কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী ঘাট নির্মাণের দাবীতে সোচ্চার কপিলমুনিবাসী

কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী ঘাট নির্মাণের দাবীতে সোচ্চার কপিলমুনিবাসী

প্রবীর জয়,কপিলমুনি ::খুলনা জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ জনপদের পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজারের পশ্চিম প্রান্ত হয়ে বয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদীর তীরবর্তী পাকা ঘাট নির্মাণের দাবীতে ঐক্যবন্ধ ভাবে সোচ্চার হচ্ছে কপিলমুনিবাসী। তাদের প্রাণের কপিলমুনি বাজারকে বাচাঁতে দাবী আদায়ে আজ রাজপথে নামার জন্য প্রস্তুতি চলছে। আর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কালের স্বাক্ষী কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে রয়েছে বহু ইতিহাস-ঐতিহ্য। প্রাচীণ আমল থেকে নদীটিকে ঘিরে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন-জীবিকা নির্ভর করে আসছে। কিন্তু কালের পরিক্রমায় কয়েক বছরে কপোতাক্ষের অকাল মৃত্যুতে উপকূলীয় মানুষের জীবন জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কপোতাক্ষকে ঘিরে এর দু’তীরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বাণিজ্যিক নগরী ও জনবসতি। তেমনি একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ কপিলমুনি বাজার। আর এ বাজারকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ব্যবসা বানিজ্যের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। এক সময় কপোতাক্ষ নদীর ভরা যৌবনকালে কপিলমুনি থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন প্রকার কাঁচামাল ক্রয় করে ট্রলার ও নৌকা যোগে পাইকগাছা-কয়রাসহ সন্দরবন সংলগ্ন হাট-বাজার গুলিতে বিক্রয় করতো। বিশেষ করে গড়ইখালী, সোলাদানা, শান্তা, নলিয়ান, চাঁদখালী, গজালিয়া, কালাবাগী, আমুরকাটা, দেউড়ির হাট, আলমতলা, মিনেজ বাজার, সুন্দরবনের মাছ ধরা জেলেরাসহ বেশ কিছু হাটের পাইকারীরা গুরত্বপূর্ণ এ বাজার থেকে মালামাল ক্রয় করে ঐ সমস্ত হাটে নিয়ে বিক্রয় করত। কিন্তু সেই কপোতাক্ষের মৃত্যু হলে কপিলমুনি বাজারের কপোতাক্ষের সেকালে নির্মিত ঘাটটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আস্তে আস্তে ভাটা পড়তে থাকে কপিলমুনি বাজারকে ঘিরে থাকা জীবন-জীবিকার মানুষের উপর। তখন থেকে অদ্যবধি ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে কপিলমুনি থেকে ৭ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত আগড়ঘাটা বাজার সংলগ্ন কপোতাক্ষ অংশে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রশিদুজ্জামান মোড়লের নির্মিত ঘাট দিয়ে নদী পথে ট্রলার যোগে আসা মালামাল ওঠা ও নামার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। আর তাতে করে ব্যবসায়ীদের বাড়তি পরিবহন খরচ করতে হচ্ছে। তাছাড়া কপিলমুনি বাজারের সে সমস্ত কুলি শ্রমিকরা বিগতদিনে নৌকা বা ট্রলার যোগে আসা মালামাল উঠানামা করে জীবিকা নির্বাহ করত তারা এখন জীবনে বেঁচে থাকার তাগিদে বাধ্য হয়ে তাদের কর্ম বদলাতে হয়েছে। আর এমন পরিস্থিতে শুধু কপিলমুনি বাজারকে ঘিরে নই, পুরো বাংলাদেশের প্রাণ সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে অবস্থিত দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের কয়েক লক্ষ মানুষের বসবাসরত এ জনপদের কথা বিবেচনায় রেখে ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার কপোতাক্ষ নদ খননে ২০১১ সালের নভেম্বরে একনেকের সভায় ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। যা কপোতাক্ষ খননে ব্যাপক অনিয়মের পরও ফিরে আসে জোয়ার-ভাটা, বেঁচে থাকার নতুন স্বপ্নে নদীর উপর নির্ভরশীল জনপদের মানুষের মধ্যে যেন প্রাণ সঞ্চারিত হয়। কিন্তু কপোতাক্ষ খনন হলেও কপিলমুনি বাজারের কপোতাক্ষ নদীতে ঘাট না থাকায় ব্যবসায়ীরা নৌকা বা ট্রলার নিয়ে মালামাল ক্রয়ের জন্য কপিলমুনিতে আসতে পারছেনা। কপিলমুনি থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে আগড়ঘাটা বাজার সংলগ্ন কপোতাক্ষের ঘাটে নিয়ে তাদের মালামাল বহন করতে হচ্ছে। ফলে তাদের একই মালামাল দু’বার উঠা-নামা করার কারণে এবং ডাঙ্গা পথে বাড়তি পরিবহন খরচের জন্য তারা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কপিলমুনি বাজারের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সকল আপামর জনসাধারণের দাবী খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কপিলমুনির কপোতাক্ষ অংশের নদীতে মালামাল উঠা-নামার জন্য একটি ঘাট নির্মাণ হোক। যাতে করে ফিরে পাবে কপিলমুনি তার হারানো যৌবন, শ্রমিকরা তাদের কর্মক্ষেত্র ও ব্যবসায়ীরা হবে আর্থিক ভাবে লাভবান। এব্যাপারে কপিলমুনি হাট বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়ার্দ্দার বলেন, ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনায় রেখে ও তাদের সুবিধার্থে বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আকতারুজ্জামান বাবু’র সহযোগীতায় কপোতাক্ষ নদীতে ঘাট নির্মাণ করা হবে। পরিশেষে কপিলমুনি বাজারকে বাচাঁতে ও ঘাট নির্মাণ প্রক্রিয়া ত্বারানিত করতে এলাকার সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ দাবী আদায়ে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন