সাতক্ষীরার হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল ও মৎস্য উৎপাদন হুমকির মুখে!

সাতক্ষীরার হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল ও মৎস্য উৎপাদন হুমকির মুখে!

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়ায় অবস্থিত লাবণ্যবর্তী খালের স্লুইচ গেট না থাাকায় চাষীরা বিপাকে, হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল ও মৎস্য উৎপাদন হুমকির মুখে। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের দক্ষিণ অঞ্চল অর্থাৎ সাতক্ষীরা জেলার কৃষকরা ধান ও মৎস্য চাষকে প্রধান চাষ হিসাবে মনে করে। আর এই এলাকার চিংড়ী বিদেশে রপ্তানী করে প্রতি বছর বাংলাদেশ সরকার মোটা অংকের রাজস্ব উপার্জন করছে। যে চিংড়ীর অধিকাংশই আসে এই সাতক্ষীরা জেলা থেকে। তাই সাতক্ষীরা জেলা দেশের মানুষের কাছে সাদা সোনার জেলা নামে খ্যাত। আর দেবহাটা উপজেলার কৃষকদের মাছ চাষের পাশাপাশি ধান সহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনেও রয়েছে প্রচুর সুনাম। উপজেলার সবচেয়ে বেশি চিংড়ী উৎপাদনকারী ইউনিয়ন কুলিয়া ও পারুলিয়া সহ সাতক্ষীরা সদর এবং আশাশুনি উপজেলার কিছু অংশে পানি প্রবাহের সঠিক ব্যবস্থানার অভাবে মৎস্য ঘেরের লোকসানের আশঙ্কা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায়, দেবহাটা ইছামতি নদী থেকে সরাসরি জোয়ারের পানি শাখরা গেট দিয়ে চলে আসে কুলিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত একমাত্র খাল লাবন্যবর্তী দিয়ে। কিন্তু শ্রীরামপুর বাজারের পূর্ব পাশ দিয়ে অবস্থিত লাবণ্যবর্তী খালের একটি শাখা খাল যার নাম শ্রীরামপুর খাল। শ্রীরামপুর হতে এই খাল দিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বহেরা, গুচ্ছগ্রাম, বাদামতলা, গাংনী, মাহমুদপুর, ভাড়–খালি সহ বিস্তর এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কাজে ব্যবহার হয়। আর এই এলাকার কৃষকরা হাজার হাজার বিঘা জমিতে ইরি চাষকে প্রাধন্য দিয়ে থাকে। এছাড়া কিছু কিছু কৃষক ধান চাষের পাশাপাশি, সাদা মাছও চাষ করে থাকে। তাই চৈত্র-বৈশাখ মাসে এই খালে লোনা পানি প্রবেশ করলে এসকল ফসল উৎপাদন দারুন ভাবে ব্যহত হয়। একারণে শাখরা-কোমরপুর স্লুইচ গেটের ডালা বন্ধ করে লোনা পানি উত্তোলণ বন্ধ রেখেছে স্থানীয়রা। অপর দিকে এলাকাটি নি¤œ হওয়ায় লাবণ্যবর্তী খাল থেকে শ্রীরামপুর শাখা খালের প্রবেশ মুখে স্লুইচ গেট অত্যান্ত জরুরী। এসমস্যার কারণে কুলিয়া ও পারুলিয়া ইউনিয়নের বাগমারি, পদ্মচোখা, কুমিরমারি, সুবর্ণাবাদ, রঘুরাথপুর, আন্দুল পোতা, নুনে খোলা, হিজলডাঙ্গা, রামনগর, শ্যামনগর, গোপরাখালি, শশাডাঙ্গা, হিরারচক, শান্তা, নাজিরের ঘের, ফুলবাড়িয়া, টিকেট, সদর উপজেলার গাভা-ফিংড়ী, আশাশুনি উপজেলার মজগুল খালি, বদরতলা, শরাফপুর সহ বিস্তর এলাকার হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের পরিপুর্ন লোনা পানি না ওঠার ফলে চিংড়ী চাষ হুমকির মুখে। এতে একদিকে যেমন এলাকার ঘের মালিক এবং ধান চাষিরা লোকসানের মুখে, অন্য দিকে সঠিক ভাবে চিংড়ী উৎপাদন না হলে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব হারাবে বলে মনে করছে স্থানীয়রা।
এব্যাপারে কুলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম জানান, মাঝে মাঝে শ্রীরামপুর বাজার সংলগ্ন শ্রীরামপুর শাখা খালের মুখ বেধে দিয়ে পানি ওঠানো হচ্ছে। তবে এটি অনেক ব্যয়বহুল হওয়ায় উক্ত স্থানে একটি স্লুইচ গেট নির্মাণ করা এসমস্যার দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান হবে।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন