একজন সফল বিতার্কিক হতে হলে যা যা প্রয়োজন

একজন সফল বিতার্কিক হতে হলে যা যা প্রয়োজন

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি স্পোর্টস বিতর্ক প্রতিযোগিতা। ধারণা করা হয় প্রাচীন গ্রীসেই যুক্তিবাদী বিতর্ক’র হাতে খড়ি হয়। আস্তে আস্তে এটি সারা বিশ্বব্যাপি বৃহৎ  প্রতিযোগিতায় রূপান্তরিত হয়। এখন বাংলাদেশ সহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বৃহৎ বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্লাটফর্ম রয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশে শিক্ষিত সমাজের কাছে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অত্যান্ত জনপ্রিয়। বর্তমান আমাদের বাংলাদেশে যুক্তিবাদী যুবসমাজ গঠনে বিতর্ক চর্চা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বিতর্ক হচ্ছে স্বচ্ছ যৌতিকতা। বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত ” যুক্তির আলিঙ্গনে অজ্ঞতার জট কে মুক্ত করা। বাংলাদেশ সহ বিশ্বে বেশ কয়েকটি ফরমেটে বিতর্ক প্রতিযোগিতা রয়েছে যেমনঃ সনাতনি বিতর্ক, একক বিতর্ক, বারেয়ারি বিতর্ক, ছায়া সংসদ, জুটি বিতর্ক, আঞ্চলিক বিতর্ক। এইসব বিতর্কগুলির বিতর্কের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষন অন্য একদিন করা যাবে। 
একজন সফল বিতার্কিক হওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজনঃ- প্রথমত, একজন বিতার্কিক হতে হলে তার দরকার প্রবল ইচ্ছা শক্তি কারণ, মানুষের বড় বড় গুনের মধ্যে অন্যতম একটি গুন হলো মানুষের সামনে কথা বলতে পারা। আর একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে শতকরা ৭৮% মানুষ এটি করতে পারে না। এজন্য ভালো বিতার্কিক হতে হলে সর্বপ্রথম তাকে মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সামার্থ্য অর্জন করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, তাকে স্বচ্ছ যুক্তিসম্পন্ন হতে হবে কারণ স্বচ্ছ যৌতিকতা না থাকলে যে বিতর্কে বেশিদূর যেতে পারবে না। 
তৃতীয়ত, অন্যের মতামতের প্রতি তার সম্মানবোধ থাকতে হবে। কারণ বিতর্ক প্রতিযোগিতা মানে এই না যে সর্বদা নিজের মতামতই সেরা। বিতর্ক প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময় একজন বিতার্কিকের দায়িত্ব প্রতিপক্ষ কী বলছে সেটা স্পষ্টভাবে শুনে তারকথায় যতটুকু যৌতিকতা আছে সেটাকে তুলে ধরা তারপর ঐ বিষয়ে তার যৌতিকতার কোনো ঘাটতি আছে কিনা সেটা তুলে ধরে নিজের যৌতিকতাকে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা করা। বিতার্কিকদের সর্বদা মানুষের সাথে নম্র-ভদ্র আচারণের অধিকারী হওয়া আবশ্যক। 
সর্বশেষ বিষয় হলো, তাকে অনেক কিছু জানতে হবে অথাৎ, বিশ্বের জ্ঞান ভান্ডার থেকে যতটুকু সম্ভব জ্ঞান তাকে সর্বদা আহরণ করার চেষ্টা করতে হবে। কারণ একজন বিতার্কিককে সর্ব জ্ঞানী হতে হয়। না হলে সে একজন বিতার্কিক হিসেবে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারে না। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রাক্তন কিংবদন্তি বিতার্কিকরা একমত। আর কেউ যদি প্রতিষ্ঠিত বিতার্কিক হতে চায় তাহলে সে যদি কোনো বিতর্ক ক্লাবের সদস্য হতে পারে তাহলে বিতর্ক চর্চাকে আরো শানিত করা তার জন্য সহজতর হয়। এমনিভাবে উপরে যে বিষয়গুলি তুলে ধরেছি ঐ আঙ্গিকে একজন পরিপূর্ণ বিতার্কিক হওয়া সম্ভব।


শেখ আবির আহম্মেদ 

জেলা সমন্বয়, সাতক্ষীরা মাইকেল মধুসূদন ডিবেটফেডারেশ, বাংলাদেশ।     

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

%d bloggers like this: