বলো বিধাতা

আমি একদম বুঝি না, সবাই একসাথে হাসতে কি পারি না?

সাতক্ষীরা, বাংলাদেশের  দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্রতীরবর্তী এক জেলা।।

সাতক্ষীরার অধিকাংশ  মানুষের জীবনযাপনের একমাত্র পেশা  মৎস্য চাষ। এছাড়া প্রায় ২ লক্ষ জেলে বসবাস করে এই জেলায়। সাতক্ষীরা জেলায় দরিদ্রের ৪৬ শতাংশ।

এই দরিদ্র মানুষগুলোর জীবনে অভিশাপ হয়ে নেমে আসে সুপার সাইক্লোন আম্পান, সাথে করোনা লেগেই আছে। 

গত ২০ এ মে এই জেলায় তান্ডব চালায় এই সুপার সাইক্লোন। আম্পানের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু ঘরবাড়ি। এছাড়া নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে বন্যা। বাধ ভেংগে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে, মৎস চাষীরা আজ পথে বসেছে। 

চারিদিকে কেবল পানি আর পানি। বন্যার কারণে এই অঞ্চলের অসহায়, গরিব মানুষদের জীবনে এখন সীমাহীন দুর্ভোগ। বন্যায় তলিয়ে গেছে ফসল, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।  গরু আর ছাগল সবই ক্ষতিগ্রস্ত। কৃষক হারিয়েছে  হাজার হাজার একর জমির ফসল। মাছের খামার সমুহ ডুবে যাবার কারণে ভেসে গেছে শত কোটি টাকার মাছ। পানিতে ভেসে গেছে হাজারো গবাধি পশু। রাস্তাঘাট, বসত বাড়ি, স্কুলের মাঠ সবই পানির নিচে। এই অসহায় মানুষগুলোর ঘুমানোর জন্যও কোথাও একটু জায়গা নেই। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে আজ বড়ই কষ্ট। মহিলা, বৃদ্ধা এবং শিশুদের জীবনে এই কষ্ট আরো বেশি এবং তারা আরো বেশি অসহায়, কেবল মানবতার হাহাকার।

হত-দরিদ্র মানুষগুলো আজ এক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে। অধিকাংশ মানুষ গৃহহীন, আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং আশ্রয় কেন্দ্রে। 

দুবেলা দু মুঠো খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় হাজারো শিশুর বাবা মা। তাছাড়া দেশে চলছে মহামারীর প্রকোপ তা থেকেউ বাদ যাই নি এই সাতক্ষীরা। কাজের অভাবে না খেয়ে বসে আছে হাজারো ছিন্নমূল মানুষ। 

একবার ভাবুন আপনি হয়তো আরাম করছেন কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে,অন্যদিকে রোদে বৃষ্টিতে গৃহহীন হাজারো মানুষ। আপনি হয়তো দামি রেস্টুরেন্ট এর খাবার অর্ডার করছেন কোনো এক রাইড শেয়ারিং অ্যাপ এ,অন্যদিকে দুমুঠো খাবারে অভাবে হাসফাস করছে সাতক্ষীরার বন্যার্ত লাখো মানুষ।  সরকারে পক্ষ থেকে ত্রাণ সরবরাহ করা হলেও তা ছিলো প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য।।

 ত্রাণের সাহায্যের ওপর নির্ভর করেই বেঁচে আছে জীবন। 

ঘূর্নিঝড় আম্পানে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতক্ষীরা ও কয়রার বেশ কয়েকটি উপজেলা।

স্থানীয় সূত্র থেকে আমরা জানতে পারি, কালিগঞ্জ উপজেলার তালতলা গ্রামে বেশ কিছু পরিবার অসহায় জীবন যাপন করছেন। বাড়ি-ঘর বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়াতে আশ্রয় নিয়েছে উঁচু স্কুলঘর ও উঁচু জমিগুলোতে।

আমাদেরকে দুর্গত মানুষদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। এখন প্রয়োজন বন্যাদুর্গত মানুষদেরকে সর্বাত্মকভাবে সাহায্য করা।

তাই আমরা সিদ্ধান্ত নেই এই মানুষগুলোর জন্য কিছু হলেও করতে হবে। সেই কথা মতো আমাদের অত্র এলাকার সেচ্ছাসেবকদের দিয়ে কিছু পরিবারের লিস্ট বানালাম, যাদের সত্যিকারের সহায়তা প্রয়োজন। পরিবারের লিস্টের পর বাজেট করার পালা। নতুন সংগঠন তাই বড় ধরণের কোন বাজেট করার সাহস হলো না। তাও বাজার মূল্যের কথা মাথায় রেখে ২০০০০ হাজার টাকার বাজেট গ্রহণ করলাম। 

সৃষ্টকর্তার কৃপায় কিছুদিনের মধ্যেই বাজেট এর থেকে বেশি টাকা উঠিয়ে ফেলি।

যে ভাবা সেই কাজ, আমাদের একটি প্যাকেজে যা যা ছিলোঃ

1. চাল ৫ কেজি

2. ডাল ১ কেজি

3. আলু ৩ কেজি

4. লবন ১ কেজি

5. সাবান ১ টি

6. মোমবাতি ২ টি

7. গ্যাসলাইট ১ টি

8. স্যালাইন ৫ টি

কয়েকজনকে সাথে নিয়ে পুরো প্রজেক্ট এর বাজার ও তারপর প্যাকেটিং এর কাজ শেষ করে ফেলেন। 

পরদিন সকালে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ভ্যান ও নৌকা ভাড়া করে করে গ্রামে পৌছানো এবং বৃষ্টি ও বন্যা উপেক্ষা করে প্রতিটি পরিবারের নিকট ত্রাণ সামগ্রী পৌছে দেওয়ার পর তবেই একটু হাফ ছাড়তে পেরেছে এই তরুণেরা। এই ভেবে যে, আগামী দুই সপ্তাহে পরিবার গুলোর খাওয়া চিন্তা করতে হবে না।

মানুষের কল্যাণের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এবং প্রোজেক্ট লিড তাহসিন আফরাইম তাজ (AIUB) সহ সদস্য শেখ মোসাদ্দেক, ফাতেমা ফেরদৌসি জয়া, শান্ত, শুভ, এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও কালিকাপুর সবুজ সংঘের সভাপতি ইবনে সিনা সুজন, স্থানীয় মনিরুল ইসলাম সহ আরও অনেকে বানভাসী মানুষের দ্বারে দ্বারে সহায়তা পৌঁছে দিতে সহযোগিতা করেন। ত্রাণ কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান৷

ফিরে আসার সময় ভাঙ্গা বাঁধ দেখতে গিয়েছিলো সেচ্ছাসেবকরা। এখনো তীব্র বেগে পানি ঢুকছে গ্রামে।

সবশেষে এটাই বলবো, এই মানুষগুলোর কাছে এগিয়ে আসুন। আপনার আমার ছোট ছোট প্রচেষ্টাই পারবে এই মুখ গুলোয় এক চিলতে হাসি ফুটাতে।

ধন্যবাদ সেই-সকল মানুষকে যাদের অনুদান ও অনুপ্রেরণায় “মানুষের কল্যাণে”র ছোট্ট প্রজেক্ট টিকে সফল করতে পারলাম।

তাহসিন আফরাইম তাজঃ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে পেরে আমরা সন্তুষ্ট বোধ করছি। এবং সঠিক ব্যক্তি যাতে সহায়তা পায় সে ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করেছির “মানুষের কল্যাণে” সংস্থার মত অন্যান্য সংস্থাও যেন এমন মহতী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে উদ্যোগী হন সেই আহবান ব্যক্ত করেন। এবং এলাকাবাসীর আহবান, সরকার এবং বিশিষ্টজনেরা যেন “মানুষের কল্যাণে” সংস্থার মত তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। তাছাড়া এলাকাবাসি ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের জনগন এই ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

আমাদের সংগঠনের নাম “মানুষের কল্যাণে”

আসুন এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাড়াই। 

“মানুষের কল্যাণে” একটি স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠন। বিভিন্ন স্কুল,কলেজ এবং ভার্সিটির শিক্ষার্থীরা এটি পরিচালনা করছে। এই সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের কল্যানে সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

%d bloggers like this: