ঘুরে আসুন মৌলভীবাজারের হাম হাম ঝর্ণা থেকে

ঘুরে আসুন মৌলভীবাজারের হাম হাম ঝর্ণা থেকে

সাতক্ষীরা টুডে ডেস্ক: হাম হাম কিংবা চিতা ঝর্ণা, বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দির সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গভীরে কুরমা বন বিট এলাকায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক জলপ্রপাত বা ঝরণা। জলপ্রপাতটি ২০১০ সালের শেষাংশে একদল পর্যটক আবিষ্কার করেন।

হাম হাম যাবার পথ এবং রাজকান্দি বনাঞ্চলে রয়েছে সারি সারি কলাগাছ, জারুল, চিকরাশি কদম গাছ। এর ফাঁকে ফাঁকে উড়তে থাকে রং-বেরঙের প্রজাপতি। ডুমুর গাছের শাখা আর বেত বাগানে দেখা মিলবে অসংখ্য চশমাপরা হনুমানের।

এছাড়াও রয়েছে ডলু, মুলি, মির্তিঙ্গা, কালি ইত্যাদি বিচিত্র নামের বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ।

কখন যাবেন 

ঝর্ণার যৌবন হলো বর্ষাকাল। বর্ষাকালে জলধারা গড়িয়ে পড়ে। শীতে তা কমে যেয়ে মাত্র একটি ঝর্ণাধারায় এসে ঠেকে।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে রেল ও সড়ক পথে যেতে পারেন শ্রীমঙ্গলে। ঢাকার কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস। দুপুর ২টায় প্রতিদিন ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস। বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০টায় ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস।

এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল সোয়া ৮টায় ছাড়ে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টায় ছাড়ে উদয়ন এক্সপ্রেস।

ঢাকার সায়েদাবাদ, কমলাপুর, আরামবাগ থেকে হানিফ, শ্যামলী, মামুন, ইউনিক ইত্যাদি পরিবহনে অথবা কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে সিলেটগামী ট্রেনে করে শ্রীমঙ্গল এসে নামতে হবে।

যদি রাতের গাড়ীতে আসেন তবে শ্রীমঙ্গল থেকে নাস্তা করে ৯টার মধ্যে রওনা দিবেন। আর যদি দিনের গাড়ীতে রওনা হন তবে রাতে হোটেলে থেকে ভোরে হামহাম চলে যাবেন এবং পথে কুড়মা বাজারে নাস্তা সেরে নিবেন।

শ্রীমঙ্গল হোটেলের আশেপাশে অনেক সিনএনজি-চালিত অটোরিকশা পাবেন। আপনাকে শ্রীমঙ্গল থেকে যেতে হবে কলাবন পাড়া, ওদের হামহাম যাব বললেই হবে। আসা-যাওয়া ১৫০০ টাকার মতো নিবে। কলাবন পাড়া পৌঁছে ওখানে চা শ্রমিক রাই গাইড হিসেবে যায়, ২০০/৩০০ টাকা নিবে গাউড। গহীন এবং পাহাড়ি বনের ভেতরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা হাঁটতে হবে, বনের প্রায় সাড়ে ৭ কি.মি. ভেতরে হাম হাম। উঁচু পাহাড়ে উঠতে হবে, তাই সাবধান থাকতে হবে। সাথে অবশ্যই লাঠি নিবেন ওখান থেকে, ৫ টাকা নেবে। লবন বা গুল নিবেন জোকের জন্যে। আসা যাওয়া নিয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা হাঁটতে হবে রোমাঞ্চকর এই ভ্রমণের জন্য। 

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন