HEADLINE
শ্যামনগরে ইটভাটায় জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে কাঠ সাতক্ষীরায় ঔষধ ফার্মেসী থেকে ৯ হাজার পিচ নেশাদ্রব্য ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ২ জমকালো আয়োজনে ঝাউডাঙ্গায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্ণামেন্ট উদ্বোধন যশোরের কেশবপুরে কোটি কোটি টাকার সোলার স্ট্রিট লাইট নষ্ট! ভূয়া এতিম দেখিয়ে বছরের পর বছর সরকারি অর্থ আত্মসাৎ! ঝাউডাঙ্গায় মেয়াদবিহীন ও লাইসেন্স ছাড়া চলছে বেকারী পণ্য বাজারজাতকরণ ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানে ফিরে আনা জরুরী ঝাউডাঙ্গায় গলায় ফাঁস দিয়ে কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যা নলতায় ডা: ছবুরের বাড়ীতে দুর্ধর্ষ চুরি, টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুট  স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নারী ও যুববান্ধব বাজেটের অন্তরায়
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন

কেশবপুরে আমনের ফলন বিপর্যয়!

উৎপল দে, কেশবপুর / ৬৪
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২২


যশোরের কেশবপুরে কাঙ্খিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। বৃষ্টির পানির অপেক্ষায় অধিকাংশ কৃষক নাবিতে ধানের বীজতলা তৈরি করে নাবিতেই চারা রোপণ করেন। পানির অভাবে উপজেলার অধিকাংশ ধান ক্ষেত বর্তমান ফেটে চৌচির। অনেক কৃষক ধানের আশা বাদ দিয়ে জমি ছেড়ে দিয়েছেন। এ অবস্থায় আমনের ফলন বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতির আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বছর আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৯ হাজার ৩২০ হেক্টর জমি। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে সময়মত কৃষকরা বীজতলা তৈরিসহ আবাদ করতে ব্যর্থ হয়। যে কারণে আবাদ হয় ৮ হাজার ৮‘শ হেক্টর জমিতে। যা গেল বারের চেয়ে ৫২০ হেক্টর কম। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪৪ হাজার মেট্রিকটন। কিন্তু খরার কারণে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ধরা হয়েছে ৪২ হাজার ২৪০ মেট্রিকটন।
কৃষকরা জানায়, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে আমন মৌসুমের শুরুতে কাঙ্খিত বৃষ্টিপাত হয়নি। এতে একদিকে যেমন কৃষকরা সময়মত আমনের বীজতলা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, অন্যদিকে পাট কেটে আমন আবাদের বিলম্ব হয়। শেষ পর্যন্ত কৃষকরা ভূগর্ভস্থ পানি তুলে আমন আবাদ শুরু করেন। কিন্তু ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেড়ে গেছে চাষীদের সেচ, চাষ ও মজুরী খরচ। এরপরও বিসিআইসি ডিলাররা ভরা মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় কৃষকদের বেশী দামে সার, বীজ কিনতে হয়েছে। যেভাবে সবকিছুর দাম বেড়েছে তাতে বিঘাপ্রতি জমিতে আগের তুলনায় কয়েক হাজার টাকা বেশী খরচ হয়ে গেছে। অধিকাংশ কৃষকই ধার দেনা করে আমন আবাদ করছেন। আর এ খরচ পোষাতে হলে তাঁদের বেশী দামে ধান বিক্রি করতে হবে।
মজিদপুর গ্রামের কৃষক প্রভাস কর্মকার, আব্দুল মান্নান জানায়, চলতি বছর তারা ২বিঘা করে জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন। ধান রোপণ থেকে শুরু করে কাইচ থোড় আশা পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল হতে হয়েছে। ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এবছর বিঘাপ্রতি ২ হাজার থেকে ২৫‘শ টাকা বেশী সেচ খরচ দিতে হয়েছে। সকল খরচ করেও শেষ মুহূর্তে খরার কারণে ধানে আর শীষ বের হয়নি। শুধু প্রভাস কর্মকার ও আব্দুল মান্নানই নয়। উপজেলার অধিকাংশ উঁচু জমির ধান খেতের একই অবস্থা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছে খেতের ধান সব পেকে গেছে। অথচ কাছে গিয়ে দেখা যায় এসব ধানের শীষ গর্ভেই মরে গেছে। কিছু কিছু খেতে শীষ বের হলেও তা কালো হয়ে শুকিয়ে গেছে। খরা মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে অনেক কৃষক ধানের আশা বাদ দিয়ে জমি ছেড়ে দিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋুতুরাজ সরকার বলেন, আমন ধান বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। দীর্ঘ খরার পর হঠাৎ শীত নেমে আসায় ভারতীয় স্বর্ণ জাতের ধান সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যে কারণে কৃষকদের এ জাতের ধানের আবাদ করতে নিষেধ করা হলেও তারা শোনে না। শীতের কারণে এ জাতের ধানের ফ্লালোয়ারিং হয়নি। গত বছর এ সময় ৫/৬ ফুট নিচে পানির লেয়ার ছিল। কিন্তু এবছর খরার কারণে পানির লেয়ার ১৮/২০ ফুট নিচে নেমে গেছে। এর প্রভাবে আগামী বোরো মৌসুমে অনেক স্থানের বোরিং লেয়ার ফেল করবে।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ