আশাশুনি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ৩ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ!

আশাশুনি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ৩ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ!

জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি:: সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে আশাশুনি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মিজানুর রহমান প্রায় ৩ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় কর্মচারীরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরকার বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন ও আদেশে ‘কোভিট’১৯’ প্রতিরোধে ও নিয়ন্ত্রণে গৃহিত সকল কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সর্বাত্মক সহযোগীতা প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়। এ সংক্রান্ত প্রধান মন্ত্রির কার্যালয়, মন্ত্রি পরিষদ বিভাগ ২২ মার্চ, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় ২৪ মার্চ ও ৪ মে, শিক্ষা মন্ত্রানালয় (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ) ২৪ মাচর্, ১০ এপ্রিল ও ৫ মে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষ অধিদপ্তর ১৯ মার্চ, ১১ এপ্রিল ও ১৩ মে কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকাতে নির্দেশনা প্রদান করে লিখিত আদেশ জারি করা হয়। এসব নির্দেশনা বা আদেশ অমান্য করে আশাশুনি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে বিভিন্ন জরুরী ও সাধারণ কার্যক্রম চরমভাবে ব্যহত হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানাগেছে। নতুন সরকারিকৃত কলেজের নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারীদের সরকার কর্তৃক ‘কোভিট-১৯’ চলাকালিন অবর্ননীয় দূর্দশার কথা চিন্তা করে কলেজ ফান্ড থেকে এপ্রিল ও মে দু’মাসের মূল বেতন প্রদানের জন্য ১৮ মে লিখিত আদেশ প্রদান করা হয়। তার অনুপস্থিতির কারণে নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারীগণ তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ‘কোভিট-১৯’ চলাকালিন শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ক্ষতি পুশিয়ে নিতে অনলাইন ক্লাস চালু করার আদেশ জারি হলেও এ কলেজে সম্ভব হয়নি শুধু মাত্র তিনি অনুপস্থিত থাকায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক কর্মচারী জানান, ঈদ-উল-ফিতরের আগে দু’মাসের বেতন প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রির নির্দেশনা থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীগণ ঈদের আগে দু’মাসের বেতন না পাওয়ায় তাদের স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবার পরিজন নিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করতে বাদ্য হয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও ঈদ-উল-ফিতর কেন্দ্রিক সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে আশ্রায়হীনদের কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানের চাবিসহ প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করার জন্য জরুরীভাবে সরকারি নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কিন্তু তাতেও তিনি প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করেননি বা উপস্থিত ছিলেন না। ফলে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ পার্শ্ববর্তী পরিবারের লোকজন প্রতিষ্ঠান প্রধানকে কর্মস্থলে না পেয়ে অবশেষে আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ অন্যস্থানে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। প্রসঙ্গতঃ গত ৯ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামের তালিকা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় প্রেরনের জন্য বিভাগীয় কমিশনারদের বরাবর নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সে মোতাবেক আদিষ্ঠ হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যলয় থেকে অনুপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা প্রেরনের কথা থাকলেও অদ্যবদি তা পাঠানো হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানাগেছে।

অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের উদাসিনতা আর সরকারি নির্দেশা অমান্যের ফলে দিনে দিনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকারি করনে চলমান কার্যক্রম আর শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থীবৃন্দ। এব্যাপারে সচেতন এলাকাবাসি ও অভিভাবক মহলে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এব্যাপারে ঢাকা অথবা দূরবর্তী জেলায় অবস্থানকারী অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

%d bloggers like this: