উন্নয়নের ¯্রােত ধারা বইছে বাংলাদেশ সেগুলোকে দৃষ্টান্ত হিসাবে গ্রহন করেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সংগে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার জন্য সার্ক এবং অন্যান্য সংস্থার সদস্য হিসাবে বাংলাদেশ কাজ করে চলেছে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে। ১৯৯৯ সালে ঢাকা কোলকাতা বাস সার্ভিস ২০২০ সারে বাংলাদেশে সাথে ভারতের রেল সার্ভিস এবং শুধুমাত্র এন আইডির মাধ্যমে কোন ভিসা বা পাসপোর্ট ছাড়াই দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতের সম্ভাবনা তৈরি এবং দু দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব বোধ সৃষ্টির যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহন সত্যিই অবিশ্বাস্য। নতুন নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার ও বিদ্যুৎ শক্তির বৃদ্ধির ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছে বর্তমান সরকার শুধুমাত্র উন্নত দেশ গুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য। এ মুহুর্তে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি কর্ম মুখী শিক্ষা বা কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ব্যাপক উদ্যোগ বা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বেসরকারিকরনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাখাতকে সচল এবং লাভজনক করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের আর্থিক খাত সচল রাখার জন্য অগ্রগতির জন্য বিদেশী বিনিয়োগকে বর্তমান সরকার উৎসাহিত করেছে। উন্নত দেশ গুলোর সাথে অতীতে যে সম্পর্ক ছিল তার চাইতে আরও বেশী সুসম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সরকার নানামুখী পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই কয়েকটা দেশের সংগে উদ্যোগ নিয়ে সরকার নতুন ভাবে ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্থাপন করেছে। এই ভাবে বর্তমান শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বাংলাদেশ আভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। বাংলাদেশ সংকল্পে অটল নানা প্রতিকুলতার মধ্যে ও বর্তমান শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য যেকোন সমস্যা সমাধানের জন্য পিছপা হয় না বাংলাদেশী জনগন। কারন তারা পরিশ্রম করতে জানে। যেকোন সমসা বা পরিস্থিতি মোকাবেলা করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে মাত্র নয় মাসের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে তাদের কে হাটিয়ে দিয়ে দেশে স্বাধীনতা এনেছিল তারা। সুতরাং তারা বীরের জাতি, সাহসী জাতি। ভয় পায়না তারা কোন কিছুতেই। সুতরাং আমার বিশ্বাস যোগ্য ও সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে যে কোন সমস্যার মুখোমুখী দাড়িয়ে বাংলাদেশ অতি দ্রæত সমাধান করে উন্নত বিশ্বের দ্বার প্রান্তে পৌঁছাতে পারবে।

লেখকঃ জহিরুল ইসলাম শাহিন
সহকারী অধ্যাপক
বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ
কলারোয়া, সাতক্ষীরা।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ