তালায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের এখন বোরো আবাদ কৃষকদের গলার কাটা

তালায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের এখন বোরো আবাদ কৃষকদের গলার কাটা

জামালউদ্দীন : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের চরম উদাসীনতায় উন্মুক্ত জলাশয় ও প্রবাহমান খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ, প্রতিবছর অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের বেড়ে যাওয়ায় এ মৌসুমের বোরো আবাদের কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। গত ১ সপ্তাহ পূর্বে টানা বৃষ্টিতে বোরো আবাদের ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ধানগাছ বাঁচাতে নিজ নিজ উদ্যোগে স্যালোমেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাশনে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এ মৌসুমে কাঙ্খিত ধান উৎপাদন নিয়ে শঙ্কিত কৃষকরা। ভুক্তভোগী একাধিক কৃষকদের অভিযোগ উপজেলার জালালপুর, মাগুরা, খেশরা, সরুলিয়া, নগরঘাটা, খলিষখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বিলের সমস্ত প্রবাহমান খাল ও উন্মুক্ত জলাশয় এখন প্রভাবশালীদের দখলে। প্রভাবশালীরা খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় দখলদারদের দখল দারিত্ব বেড়েই চলেছে। আর এ তালিকায় রয়েছে আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতারাও। সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গেছে, সরুলিয়া ইউনিয়নের সরুলিয়া নামক গ্রাম থেকে কপোতাক্ষ নদের সঙ্গে সংযোগ রেখে একটি খাল নগরঘাটার জনক এর বাড়ি থেকে সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে বেতনা নদীতে মিলিত হয়েছে। একই ভাবে জনক এর বাড়ি হতে খালটি খলিষখালী ইউনিয়ন হয়ে মাগুরা, জালালপুর ইউনিয়নের উপর দিয়ে আবারো কপোতাক্ষ নদের সাথে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এ খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ কিলোমিটারেরও বেশি। খালটি বিভিন্ন অংশে দখলদাররা দখল করে বহাল তবিয়তে মাছ চাষ করছে। এ খালটির সাথে জালের মতো অজ¯্র সংযোগখাল মিলিত হয়েছে। সংযোগ খালগুলির বর্তমান নিশ্চিহ্ন করে মৎস্য ঘেরে রূপান্তরিত করেছে দখলদাররা। অনুসন্ধানে খলিষখালী ইউনিয়নের দুধলাই ও কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার বিলে সরাসরি প্রবাহমান খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করেছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম সরদার, একই এলাকার ওহাব মোড়ল, নুরু মোড়ল, মফিজুল মোড়ল। এ খালটির দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ৫ কিলোমিটার। যার পুরোটাই এখন দখলদারদের পেটে। সরুলিয়া ইউনিয়নের তৈলকূপী ও মশাডাঙ্গা গ্রাম এলাকায় বিভিন্ন সংযোগ খাল দখল করা হয়েছে। সংযোগ খালগুলি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় সাধারণ কৃষক ও জেলে পরিবার গুলির গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৈলকূপী এলাকার কৃষক আরশাফ গাজী, আব্দুর রউফ, আসকর আলী সরদার, যুগিপুকুরিয়া গ্রামের কামাল মোড়ল, শাকদহা গ্রামের ভবনাথ মন্ডল সহ ভুক্তভোগী একাধিক কৃষক এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকের মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য প্রকল্প গ্রহণ করলেও প্রকল্পগুলি খাতা কলমেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একইভাবে উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তার প্রত্যয়ন ব্যতীত মৎস্যঘের গড়ে তোলা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় কৃষকরা মহাজন নামের মৎস্যঘের ব্যবসায়ীদের যাতাকলে ফেসে যাচ্ছে। ঘের ব্যবসায়ীরা নামে মাত্র উৎকোচ দিয়ে অপরিকল্পিত মৎস্যঘের গড়ে তোলায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই এ অঞ্চলের কৃষকদের বিলে একমাত্র বোরো আবাদ এবার হুমকিতে। এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া আফরিন এর সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গণশুনানীতে আছি। সাংবাদিকের কথা শোনার সময় নেই। যদি কিছু বলার থাকে লিখিতভাবে জমা দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। একপর্যায়ে তিনি বলেন, আপনার কি অভিযোগ ? এমন প্রশ্নের উত্তরে এ প্রতিবেদক জানান, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি লিখিত অভিযোগ আকারে প্রেরণ করব।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন