যশোরের রাজগঞ্জে বানিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে রসুনের, বীজ রোপনে ব্যাস্ত কৃষকেরা

যশোরের রাজগঞ্জে বানিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে রসুনের, বীজ রোপনে ব্যাস্ত কৃষকেরা

উত্তম চক্রবর্তী, মণিরামপুর (যশোর) :: সারি বদ্ধ ভাবে বসে বাটি ডালা নিয়ে হাথে কৃষকরা রোপন করছে রসুন। সাথে আবার লাঙ্গল দিয়ে জমিতে শিরিল টানছে অন্য কৃষক। এমনটাই দেখা গেছে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের খালিয়া গ্রামের অধিকাংশ কৃষক। তারা প্রায় পাঁচ যুগেরও বেশী সময় ধরে রসুন চাষ করে আসছেন। অনেক পরিবার রসুন চাষের মাধ্যমে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন এনেছেন।
ভূমিহীন চাষিরা অন্যের জমি বর্গা নিয়েও রসুন চাষ করে থাকেন। রসুন এক বীজপত্রী মসলা ও ভেষজ জাতীয় লিলিসিয়া গোত্রের উদ্ভিদ। যার বৈজ্ঞানিক নাম অ্যালিয়াম স্যাটিভাম। এর ইংরেজি নাম গার্লিক। রসুন মানবদেহের বাত ব্যাথা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা রোগের মহৌষধ হিসেবে রসুন ব্যবহারে জুড়ি নেই। এছাড়াও ভোজন বিলাসীদের কাছে রসুন একটি অতিপ্রিয় মসলা। প্রায় সব ধরনের খাবার তৈরিতে রসুনের ব্যবহার রয়েছে। বাজারে রসুনের আচার, তেল, জেলিসহ নানা ধরনের খাবার বিক্রি হয়ে থাকে।
সোমবার সকালে সরেজমিনে উপজেলার রাজগঞ্জের ঝাঁপা ইউনিয়নের খালিয়া গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে কৃষকরা বানিজ্যিক ভিত্তিতে রসুন চাষ করেছেন অনেক দিন ধরে। কথা হয় চাষীদের সাথে তারা জানান, বর্ষা মৌসুমের পরপরই সাধারণত কার্ত্তিক মাসের শুরুতে রসুনের বীজ রোপন করা হয়। দীর্ঘ পরিচর্যার পর ফাল্গুন মাসের শেষ থেকে রসুন আহরণ শুরু হয়। রসুন রোপন ক্ষেতে কর্মব্যস্থ চাষী হারুন, মাজিদ, হাবিবুর রহমান, আবু হানিফা, জুলফিকার আলী, আব্দুর রশিদ, মাসুদ, মাস্টার সালাম, মফিজুরসহ অনেকেই জানান, পূর্ব পুরুষ হতে রসুন চাষ করে আসছেন তারা।
এবছর খালিয়া মাঠে প্রায় দেড় শ’ বিঘা জমিতে রসুন রোপন করা হবে বলে তাদের ধারনা। তবে তাদের অভিযোগ স্থানীয় কৃষি অফিস তাদের সাথে কোন যোগা যোগ রাখেনা এমনকি কোন পরামর্শ করে না। দেশী জাতের রসুন বাড়িতেই বীজ তৈরি করে সংরক্ষণ করে থাকেন এখানকার চাষীরা। প্রতিটি বীজ রসুন থেকে ২০-২৫ টা বীজ রোপন করা যায়। বিঘা প্রতি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ রসুন উৎপাদন করে থাকেন তারা। রসুন আহরনের মৌসুমে বাজারে দাম প্রতি কেজি প্রায় ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি করেন তারা।
এলাকার চাষী আব্দুল মাজিদ জানান, এবছর প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে রসুন রোপন করেছেন তিনি। বিঘা প্রতি তার ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘা জমি হতে তিনি প্রায় ৬০ হাজার টাকার বেশি রসুন বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী। অনেকে আবার জমি লিজ নিয়ে রসুন চাষ করেছেন। চাষীরা জানান, রসুন বিক্রি করতে আমাদের মোকামে জেতে হয় না। স্থানীয় রাজগঞ্জ বাজারে বিভিন্ন এলাকা থেকে বেপারীরা আসেন রসুন কিনতে। সেখান থেকে ট্রাক বোঝাই হয়ে এখানকার রসুন চলে যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানিয়েছে, রাজগঞ্জের খালিয়া গ্রামে বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদিত হয় রসুন। বহু বছর ধরে এখানকার চাষীরা ক্ষেত থেকেই বাছাই করে বীজ সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে রোপন করেন। গুনে মানে উৎকৃষ্ট হওয়ায় স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে এর চাহিদাও রয়েছে অনেক।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন