শ্রেণিকক্ষ সংকট গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারে পাঠদান

শ্রেণিকক্ষ সংকট গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারে পাঠদান

উৎপল দে,কেশবপুর:: যশোরের কেশবপুরের গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কক্ষ সংকটে শহীদ মিনারে চলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। নেই বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, টয়লেটসহ শিক্ষক-ছাত্রীদের পৃথক কমন রুম। ফলে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। প্রতিকার চেয়ে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও তাদের ভাগ্যে মিলছে না একটি নতুন ভবন। উপজেলার গড়ভাঙ্গা গ্রামে ১৯৬৫ সালে ২ একর ৮৯ শতক জমির উপর গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে ৮ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারী রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর ১৯৬৫ সালে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ৬টি ছোট ছোট কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের সংকুলান না হওয়ায় এর পাশে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট আরও একটি টিন সেডের ভবন নির্মাণ করা হয়। এরই মধ্যে পাঠদান চলাকালিন ১৯৯৪ সালে সরকারি ভাবে ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়। ৫ বছর আগে অর্থাভাবে পুনঃসংস্কার না হওয়ায় টিন সেডের ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নির্মিত ভবনটি দীর্ঘ ৫৪ বছরে সংস্কার না হওয়ায় এর দেয়াল দরজা, জানালা নষ্ট হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফতেমা খাতুন জানায়, ছোট রুমে প্রতি বেঞ্চে ৪ জন করে শিক্ষার্থীকে বসতে সমস্যা হয়। লিখতে পড়তে সমস্যা হয়। পৃথক কোন টয়লেট নেই। বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আতিয়ার রহমান জানান, বিজ্ঞান বিভাগ চালু থাকলেও নেই কোন বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার বিভাগ, শিক্ষকসহ মেয়েদের পৃথক কোন কমন রুম। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য ১৪টি কক্ষের প্রয়োজন থাকলেও রয়েছে ৯টি। তাও দীর্ঘদিনে সংস্কার করা হয়নি। আর বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি এ অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বড় মাঠ হওয়ায় এখানে ফুটবল, ক্রিকেট খেলা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সংস্কারের অভাবে মাঠটিতে পানি জমে থাকে। সকল সরকারি অনুষ্ঠান এ মাঠে জাক-জমক ভাবে করে থাকেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ লিয়াকত আলী জানান, পরিত্যাক্ত ঘোষণা করার কারণে ৪ রুম বিশিষ্ট টিনের ঘরটি বহু আগেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মানবিক, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান বিভাগ চালু রয়েছে। একই বিষয়ের দুটি ক্লাস চালাতে গেলে বিশেষ করে বিজ্ঞান ও ধর্ম বিষয়ের পাঠদানের সময় শহীদ মিনারের পাদদশে বসে ক্লাস নিতে হয়। শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষককে ৬ থেকে ৭টি করে ক্লাস নিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এরপরও জেএসসিতে শতভাগ ও এসএসসিতে প্রায় ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়।
কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আমি নিজেই ওই বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। ফলে বিদ্যালয়ের সমস্যার কথা আমার অজানা নয়। সমস্যার কথা ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন