কালিগঞ্জের দুর্ণীতিবাজ সিদ্দিক মেম্বরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে

কালিগঞ্জের দুর্ণীতিবাজ সিদ্দিক মেম্বরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে

কালিগঞ্জে মামলাবাজ সিদ্দিক মেম্বরের নানান অনিয়ম, দূর্ণীতি, স্বজনপ্রীতি, সরকারি মালামাল আত্মসাতসহ পাঁচ বছরে কোটিপতি হওয়ার বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। রবিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী আবুল বাসার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন কালিগঞ্জ উপজেলার ২ নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য ও শ্রীধরকাঠী গ্রামের মৃত নেফু শেখের পুত্র সিদ্দিকুর রহমান শেখ ৪নং ওয়াডের মেম্বর। জনগন চেয়েছিল এলাকার জনগনের কল্যাণে কাজ করবে কিন্তু সে জনগনের কল্যাণে নয়, মেম্বর হয়ে অবৈধ উপয়ে গরীবের হক নষ্ট করে নিজেই কোটিপতি হয়েছে। ছোট্ট একটি মুদি দোকান করে কোন রকম সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো, সেখানে আজ তিনি পাঁচ বছরের ব্যবধানে আলিশান বাড়ি, গাড়ী আর নামে বে-নামে হয়েছে অঢেল সম্পদের মালিক। তার বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার দুস্থদের ঘর দেওয়ার নাম করে নগদ টাকা নেওয়া, রেশন কার্ডের মাল আত্মসাত, মৃত ব্যাক্তির ভাতার টাকা উত্তোলন, ভারতে অবস্থানকারীর কার্ডের মাল আত্মসাত, স্বজনপ্রীতি, স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের নামে কার্ড দেওয়া, প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তার হীন অপরাধ উল্লেখ করে গত ২১/০৬/২০২০ তারিখে জেলা প্রশাসক ও দুর্ণীতি দমন কমিশনে ও ০১/০৬/২০২০ তারিখে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করা হয়। কালিগঞ্জ থানায় চলতি মাসেই মেম্বরের বিরুদ্ধে অর্ধডজন জিডি করা হয়। সে কারণেই মেম্বরসহ তার পেটুয়া বাহিনী লাঠি শোঠা নিয়ে ১২/০৬/২০২০ তারিখ সন্ধ্যায় অভিযোগকারীদের বাড়ি বাড়ি যেয়ে জীবন নাশের হুমকী দেয়। এ বিষয়ে মেম্বরের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়। সিদ্দিক মেম্বরের নানাবিধ অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রশিদ কে প্রাণনাশের হুমকী দেয়। তার বিরুদ্ধে ঘর দেওয়ার নাম করে হোগলা গ্রামের (ভ্যান চালক) হান্নান সানার নিকট থেকে ৫ হাজার ও রেশন কাড দেওয়ার নামে ২৫ শত টাকা, শহিদ সরদারের নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা নেয়, শাকের মোড়লের নিকট থেকে ঘর দেওয়ার নাম করে ৫ হাজার টাকা নেয়। এছাড়াও ছামসুর রহমান, আসাদুজ্জামান ময়নাসহ ১৫/১৬ জনের রেশন কাডের চাউল আত্মসাত করেছে। মেম্বর স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সরকারী নীতিমালা উপেক্ষা করে স্বামী স্ত্রী দুইজনকেই কার্ড দিয়েছে। যেমন আছমত মোড়লের নামে রেশনকাড স্ত্রী হাফিজার নামে, নুরুল সানার নামে রেশনকাড, স্ত্রী শেফালীর নামে শিশুকাড, সাইদুর মোড়লের নামে রেশনকাড স্ত্রীর নামে শিশুকাড, মৃত আবুবাক্কার মোড়লের স্ত্রী মাফুজা খাতুন থাকে বিদেশে, চাউল তুলে খায় মেম্বর। মুজিবর রহমানের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন ও মৃত গোলাপ গাজীর পুত্র জলিল গাজীর ভাতার টাকা তুলে খায় মেম্বর। এমনিভাবে অত্র ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭/১৮ টি পরিবারে কার্ড দেওয়া হয়েছে।
ইতিপুর্বে তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো সিদ্দিক মেম্বর বহাল তবিয়তে রয়েছে।
তিনি দুর্ণীতিবাজ সিদ্দিক মেম্বরের শাস্তির দাবীতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে।

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

%d bloggers like this: