সমাজের সম্পৃক্তি বিষয়ক মহিলা পরিষদ যশোর জেলা কমিটির সংবাদ সম্মেলন

সমাজের সম্পৃক্তি বিষয়ক মহিলা পরিষদ যশোর জেলা কমিটির সংবাদ সম্মেলন

এ. আই মিন্টু,যশোর:: যশোর প্রেসক্লাব সম্মেললন কক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ যশোর জেলা কমিটি এক সংবাদ সম্মেলনের অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সম্মেলনে মূল আলোচনার বিষয়ছিল নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য ও সহিংসতা দূর করে নারীর সমঅধিকার নিশ্চিত করা।
মহিলা পরিষদের সদস্য উম্মে মাকসুদা মাসু লিখিত বক্তব্য পাঠে বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ গত ৪৮ বছর ধরে নারী-পুরুষের সমতা, নারীর মানবাধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহু মাত্রিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে। একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, সমতাপূর্ন মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের সুদূর প্রসারী লক্ষ্য নিয়ে নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য ও সহিংসতা নিরসনে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর সম অংশ গ্রহন নিশ্চিত করণে মহিলা পরিষদ কাজ করছে নীতিনির্ধারনী পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত।
বেইজিং এর উপকণ্ঠে হোয়াইয়োতে অনুষ্ঠিত হয় এনজিও ফোরাম। এতে প্রায় বিভিন্ন দেশ থেকে ৩০ হাজার প্রতিনিধি যোগ দেন। নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সম্মেলনে গৃহীত হয় বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা (Beijing Declaration and Platform for Action-BPFA)এ ‘নারীর চোখে বিশ্ব দেখার’আহবান জানিয়ে নারীর ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেঅধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গৃহীত এই ঘোষণা ও কর্ম পরিকল্পনা একটি দূরদৃষ্টি সম্পন্ন কর্মসূচি। বেইজিং কর্মপরিকল্পনায় নারীর অগ্রগতির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা স্বরূপ ১২টি উদ্বিগ্নতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয় এবং এসব বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে কৌশলগত উদ্দেশ্য এবংসুনির্দিষ্ট করনীয় নির্ধারন করা হয়।
১২টি ঝুঁকিপূর্ণ বাউদ্বিগ্নতার ক্ষেত্রহচ্ছে:
১. নারীর দারিদ্র ২. নারীশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ৩. নারীর স্বাস্থ্য ৪. নারীরপ্রতিসহিংসতা ৫. নারী ও সশন্ত্র সংঘাত ৬. নারী ও অর্থনীতি ৭. ক্ষমতা ও সিদ্ধান্তগ্রহণেনারী ৮. নারীরঅগ্রগতিরজন্য প্রাতিষ্ঠানিককার্যপদ্ধতি ৯. নারীরমানবাধিকার ১০. নারী ও গণমাধ্যম ১১. নারী ও পরিবেশ ১২. কন্যাশিশু।

বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার আলোকে ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি মালা। পরবর্তীতে পরিবর্তন, বিয়োজন, সংযোজনের মাধ্যমে ২০১১ সালে পুনরায় জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমাল ঘোষনা করা হয়। নারী উন্নয়ন নীতিমাল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে প্রণীত হয় কর্মপরিকল্পনা। কিন্তু গৃহীতকর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রগতির পরিমাপ করা জন্য কোন উদ্যোগ আমরা দেখিনা।

তারা সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিদের উদ্দেশ্যে বলেন, মহিলা পরিষদ বিশ্বাস করে, গণমাধ্যম নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। আমরা আপনাদের মাধ্যমে বেইজিং কর্মপরিকল্পনাকে অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চাই এবং এর মধ্য দিয়েই বেইজিং+২৫ পর্যালোচনা প্রক্রিয়া ও বেইজিং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রকিয়াকে আরো শক্তিশালী করতে চাই। এ সময় উক্ত সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ যশোর জেলা কমিটির সভাপতি আফরোজা শিরীন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারদীনা রহমান এ্যানি, লিগ্যাল এইড সম্পাদক এ্যাড. কামরুন নাহার কনা, আন্দোলন সম্পাদক উম্মে কুলসুম আলো, সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুফিয়া বেগম, অর্থসম্পাদক মাহমুদা খানম, শিক্ষা সংস্কৃতি সম্পাদক সায়েদা বানু, সদস্য উম্মে মাকসুদা মাসু, খুরশীদা জাহান খানপ্রমুখ।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন