‘ইছামতি বুলবুল গুণিনে’র কেরামতি!

‘ইছামতি বুলবুল গুণিনে’র কেরামতি!

কোন গল্প না উপন্যাসের কাহিনী নয়, বাস্তবে ঘটে যাওয়া কয়েক মাস আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে, “সাতক্ষীরা টুডে” পত্রিকায় পাঠানো একজন পাঠকের অভিভমত সকলের উদ্দেশ্য তুলে ধরা হল।

ঘটনা দেবহাটা উপজেলার ভাতশালা গ্রাম। ক বিশ্বাসের বউ নিখোঁজ। বাড়ির লোকজন খ গুণিনের শরণাপন্ন হলো। খ গুণিন পাশের গ্রামের গ তুলোরেশেকে ডেকে নিলেন। গুণিন মহাশয় দেহ-গ-ী দিয়ে অজ্ঞাত কিছু পাঠ করে ফুঁক মারার সাথে সাথে গ তুলোরেশে ফিট হয়ে জমীনের উপর পড়ে গেল এবং নিয়মমাফিক কশাকশি-ঘোটাঘুটি করতে লাগল। এরপর খ গুণিন ‘আয়না ভ্রমণ’ করতে লাগলেন। চারিদিকে থমথমে পরিবেশ। রাতের আঁধার পরিবেশকে আরো ভূতুড়ে করে তুলল। গুণিন সাহেব আয়নার মধ্যে দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পেলেন যে, পলাতক বউ এখন কুলিয়া, বহেরা, পুষ্পকাটি ও আলিপুর Ñ এই এলাকার মধ্যে ঘোরাঘুরি করছে। অমনি চারিদিকে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল। অন্ধকারের মধ্যেও সকলের চোখের তারায় আশার আলো চিকচিক করে উঠল। ক বিশ্বাস ও তার লোকজন কয়েকখানা মটর সাইকেল হাঁকিয়ে নিয়ে তুফান-গতিতে ছুটলেন কুলিয়া অভিমুখে। ছুটছে বাইক চলছে ফোন, পুড়ছে টাকা পুড়ছে তেল। কিন্তু না। তিন দিন তিন রাত হন্যে হয়ে তন্নতন্ন করে খুঁজে ফিরেও কুলখাগি বউয়ের কোন সন্ধান পাওয়া গেল না। চতুর্থ দিন সকালবেলা গ্রামের জনৈকা প্রতিবেশিনী মহিলা ক বিশ্বাসের দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত রান্নাঘরের পাশ দিয়ে মাঠে ছাগল চরাতে যাওয়ার পথে নাকে লাগল কেমন যেন একটা বিকট পচা দুর্গন্ধ। ওয়াক থু! কিন্তু গন্ধটা যে কোত্থেকে আসছে, তিনি ঠিক আন্দাজ করতে পারছেন না। এদিক-ওদিক ঠাওর করতে করতে রান্নাঘরের ফাঁক দিয়ে ভেতরে উঁকি মারতেই চক্ষু চড়কগাছ! আড়ার সাথে যেমন-তেমন করে বাঁধা দড়িতে ঝুলছে একটা মানুষ, মেয়েমানুষ; মরে গেছে। হায় আল্লাহ, একি দেখলাম, একি দেখছি! এ তো ক বিশ্বাসের বউ! আহা রে, কয়েকদিন ধরে ঝুলে থেকে ফুলে-ফেঁপে সুন্দর দেহখানি কী ভয়ানক বীভৎস বিকৃত রূপ ধারণ করেছে। ছাগল-পালা মহিলা ঘটনার আকস্মিকতায় কিছুটা ভয়ে ও নিদারুণ দুঃখে চিৎকার করে কেঁদে উঠলেন। লোকজন ছুটে এল, মানুষ জড়ো হয়ে গেল, গ্রাম রাষ্ট্র হয়ে গেল। সকলের মুখে Ñ ক বিশ্বাসের বউ গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে। খ গুণিন নীরব। অতঃপর যথারীতি থানা-পুলিশ, নেতা ধরা, অভাগিনীর উপর সব দোষ চাপিয়ে দিয়ে সকলের নিষ্কৃতি লাভ ইত্যাদি। এদিকে ‘আয়না ভ্রমণে’র পারিশ্রমিক বাবদ গুণিনগং ইতঃপূর্বে পাঁচ শত টাকা মাত্র পকেটস্থ করেছেন। কারণ এটাই উনাদের ব্যবসা। হালাল ব্যবসা! এত্ত বড় ‘চোখে আঙুল দেওয়া’ ঘটনা ঘটার পরেও এলাকায় গণন-ব্যবসা চলছে, তাবীজ-কবজ চলছে, মাজার-পূজা চলছে, ‘বাবা ক্যাবলার শীত লেগেছে, চাদর চড়াও’ চলছে, বহাল তবিয়তে চলছে, সাতক্ষীরায় চলছে, ‘খান বাহাদুরে’র আস্তানায় চলছে, সারা বাংলাদেশে চলছে এবং সম্ভবত ভবিষ্যতেও চলবে, দেশ যতই পুঁথিশিক্ষিত হোক না কেন; ধুতি নষ্ট করবেই। চলবে…………………..

তথ্য প্রদানে: কামরুজ্জামান

পাঁচপোতা,দেবহাটা, সাতক্ষীরা।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন