প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ঘরে এক বিদ্যুৎকর্মীর মানবিকতা!

প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ঘরে এক বিদ্যুৎকর্মীর মানবিকতা!

প্রবীর জয়, কপিলমুনি প্রতিনিধিঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কৃর্তক প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ঘরে বিদ্যুতিক আলো জ্বালিয়ে মুজিববর্ষকে উজ্জল করেছে একজন বিদ্যূৎকর্মী। কর্মস্থল ভিন্ন উপজেলায় হলেও তার মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রুপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পশ্চিম নন্দনপুর গ্রামে। নামটি তার বিধান চন্দ্র ঘোষ। তিনি খুলনা পল্লী বিদ্যূৎ সিমিতির আওয়াতায় পাইকগাছা উপজেলা জোনাল অফিসে ওয়্যারিং পরিদর্শন পদের একজন সাধারণ কর্মচারী। কিন্তু মানবিকতায় তার রয়েছে অক্ষুন্ন  উদাহরণ। প্রতিবেদনটি তৈরীর নিরিক্ষে জানাযায়, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ‘যার জমি আছে ঘর নেই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ (আশ্রায়ণ-২) প্রকল্পের আওয়াতায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে খুলনা জেলার রুপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পশ্চিম নন্দনপুর গ্রামের মোছাঃ জ্যোৎসা বেগমকে উপজেলা প্রশাসন প্রায় ১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি ঘর তৈরি করে দিয়েছে। ঘর বরাদ্ধ পেলেও অন্যের বাড়ীতে কাজ করে উপার্জিত অর্থে চলে ৫ কন্যার জননী জ্যোৎসা বেগমের সংসার। ভাগ্য গুনে নিজ স্বামীর কাজ থেকে বিতারিত হয়ে আজ বড় অসহায়। নিজের বলতে ছিল একটি জরাজীর্ণ কুটির। কুটিরকে আলোকিত করতে ছিল একটি বৈদ্যুতিক মিটার। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ঘরটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে পূর্বের জরাজীর্ণ কুটির থেকে মিটারটি নতুন ঘরে হস্থান্তর করতে ব্যয়ের কথা চিন্তা করে কাজটি বিনামূল্যে করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন জ্যোৎসা বেগম। এরপর নির্বাহী কর্মকর্তা সুপারিশক্রমে উক্ত আবেদনটি খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সেনের বাজার জোনাল অফিসে যায়। এরপর আবেদনটি সরেজমিনে তদন্তের দায়িত্ব পান ওয়্যারিং পরিদর্শক বিধান চন্দ্র ঘোষ। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সার্বিক বিষয় বিবেচনা পূর্বক বিনাখরচে মিটারটি পূর্বের স্থান থেকে নতুন স্থানে হস্থান্তর সুপারিশ পরবর্তী অনুমোদন পেয়ে কার্য সম্পাদন হয়েছে। কাজ শেষ হলেও মোছাঃ জ্যোৎসা বেগমের অসহায়ত্বর কথা বিধান চন্দ্র ঘোষের মনে থেকে যায়। এমনকি নিজে অনুপ্রাণিত হয়ে উক্ত জ্যোৎসা বেগমের ব্যবহৃত মিটারটির মুজিববর্ষের সমুদয় বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের আগ্রহ প্রকাশ করে তার মতামত জানতে আবারো তিনি জ্যোৎসা বেগমের কাছে ছুটে যান। আর জ্যোৎসা বেগমের সম্মতিক্রমে সেখান থেকে প্রতিমাসের বিদ্যুৎ বিলটি পরিশোধ করে আসছেন বর্তমান কর্মরত পাইকগাছা উপজেলা জোনাল অফিসের ওয়্যারিং পরিদর্শক বিধান চন্দ্র ঘোষ। উক্ত বিষয়ে মুঠোফোনে আলাপচারিতার মাঝে ব্যক্ত কন্ঠে জ্যোৎসা বেগম বলেন, সরকার ঘর দিয়েছে। আর সেই ঘরে বিদ্যুতিক আলোক শিখা জ্বালিয়েছেন বিধান চন্দ্র ঘোষ। একজন মানুষ হিসাবে তিনি খুব মহৎ ব্যাক্তি। তিনি নিজ থেকে ১ বছরের আমার ব্যবহৃত মিটারের বিদ্যূৎ বিলটি পরিশোধ করে আসছেন। তাতে আমি যথেষ্ট উপকৃত হয়েছি। সারাজীবন তার জন্য দোয়া করবো। এবিষয়ে ওয়্যারিং পরিদর্শক বিধান চন্দ্র ঘোষ এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আলতাপ হোসেনের যোগদান পরবর্তী বিভিন্ন অফিসে মিটিংয়ের মাধ্যমে মুজিববর্ষে দেশের অসহায় মানুষের জন্য নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজের মাধ্যমে মুজিববর্ষকে চিরস্মরনীয় করে রাখতে নির্দেশ প্রদান করেন। আর সে নির্দেশে মোতাবেক অনুপ্রাণিত হয়ে জ্যোৎসা বেগমের জন্য একটু সহানুভূতির ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। এ বিষয়ের প্রেক্ষিতে রুপসা উপজেলার সুধীজনরা বলেন, বিধান চন্দ্র ঘোষ আজ যে কাজটি জ্যোৎসা বেগমের ক্ষেত্রে করেছে। সেটি আমাদের এলাকার মানুষের অন্তরে দাগ দিয়েছে। এমন উদ্দ্যোগকে আমরা স্বাগত জানায়। আমাদের প্রতিটি স্বচ্ছল মানুষের উচিত যেকোন একজন অস্বচ্ছল মানুষকে খুঁজে বের করে তাকে সাহায্য করা। আমরা সবাই মিলে যদি যার যার অবস্থান থেকে সমাজের হতদরিদ্রদের মাঝে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে মানুষ মানুষের জন্য মন্ত্রে দীক্ষিত হই। তবেই উজ্জল হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অসহায়দের সহায়তা প্রদান কর্মকান্ড। বিধান চন্দ্র ঘোষ একজন সামান্য বিদ্যুৎকর্মী হয়ে জ্যোৎসা বেগমের ক্ষেত্রে যেটা করেছে এটি মুজিববর্ষে বাঙ্গালী জাতির মধ্যে উজ্জল নিদর্শন হয়ে থাকবে।

Print Friendly, PDF & Email

%d bloggers like this: