কলারোয়ার ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুর আশ্রমের্ ইতিকথা

কলারোয়ার ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুর আশ্রমের্ ইতিকথা

শফিকুর রহমান, কলারোয়া : সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের কেঁড়াগাছিতে (তৎকালীন বূঢ়ণ গ্রাম) নামাচার্য্য শ্রী শ্রী ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুর জন্মভিটা আশ্রমের উন্নয়ন এবং প্রতিবছর অনুষ্ঠেয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ দুইটা অনুষ্ঠান হয়।যার একটি হলো ভগবান শ্রী কৃষ্ণের পঞ্চম দোলযাত্রা উৎসব আর অন্যটি হলো ১৬ প্রহর নামযজ্ঞ সহ অনেক ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

সাতক্ষীরা তথা বাংলাদেশের এই পূন্যভূমি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ভারত ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। প্রতিবছর ভক্ত সমাগম ক্রমাগত বেশী হওয়ায় পাশ্ববর্তী জমির মালিক আঃ মাজেদের নিকট আশ্রম পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক কার্ত্তিক চন্দ্র মিত্র ও আশ্রম পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্দ্বীপ রায় এবং আশ্রমের সদস্য গণকে সাথে নিয়ে ০৫|০২|২০১৯ তারিখে ১০ কাটা জমি ক্রয়ের বায়না করেন।
নামাচার্য্য শ্রী শ্রী ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুর আশ্রমের পূজারি সদানন্দ দাশ বাবাজী ও আশ্রমের সদস্য গণ ১৭/০৪/১৯ তারিখে একই জায়গা ও একই মালিক থেকে আরো ১০ কাটা জমির বাইনা প্রদান করা হয় ।

এদিকে শ্রী শ্রী ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুরের জন্মভিটা আশ্রমের সার্বিক উন্নয়ন ও সহযোগিতায় যার নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতে হয় তিনি হলেন সাতক্ষীরা-১ তালা কলারোয়া আসনের সাংসদ এড.মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি।
এই আশ্রম টিকে আন্তর্জাতিক মানের রুপ দেয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। অশ্রমের সভাপতি অধ্যাপক কার্ত্তিক চন্দ্র মিত্রের সাথে সর্বক্ষণ যোগাযোগের মাধ্যমে কি ভাবে আশ্রমের উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা যায় সে দিকে তিনি সার্বক্ষণিক সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন।

এই আশ্রমের সভাপতি অধ্যাপক কার্ত্তিক চন্দ্র মিত্র আশ্রমটিকে দৃষ্টিনন্দন, উন্নয়ন মুখি কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং সর্বোপরি আশ্রমটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিয়মিত মতবিনিময় সভা, মাসিক সমন্বয় সভা, সহ আরও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা পরিষদের সকল সদস্যকে ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে আশ্রমের সার্বিক উন্নয়ন ও সহযোগিতা মুলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে বরাবরের মতো সদা সচেষ্ট আছেন।

এ ব্যাপারে ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুরের আশ্রম পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক কার্ত্তিক চন্দ্র মিত্র কলারোয়া নিউজকে বলেন, সোনাই নদীর পাড় যাতে ভেঙ্গে না যায় সে দিখে লক্ষ্য রেখে মন্দির সংলগ্নে ৫০০ ফুট বাঁধের ব্যবস্থা করা, একটি নাট মন্দির, বহুতলবিশিষ্ট আধুনিক কমপ্লেক্সে রূপান্তর, দেশ বিদেশের ভক্ত পর্যটকদের জন্য একটি স্থায়ী ভক্ত নিবাস তৈরি, ধর্মীয় উৎসবে আগত লক্ষাধিক ভক্তের

অবস্থানের জন্য হলরুম তৈরি, বিশ্বকে চেনাতে ও জানাতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, হরিদাস ঠাকুরের কর্মজীবন ও দর্শন সম্বলিত জাদুঘর, আশ্রমের যাবতীয় কর্মকান্ডের জন্য একটি অফিসঘর নির্মান।

আর এইসব কাজের জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন তাই সকল ভক্ত ও অর্থদাতা দেরকে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন ।

তিনি আরও জানান , এই এক বিঘা জমি সহ আশ্রমের মোট জমির পরিমান হলো ৬ বিঘা ১০ কাটা। এই জমির ওপারে হরিদাস ঠাকুরের ১ টি মন্দির, হরিদাস ঠাকুরের নির্য্যান মন্দির, ও রাধাগোবিন্দ সেবা কুঞ্জ নামে একটি মোট ৩ টি মন্দির রয়েছে। এছাড়া সোনাই নদীর পাঁড়ে ৪০ ফুট বাই ৫০ ফুটের একটি শানের ঘাট নির্মাণ আছে। শানের ঘাটের দুই পাশ দিয়ে ৮ ফুট গভীর করে কনক্রিট ঢালাই দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে গার্ডোয়াল । শানের দুই পাশে ৬০ ফুট কাজ হয়েছে ইতিমধ্যে আরো।

৯০ ফুট কনক্রিট ঢালাই দিয়ে গার্ডোয়ালের কাজ শুরুবকরা হয়েছে । এই গার্ডোয়ালের কাজ করা হবে ৫০০ ফুট । তিনি আরও বলেন, এই পাহাড় সম এই সব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে শূধুমাত্র ভক্তবৃন্দের মুক্ত দান ও নিরলস প্রচেষ্টার কারণে ।
তিনি স্থানীয় সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যাক্তিবর্গের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন