চারিদিকে অন-টাইম চায়ের কাপ, ধ্বংসের মুখে পরিবেশ!

চারিদিকে অন-টাইম চায়ের কাপ, ধ্বংসের মুখে পরিবেশ!

মানুষের জীবনে যখন যা প্রয়োজন তখন তা-ই উদ্ভাবন করছে। তবে এখন পর্যন্ত যত আবিষ্কার হয়েছে, এর অন্যতম একটি হলো প্লাস্টিক। এমনত অবস্থায় করোনা পরিস্থিতিতে চায়ের দোকান গুলো স্বাভাবিক ভাবে চলা শুরু হলেও কাঁচের গ্লাসের বিকল্পে দিচ্ছেন প্লাস্টিকের তৈরী চায়ের কাপে। অধিকাংশ মুদি দোকান গুলোতেও হরহামেশাই বিক্রি হচ্ছে প্লাস্টিকের তৈরী অন-টাইম চায়ের কাপ, গ্লাস ও প্লেট। এদিকে মানুষ চা যে যে অবস্থায় যেখানেই খাচ্ছেন সেখানেই ফেলে দিচ্ছেন এ প্লাস্টিক বর্জ্য। বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরলেই দেখা যাবে রাস্তার দুপাশে ও অলিতে গলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্লাস্টিক চায়ের কাপ। এ প্লাস্টিক বর্জ্য গুলো হাল্কা ও সচ্ছ হওয়ায় বাতাসের সাথে সহজেই একস্থান থেকে অন্যস্থানে চলে যাচ্ছে। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার ফলে ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে পরিবেশ।
প্লাস্টিক হলো সিনথেটিক বা সেমি-সিনথেটিক ও নিম্ন গলনাঙ্কবিশিষ্ট পদার্থ, যা তাপীয় অবস্থায় যেকোনো আকার ধারণ করতে পারে এবং পুনরায় কঠিনে রূপান্তরিত হতে পারে। প্লাস্টিক স্থায়ী, সহজলভ্য, সস্তা এবং সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় আমরা সবাই প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত দ্রব্য ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে শুরু করে উন্নয়নশীল এমনকি উন্নত দেশেও প্লাস্টিক একটি নিত্য ব্যবহার্য বস্তু। শিল্পোন্নত দেশগুলোতে বিভিন্ন পণ্য বাজারজাতকরণের জন্য প্লাস্টিক চাহিদা ব্যাপক। দিনের পর দিন প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়েই চলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্লাস্টিকের পাত্রে কিছু রেখে খাওয়া ও প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করা ক্যানসারের কারণ হতে পারে। এমনত অবস্থায় প্লাস্টিকের পাত্রে গরম পানি বা চা খেলে সাথে সাথে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান বের হয়ে একসাথে মিশে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
গত কয়েক শতাব্দীতে প্লাস্টিক থেকে তৈরি নানা দ্রব্য আমাদের জীবনযাপনের ধারাকে হয়তো বদলে দিয়েছে কিন্তু প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার শেষে আমাদের জন্য যে বিষাক্ত হয়ে উঠছে, তা অজানা নয়। তাই এ অন-টাইম প্লাস্টিক কাপ গুলো ব্যবহার শেষে একটি নিদিষ্ট স্থানে ফেলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। তবেই আমরা হয়ত আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করতে পারবো।

লেখকঃ মোমিনুর রহমান সবুজ
সহ-বার্তা সম্পাদক, সাতক্ষীরা টুডে

Print Friendly, PDF & Email

%d bloggers like this: