ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে

ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে

ডেস্ক রিপোর্ট:: ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গু এখন ছড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন কাজে রাজধানী ঢাকায় এসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন চিকিৎসকসহ উত্তরাঞ্চলের ২৮ ব্যক্তি। তারা এখন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গত তিনদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জন ভর্তি হয়েছেন। তারাও ঢাকায় এসে এডিশ মশার দংশনের শিকার হয়েছেন। চট্টগ্রামে সাতজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিকে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির এক ব্যক্তিরও ঢাকায় ডেঙ্গু সনাক্ত হয়। তিনি এলাকায় গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে ১৬ জন এবং শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত আরও ১২ জন রোগী ভর্তি হন সেখানে। এর আগে আরও দুই জন ভর্তি হয়েছিলেন। তারা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমানে যারা ভর্তি রয়েছেন তারা ডেঙ্গুর প্রথম স্তরের (স্টেজ-১) রোগী। তাই আতঙ্কের কিছু নেই। চিকিৎসায় তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন।

ভর্তি রোগীদের মধ্যে রয়েছেন বগুড়া পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্মকর্তা ডা. আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া গ্রামের বাসিন্দা লাবনী আকতার, জেলার শেরপুর উপজেলার কল্যাণ এলাকার বাসিন্দা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উম্মে কুলসুম, একই উপজেলা এলাকার মুক্তার (৩২), বগুড়া শহরের সুত্রাপুরের আজাদ (৩২), সদরের বেজোড়া গ্রামের মানিক (২৭), জেলার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান এলাকার আসাদুল (৩৫), একই উপজেলার রসুলপাড়ার কনক (২৭), মাড়িয়া গ্রামের সনি আলম (৩০), সারিয়াকান্দির কাটাখালি গ্রামের রতন (৩২), বগুড়া সদরের ধাওয়াপাড়ার শফিকুল ইসলাম (৩৩), নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাঝগ্রামের রাফি (২৩), মাড়িয়া গ্রামের সনি আলম (৩০), ধুনটের মথুরাপাড়ার শাহীন (২৬), সারিয়াকান্দি উপজেলার কাটাখালি গ্রামের রতন (৩২), শাজাহানপুর উপজেলার শাবরুল গ্রামের পারভেজ (২০), জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকার সাইদুল (৪০), একই এলাকার শিক্ষার্থী রেদওয়ান হোসেন (২০), একই এলাকার উলিপুর গ্রামের বর্ষণ (১৯), দোগাছি এলাকার রবিউল (১৮), সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার রশিসাপুর গ্রামের সোহেল রানা (২০), একই উপজেলার নাটুয়াপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য ফজলুল হক (৪২), শাহজাদপুর উপজেলার গারাদহ এলাকার শ্রাবণী রাণী (১৯) ও নওগাঁ সদরের পার নওগাঁ এলাকার জিসান (২০)।

চিকিৎসাধীন শ্রাবণী রাণী জানান, তিনি কোচিংয়ের জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন। হঠাৎ ক’দিন ধরে জ্বরে হলে পরীক্ষার জানতে পারেন তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত্ম। এরপর ২৫ জুলাই রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন রেদওয়ান হোসেন জানান, তিনি মেডিকেলে কোচিংয়ের জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন। এরপর বাড়ি ফিরে তার জ্বর শুরু হয়।

শজিমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আরিফুর রহমান তালুকদার জানান, ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে যারা ভর্তি হয়েছেন তারা প্রত্যেকেই কোন না কোন সময় বিভিন্ন কাজে ঢাকা গিয়েছিলেন। এখন সবার অবস্থা মোটামুটি ভাল। আশা করি তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাবেন।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন