পারুলিয়ার ভূমিদস্যু আলতাফ ও শাফায়েতের হয়রানি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

পারুলিয়ার ভূমিদস্যু আলতাফ ও শাফায়েতের হয়রানি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

Spread the love

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া গ্রামের ভূমিদস্যু আলতাফ ও শাফায়েতের হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এক মুক্তিযোদ্ধা। বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান মাঝ পারুলিয়া গ্রামের মৃত এজাহার আলী সরদারের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান সরদার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। চাকুরির সুবাদের আমার তিন ছেলে বাইরে থাকে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমার ভাইপো ভূমিদস্যু আলতাফ হোসেন ও শাফায়েত হোসেন বাচ্চু আমার সম্পত্তি জবর দখলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। আমার ভাই লুৎফর রহমান জীবিত থাকা অবস্থায় ভিটাবাড়ি এবং বিলান সম্পত্তি ভাগ করে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে আছি। কিন্তু ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার ৬ সন্তানের মধ্যে আলতাফ ও শাফায়েত কৌশলে আমার স্বাক্ষর জাল করে সম্পত্তি মটগেজ দেখিয়ে অগ্রণী ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা লোন নেওয়ার পায়তারা করে। বিষয়টি অবগত হয়ে আমরা তা বন্ধ করে দেই। এরপর থেকে তারা দুইভাই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং আমার ও তিন সন্তানের প্রাণহানিসহ বিভিন্ন ভাবে ক্ষতি করার চক্রান্ত শুরু করে। আলতাফের কাছে ৫বিঘা জমির হারি বাবাদ ৯৫ হাজার এবং শাফায়েত হোসেন বাচ্চু’র কাছে ২০ বিঘা জমির হারি বাবাদ ১ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। টাকা চাইলে তারা অকথ্য ভাষায় গালি গালাজসহ বিভিন্ন হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে। আতিয়ার রহমান আরো বলেন, আমি ও তাদের বড় ভাই সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশাররফ হোসেন মশু মিলে আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা করে রেজিঃ বন্টন নামার জন্য স্থানীয়ভাবে শাসিলী বৈঠক করি। কিন্তু আলতাফ এবং বাচ্চু কোন শালিস মানে না। ফলে আমি গত ২৬ আগস্ট পুলিশের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিলে বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশ মোতাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মিমাংসার লক্ষ্যে ১১ অক্টোবর উভয় পক্ষকে তার কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার জন্য বলেন। কিন্তু সুচতুর আলতাফ নিজেকে অসুস্থ্য দাবি করে সেখানে উপস্থিত হননি। সেখানে আলোচনার ভিত্তিতে ৮৭ শতক সম্পত্তির দক্ষিণ পাশের অর্ধেক অংশ আমাকে বুঝে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় এবং আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আমার পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য বাচ্চুকে নির্দেশ দেয়া হয়। এদিকে শাফায়েত এর কাছ থেকে দেবহাটা থানা পুলিশ কর্তৃক একটি চোরাই মটরসাইকেল উদ্ধার হওয়ায় গ্রেফতার এড়াতে চিকিৎসার অযুহাতে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের উপস্থিতিতে উক্ত সম্পত্তির ঘেরাবেড়া সংস্কার করি। কিন্তু আলতাফ এঘটনায় ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গত ১৪ অক্টোবর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আমার তিন সন্তানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে একটি মিথ্যে, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলন করে।

আমার সন্তানরা অত্যন্ত সুনামের সাথে স্ব স্ব কর্মস্থলে চাকুরি করে আসছেন। এলাকায়ও তাদের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। এবং আমার মেঝ ছেলে সাহাদাত হোসেন বিরু আনসার বাহিনীর একজন বিসিএস কর্মকর্তা হিসাবে বান্দরবানে কর্মস্থলে কর্মরত রয়েছেন। অথচ তার বিরুদ্ধেও মিত্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান আরো বলেন, আমার ভাইপো আলতাফ দেবহাটার চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে আলতাফ নিজের পরিবারের মধ্যে দখলদারিত্বের পায়তারা চালাচ্ছেন। এমনকি সে তার নিজের ভাই মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশাররফ হোসেন মশুর সম্পত্তিও অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন। তিনি ভূমিদস্যু সন্ত্রাসী আলতাফ ও শাফায়েতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Print Friendly, PDF & Email
এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন