প্রয়াত শিক্ষক দুলাল হরিদাসের বাড়িতে ১১৫টি প্রতিমা

প্রয়াত শিক্ষক দুলাল হরিদাসের বাড়িতে ১১৫টি প্রতিমা

উত্তম চক্রবর্তী,মণিরামপুর(যশোর)::  হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ব বৃহৎ উৎসব দূর্গা পূজা। হুলু হুলু ধনি ও ঢোলের বাজনায় মেতে উঠবে পূজারী ভক্তরা। এমনটি আশা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে সনাতন ধর্মলম্বীরা। যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু ভাসমান সেতু সংলগ্ন মোবারকপুর বাবু পাড়ার প্রয়াত শিক্ষক দুলাল হরিদাসের নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় সর্ব বৃহৎ পুজা উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ মুন্দিরে মহা ভারতের বিভিন্ন দেব দেবতার অনুকরনে ১১৫টি প্রতিমা তৈরী করা হয়েছে। বিগত ৩ মাস ধরে অভিজ্ঞ ভাস্কর শেখরসহ ৫জন ভাস্কর প্রতিমা সমুহ তৈরী করেছে। ইতি মধ্যে প্রতিমার রং তুলির আঁচড়ের কাজ শেষ করে পুরো মন্দিরে সাজগোজের কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। মুন্দির ও আশপাশে সাটানো হয়েছে হরেক রকমের লাল নীল রঙ্গের বাতী ও প্রবেশদারে মন জুড়ানো তোরন। তুলির আচড়ে থাকা ভাস্কর শেখরের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানাই, মন্দিরে ১১৫টি প্রতিমা গড়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, ভক্তদের দৃষ্টি নন্দন ও আকাষনীয় মনোরঞ্জন যোগাতে মুন্দিরের ভীতরে ও বাইরের চারিধারী সারিবদ্ধ ভাবে প্রতিমা গুলো সাজানো হয়েছে। এ মুন্দিরে সর্ব বহৎ পূজা উৎসবের সাথে প্রতি রাতেই থাকছে সাংস্কৃতি সন্ধা। এদিকে মুন্দির কমিটি প্রতিবেদককে জানায়, উপজেলার পশ্চিমে রাজগঞ্জ রাজারের দক্ষিনে অর্ধ কিলোমিটার অদুরে যশোর টু কুমিরা সাতক্ষীরা মেইন সড়কের পাশে বঙ্গবন্ধু ভাসমান সেতু সংলগ্ন বাওড় পাড়ের মনোরম পরিবেশে মোবারকপুর বাবুপাড়ার প্রয়াত শিক্ষক দুলাল হরিদাসের নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় সর্ব শ্রেষ্ঠ উৎসব করা হচ্ছে। প্রথম দিনে ৪ অক্টোম্বর ষষ্টির মধ্য দিয়েই শুরু হবে দূর্গা পূজা উৎসবটি। ৫ অক্টোম্বর সপ্তমীতে থাকছে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিল্পিদের সাংস্ৃ্কতি অনুষ্ঠান। ৬ অক্টোম্বর অষ্টমীতে সনাতন ধমর্ীয় যাত্রাপালা কৃষ্ন ভক্ত শুধামী। ৭ অক্টোম্বর নবমীতে সাংস্কৃতি সন্ধায়, রাত ব্যাপী ক্লোজ আপ ওয়ানের তারকা শিল্পী বৃন্দ। ৮ অক্টোম্বর দশমী বির্সর্জন ও সারা রাত চলবে বিচিত্রা অনুষ্ঠান। এদিকে মায়ের বির্সজন, শব্দটি ভক্তদের কাছে খুবিই হৃদয় বিদারক। তাই এ দিনে মুন্দিরে ভক্ত নারী পুরুষের কান্নার রোল পড়ে যায়। তার পরও মাকে তো বেশি সময় রাখা যায়না। বাধ্য হয়ে ভক্তরা সকল প্রতিমা গুছিয়ে নিয়ে একাধিক নৌকায় উঠায়। পুজারীরা গভীর রাতে ঢাক ঢোল বাজিয়ে ও মুহু মুহু পটকা বাজীর শব্দ করে আনন্দে করে মাকে বাওড়ের সাত ঘাট ঘুরিয়ে অবশেষে নিকস্থ ঘাট এলাকার পানিতে ডুবিয়ে বির্সজনের কাজ সমাপ্ত করে। এ বিষয়ে পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি রাঁধা রঞ্জন দাস ও সাধারন সম্পাদক কাত্তিক চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের দূর্গা পূজা উৎসবের সার্বিক সহযোগিতা ও তত্বাবধায়নে রয়েছে বাবু পাড়ার সহদর দুই ভাই দেব্রত দাস (মধু) ও সুব্রত দাস (সাধন)। তারা আরো জানাই, দুই ভাইয়ের সার্বিক সহযোগিতা থাকায় গত বছরের পূজা উৎসবের চেয়ে এ বছর উৎসবটি অনেক বড় আকারে পালন হতে যাচ্ছে। আসা করি আগামীতে আরো ব্যাপক প্রসারে দূর্গা পূজা উৎসব উৎযাপন করা হবে। কথা হয় রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনসপেক্টর (তদন্ত ওসি) তারিকুল ইসলাম সাথে তিনি বলেন, রাজগঞ্জ এলাকায় যে সকল মুন্দিরে পূজা হচ্ছে ঐ সকল মুন্দিরে প্রশাসনের কঠোর নজরদারী রাখা হয়েছে। কোন প্রকার বিশৃংখলা ছাড়াই সুষ্ট ভাবে পূজা উৎযাপন অনুষ্ঠান শেষ করতে পুলিশ বিশেষ ভুমিকা রাখবে। বাবু পাড়া মুন্দিরে পূজা উৎসব ব্যপক পরিসরে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত ফোর্স ছাড়াও সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হবে।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন