সাতক্ষীরায় অনার্স ১ম বর্ষের পরীক্ষার খাতা দেখছে ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী!

সাতক্ষীরায় অনার্স ১ম বর্ষের পরীক্ষার খাতা দেখছে ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী!

জামালউদ্দীন:: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে ১ম বর্ষের পরীক্ষার খাতা দেখছেন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এক অনুসন্ধানে এমন ঘটনার সত্যতা মিলেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কুমিরা মহিলা ডিগ্রী কলেজে। ঐ কলেজের বহুল আলোচিত, বিতর্কিত, নারী কেলেঙ্কারীর হোতা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক আদিত্য ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৩ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টায় সত্যতা নিশ্চিতে কর্মরত সাংবাদিকরা কলেজের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। কলেজ ছুটির দিন থাকায় দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা প্রহরীর সহযোগিতায় প্রিন্সিপাল লুৎফুন আরা জামান, উপাধ্যক্ষ শেখ শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তাদের সাথে যোগাযোগ সম্ভব না হলে কলেজ ক্যাম্পাস এলাকার শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর স্বাক্ষাৎকার নেয়ার চেষ্টা করা হয়।

এতেও ব্যর্থ হয়ে নিরাপত্তা প্রহরীর সহায়তায় অভিযুক্ত উক্ত কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ৩য় বর্ষের ছাত্রী সোমা মহালদারের সাথে কথা হয়। কথা বলার মুহুর্তে কলেজের এক প্রভাষক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও কলেজ ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক কারণে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে কিছুটা দূরত্বে অবস্থান করেন। সোমা মহালদার এ প্রতিবেদকের নিকট ঘটনা অকপটে স্বীকার করে। সে জানায় তার কাছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ১ম বর্ষের স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (২০১১৫০১) বিষয়ের ৫০টি খাতা রয়েছে।

সাংবাদিকরা কথোপকথনের একপর্যায়ে কৌশল অবলম্বন করে তার কাছে রক্ষিত খাতা থেকে কয়েকটি খাতা দেখতে সক্ষম হয়। পরীক্ষার্থীদের খাতায় পরীক্ষায় অনুষ্ঠিত হয় ০১/০৮/২০১৯ তারিখে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকরা ঘটনার সত্যতা নিয়ে চলে আসলে ঐ কলেজের ইংরেজী বিষয়ের প্রভাষক আছাদুজ্জামান মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের নিকট প্রস্তাব দেন অর্থের বিনিময়ে সংবাদটি যাহাতে কোনভাবেই প্রকাশ না করার জন্য।

এবিষয়ে অভিযুক্ত প্রভাষক আদিত্য ব্যানার্জী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, একটু বয়স বেশী হওয়ায় চোখে কম দেখেন। তাই শিক্ষার্থী দিয়ে খাতা দেখিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। সাথে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে নিউজ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধও করেন।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন