কেশবপুর ডাক্তার সংকটে ডেঙ্গু আক্রান্তসহ অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

কেশবপুর ডাক্তার সংকটে ডেঙ্গু আক্রান্তসহ অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

উৎপল দে,কেশবপুর::  যশোরের কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকটের কারণে ডেঙ্গু আক্রান্তসহ অন্য রোগীদের চিকিৎসা সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কেশবপুরে দিন দিন ডেঙ্গু রোগী সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে । কেশবপুরে হাসপাতালসূত্রে জানা গেছে ৩১ জন ডাক্তারের স্থানে রয়েছে ১২ জন , স্বাস্থ্য সহকারি ৩৯ জনের স্থানে রয়েছে ২৮ জন, ঝাড়–দার ৫ জনের স্থানে রয়েছে ৩ জন, ওয়ার্ডবয় ৩ জনের স্থানে রয়েছে ২ জন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৩ জনের স্থানে একজন ও নেই, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৮ জনের স্থানে আছে ১ জন । জনবল এর অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা। ১২৫ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ছাড়কৃত রোগীর সংক্যা ৯৫ জন । ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ জন ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে কেশবপুর পৌরসভার ২৫ জন, কেশবপুর সদর ইউনিয়নে ৩০ জন, সুফলাকাটী ৪ জন, মজিদপুর ইউনিয়নে ১৬ জন, ত্রিমোহিনী ইউনিয়নে ৬ জন, পাজিয়া ইউনিয়নে ৮ জন, সাগরদাড়ি ইউনিয়নে ১১ জন ও মঙ্গলকোট ইউনিয়নে ৬ জন, মনিরামপুর উপজেলার ১০ জন, বাঘারপাড়া উপজেলার ১ জন, ডুমুরিয়া ১ জন । এই পর্যন্ত বরণডালী গ্রাসের আব্দুল কুদ্দুস নামে ১জন মারা গেছেন । প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসলেও ডাক্তার না পেয়ে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের ভর্তিকৃতসহ আউটডোরে রোগির চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে এডিস মশার লার্ভার সন্ধান পাওয়ার পর তা নষ্ট করে দেয়া হয়। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত জটিলতায় ১১ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কেশবপুর হাসপাতাল থেকে যশোর ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।অল্প সংখ্যাক মেডিকেল অফিসার ভর্তিসহ আউটডোরে রোগির সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের নিছার উদ্দিন গাজি (৬৫) চিংড়া গ্রামের রাশিদা খাতুন (৬২) ও দেউলী গ্রামের আবুল কাশেম (৭১) বলেন, সকাল ৯ টায় এসে সাড়ে তিন ঘন্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তার দেখাতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বেড সংকটে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগিসহ অন্যান্য ভর্তি রোগিদের রাখা হয়েছে মেঝেতে।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় পৌরশহর এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনা মূলক বেশী।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হারুন-অর-রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন এ্যাসিড মশার দ্রুত বিস্তারের একটি অন্যতম কারণ। বিভিন্ন এলাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এসব রোগীদের সব ধরনের চিকিৎসা সেবা হাসপাতাল থেকে দেওয়া হচ্ছে।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন