অস্থির সমাজ ব্যবস্থার নীতিহীন প্রজন্মের দ্বায়ভার আসলে কাদের?

অস্থির সমাজ ব্যবস্থার নীতিহীন প্রজন্মের দ্বায়ভার আসলে কাদের?

যখন দেখবে শিক্ষক আর চিকিৎসক অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে, তখন ধরে নিও সমাজ অধঃপতনের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেছে -ইমাম গাজ্জালি
★প্রথমত একটা জাতির ইতিহাস ঐতিহ্য নির্ভর করে তাদের ধারণের উপর তাদের বহন করার ক্ষমতার উপর, তারা আদর্শিকভাবে সবকিছু ধারণ করছে নাকি বাহ্যিক ভাবে সামন্তরাল জোয়ারে ভাসছে সেটার উপর নির্ভর করে তাদের অস্তিত্ব, অস্তিত্ব বিপণ্ণ করে আর যাই হোক ইতিহাসের পৃষ্টা উল্টানো যায় না।
★সমাজকে সুনিপুন ভাবে যুগের পর যুগ মানুষের মাঝে তার ঐতিহ্য ধারন করে বাঁচতে হয় তার জন্য চলচিত্র নাটক থিয়েটার সামাজিক সংস্কৃতি মানুষের হৃদয়ে ধারণ করতে হয়। সাহিত্যক কবি শিল্পীদের সমাজের ঘটে যাওয়া ঘটনা তাদের তুলিতে কন্ঠে মানুষের জন্য উপস্থাপন করতে হয়। বর্তমান সমাজের চলচিত্রে কিংবা আদর্শিক হিসাবে নির্ধারণ করা হয় ১০লক্ষ ফলোয়ারের টিকটক স্টার কে, নায়কের ভুমিকায় হিরো আলমদের টি আর পি, সংস্কৃতি নির্ধারণ হয় রিপন ভিডু এদের মাধ্যমে এই অধঃপতন আজকে একদিনে হয় নাই রাজনীতির কুপ্রথার শাসকদের ধারাবাহিক ভাবে ব্যর্থতার ফসল হিসাবে আজকে এরা হয় সমাজের সুপারস্টার, বিপন্ন সমাজকে রক্ষা করার দায়িত্ব আসলেই কাদের হাতে? সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলে যে একটা কিছু আছে তাদের কাজের আসলেই কি পরিচয় বহন করে!
★সাংবাদিকদের বলা হয় সমাজের দর্পণ তাদের সত্য সৎ লেখার ভূমিকার উপরে সমাজের বাস্তব প্রতিচ্ছবি দেখতে পায় মানুষ। আজকে সাংবাদিকতার নামে তেলবাজি দালালি নিজেদের রক্ষা করার যে মিশন ভিশন নিয়ে যে উদ্দেশ্য এই পেশার মানুষেরা দিনে দিনে সমাজকে আজকে এই অন্ধকার অবস্থায় নিয়ে এসেছে এর দ্বায়ভার কিন্তু ঐ পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বহন করে যেতে হবে।
★শিক্ষকতা কে সকল পেশার মহান পেশা হিসাবে ধরা হয় সারা পৃথিবীতে তারা সমাজ গঠনের মূল কারিগর তাদের তৈরি শিক্ষা ব্যবস্থার উপরে নির্ধারিত হয় পরবর্তী সমাজব্যবস্থা সেখানে ও কি অসহনীয় প্রতিযোগিতা শিক্ষকরা এখন শিক্ষাদানে ব্যস্ত নয় তারা ও দলাদলি তেলবাজি উপরে ওঠার সিড়ি খুঁজতে যেয়ে পুরা শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙ্গে ফেলার উপক্রম শুধু সার্টিফিকেট এ পাশ করেই যদি মানুষ শিক্ষিত হত তাহলে টাকা দিয়ে কেনা সেই শিক্ষার মান নির্ধারণ সমাজের জন্য না, সুশিক্ষিত একটা মানুষ যখন তার চাকুরির সুপারিশের জন্য একজন টাকা লোভী মানুষের সুপারিশে নিয়োগ প্রাপ্ত হয় যেকোন প্রতিষ্টান তখন তার পেশার প্রতি কোন দ্বায়বদ্ধতা থাকে না সেটাও টাকার বিনিময়ে শ্রম হয়। মেধাবীরা ঝরে যায় নিয়মের যাতাকলে বান্দর বসে থাকে গাছের মগডালে। পরিক্ষার আগে প্রশ্নফাঁসের আশায় যেসব মা-বাবা বসে থাকে ১০লক্ষ টাকার প্রশ্ন কিনে ছেলে আমার A+ পাবে, তাদের টাকার উৎস জানতে মন চায় শিক্ষা বিক্রির নামে এই বিভ্রান্তির শেষ কোথাই?
★ঈশ্বরের পরে স্থান ডাক্তারদের, মানুষ বেশি বিশ্বাস করে যাদের উপর তারা হলেন ডাক্তার করোনা কালে আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়ছে তাদের মুখোশ মানুষকে নিয়ে ব্যবসা করা তাদের যেনো সেবার ভিতরে পড়েছে অথচ তাদের আসল উদ্দেশ্য মানুষের জীবন বাচাঁনো মানুষের সেবা করা। জীবন বাচাঁতে না পারলে ও তাদেরকে মৃত্যমুখে ঠেলে দেওয়ার এই অবস্থার সৃষ্টি একদিনে হয় প্রত্যেক পেশার সাথে লেজুরবৃত্তি করে আজকে এই অসহায় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এভাবেই ঠিক প্রত্যেক পেশায় দূবৃত্তরা চক্রকারে ঘুরছে সবাই যে ভালো হবে এমনটাও নয় কিন্তু প্রত্যেক পেশায় খারাপের সংখ্যা দীর্ঘ, ভালোর সংখ্যা অণুবীক্ষণ যন্ত্রদিয়ে খুজঁতে হয় কারণ তার দাম নাই সমাজে তোমাকে প্রতিষ্টিত করবে তোমার পেশার সম্মান হিসাবে নয় তোমার টাকার পরিমাপের যোগ্যতায়,সেই টাকা দিয়ে আপনারা যতই উঁচু ভবন নির্মাণ করেন না কেনো আগামী প্রজন্মের জন্য আপনারা একটা শিকড়হীন সমাজ ব্যবস্থা রেখে যাচ্ছেন এর দ্বায়ভার আপনাদের প্রত্যেক পেশার সবার না হলেও বেশি ভাগ মানুষের, যদি গাছের শিকড় পচে যায় আপনি যতই গাছের উপরে আলোকসজ্জা করেন না কেনো সেটা তো প্রকৃত পদত্ত নয় সেটা নিভে যাবে অনেক প্রকার অঙ্কুরেই, পেশা যদি নেশা হিসাবে ধরা হয় তবেই কাজের প্রতি যে আনন্দ অনুভব হবে সেই আনন্দের থেকেই সমাজের প্রত্যেক স্তরে ক্ষয়ে যাওয়া দিকগুলো বিনির্মাণ করা সম্ভব হবে। নতুবা একটা অপরিণত রাষ্ট্রের অকাল মৃত্যর দ্বায় থেকে কেউ নিজেদের ক্ষমা করতে পারবেন না। নিজে বদলালে সমাজ বদলাবে। শোনেন একটা কথা বলি, নিজের বিবেকের থেকে পৃথিবীতে কোন আদালত নাই। সমাজে প্রতিষ্টিত সব নিয়মই কি সমাজ রক্ষার জন্য করা হয়েছে? নাকি যারা যখন সমাজের প্রতি সেজে ছিল তাদের সুবিধার জন্য করা হয়েছে? এটার হিসাব যদি আপনি করতে না পারেন আপনার সার্টিফিকেট শিক্ষার দাম থাকলে ও প্রকৃতভাবে আপনি সুশিক্ষিত নন। যারা নিয়ম ভেঙ্গে কোনকিছু করেছে তারা সবাই বাধাঁর সম্মুখীন হয়েছে। তাদের মৃত্যর পর যখন দেখছে এটাই ভালো তখন সেটাই নিয়ম হয়েছে। সমাজের সৃষ্টি হয়ছে মানুষের জন্য, সেই সমাজই যদি মানুষ কে বিভক্তি করে তাহলে ঐ সমাজ ব্যবস্থার দরকার কি? বানর থেকে মানুষ হয়ে, বনের থেকে লোকলয় তৈরি করে তাদের বসবাসের উপযোগী করার জন্যই তৈরি করছে সমাজব্যবস্থা। সেটা দিনে দিনে সবার নিজে সমাজপতির সুবিধার জন্য ব্যবহার করতে করতে এমন অবস্থায় নিয়ে এসেছে যে, সমাজ নিজেও যদি তার মুখ আয়নায় দেখতো সে লজ্জায় লাল হয়ে যেতো! মানুষ যতরকম সুযোগ সুবিধা প্রকৃতির কাছ থেকে ভোগ করার জন্য নিজেরা প্রকৃতির উপরে নির্যাতন করে আসছে। প্রকৃতি ও কিন্তু সুযোগ মত তার সব ঋণ সুদ সমেত ফিরিয়ে দিচ্ছে মানুষ এবং তার পরিবেশকে। শুধু নিজের জন্য নয় প্রকৃতিগত ভাবে বেচেঁ থাকতে চাইলে আজীবন নতুন চিন্তা ধারার কিছু করুন। যেটার সাময়িক অসুবিধা আপনার জন্য হলেও আপনার তৈরি পথে অনেকেই হাটঁবে সময়ের পরিক্রমায়। কিন্তু পথ তৈরির সময় সঙ্গে পাবেন কিন্তু খুব কম পথিক। জীবের জীবন আছে সব জীবের মধ্য মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, কারণ মানুষ পরিবর্তনে বিশ্বাসী মানুষ পরিবর্তন ও সৃষ্টিশীলতায় বিশ্বাসী এইজন্য। সেই মানবজন্ম আপনার অবশ্যই হবে ধন্য যদি সত্যিই কিছু করেন মানুষের জন্য। যেকোনো পরিবর্তনে মানুষের অনেক বাঁধা, তাই বলে তো আর সমাজ নামক পরিবেশের জন্য মানুষের পরিচয় আর গাধা হতে পারে না। জীবনকে যাপন নয়, উদযাপন করুন। মৃত্যর পরে আপনার কর্ম থাকবে আপনি নয়। কাজের জন্য শান্তি পাই আত্মা, আপনার শরীর নয়। সবকিছু ধ্বংস হলেই সেখান থেকে নতুনত্বের সৃষ্টি হয়। এর জন্যই সৃষ্টি বড়ই রহস্যময়।

লেখকঃ রাজু ঘোষ, সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

%d bloggers like this: