তালায় ঘুমন্ত স্বামী এসিড দগ্ধ: স্ত্রীকে আসামীকে করে মামলা

তালায় ঘুমন্ত স্বামী এসিড দগ্ধ: স্ত্রীকে আসামীকে করে মামলা

তালা প্রতিনিধি:: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ১১নং জালালপুর ইউনিয়নের চর কানাইদিয়ায় বন্ধ ঘরে ঘুমন্ত স্বামী এসিড দগ্ধের ঘটনায় স্ত্রী আশা ওরফে হাফসাকে আসামী করে সংশ্লিষ্ট তালা থানায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার শিকার আল আমিন গাজীর পিতা সাত্তার গাজী বাদি হয়ে গত রবিবার (১১ আগস্ট) পুত্রবধূ আশাকে একমাত্র আসামী করে মামলাটি করেছেন। মামলা নং-১। এর আগে তালা থানার এসআই প্রীতিশ রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আশাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেন। পরে মামলা হলে তাকে আটক দেখিয়ে সোমবার ঈদের দিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে বন্ধ ঘরে এক বিছানায় ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুধুমাত্র স্বামী এসিডদগ্ধ হওয়া ও নিক্ষিপ্ত এসিডের পাত্র খুঁজে না পাওয়ায় মূলত সন্দেহের তীর ঘরের বাইরেও প্রসারিত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনায় কোন তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ত থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ঘটনার পর দগ্ধ আলামিনের স্ত্রী আশাকে একমাত্র আসামী করে মামলা হয়। তবে ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশ, জনপ্রতিনিধি কিংবা পরিবারের কেউই এসিডের পাত্রটি উদ্ধার করতে পারেনি। অন্যদিকে পরিবারের দেয়া তথ্য মতে বদ্ধ ঘরের মধ্যে বাইরে থেকে এসিড নিক্ষেপের মত কোন সুযোগ বা ফাঁকা নেই। সঙ্গত কারণেই ভেতর থেকে তাকে কেউ আক্রমন করেছে, এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

রাসায়নিক দাহ্য পদার্থ এসিড ছোড়ার আগ পর্যন্ত তা সংরক্ষনের পাত্রটি ঘটনার পর ঐ রাতে কিংবা পরে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি অথবা পরিবারের কেউ উদ্ধার করতে পারেনি। সঙ্গত কারণে একটা প্রশ্ন অবশিষ্ঠ থেকেই যাচ্ছে। আর তা হল, কোন তৃতীয় পক্ষ ঘটনায় জড়িত রয়েছে। যে আল আমিনকে এসিড ছুড়তে অথবা তা সরবরাহে সহযোগিতা করেছিল। সেক্ষেত্রে হয় আগে থেকেই দরজা খোলা রাখা হয়েছিল, অথবা ঘটনার আগে দরজা খুলে তৃতীয় জনকে ঘরে ঢুকিয়ে নেয়া হয়। ঘটনার পর তাকে সরিয়ে দিয়ে ফের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর দগ্ধ আল আমিনই দরজা খুলে দিলে স্বজনরা ভেতরে প্রবেশ করে তাকে উদ্ধার করে।

এদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন আল আমিন গাজীর শরীরের ৪০% পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশংকামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন রোগীর সাথে থাকা স্বজন রুহুল আমিন। তবে আক্রান্ত রোগী সাংবাদিকদের কথা বলেছেন। এসময় কে বা কারা তাকে এসিড নিক্ষেপ করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি অস্ফুট স্বরে জানান, তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না কে বা কারা এটা করেছে। তবে তিনি জানান তার স্ত্রী আশা ঈদ উপলক্ষ্যে ৯ দিন রোযা রেখেছিলেন।

এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, উপজেলার চর কানাইদিয়া গ্রামের সাত্তার গাজীর ছেলে আল আমিন গাজী পেশায় একজন রড মিস্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ দিন যাবৎ ঢাকায় অবস্থান করছিল। অন্যদিকে তার স্ত্রী আশা ওরফে হাফসা বেগম প্রায় ৩ বছর যাবৎ সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে প্রবাসী ছিলেন। সেখানে উপার্জনের সব টাকাই তিনি তার স্বামীকে পাঠাতেন। একপর্যায়ে নিজ খরচে পরবর্তীতে তিনি তার স্বামী আল আমিনকেও সৌদি আরবে নিয়ে যান। তবে সেখানে মাত্র ৩ মাসের কর্মজীবন ছেড়ে আল আমিন ফের দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে ২০১৭ সালের ৪ জুলাই টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার গুড়াকি গ্রামের আব্দুল হালিমের স্বামী পরিত্যাক্তা মেয়ে হালিমাকে বিয়ে করেন। গত বছরের ডিসেম্বরের দিকে আয়েশা দেশে ফিরে স্বামীর সাথে একমাত্র ছেলে হুজাইফা (৮)সহ ঢাকাতেই অবস্থান করছিলেন। এরপর চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারী আল আমিন শর্তভঙ্গ, মিথ্যাচারসহ নানা অভিযোগে নোটারী পাবলিক, খুলনা হতে হালিমাকে তালাক প্রদান করেন। সর্বশেষ ঈদ করতে বুধবার তারা ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি কানাইদিয়ায় আসেন এবং রবিবার দিবাগত রাতে এসিড সন্ত্রাসের শিকার হন।

ঘটনার পর থেকেই স্বামীকে নিয়ে চিকিৎসায় আশা প্রথমে সাতক্ষীরা ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। পুলিশ অবশ্য খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এনেছিল। তবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আশা কিছুই বলেনি পুলিশকে, এমনটাই জানিয়েছেন থানা পুলিশ।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন