আশাশুনির তেুঁতুলিয়া গ্রামের তাণ্ডবের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

আশাশুনির তেুঁতুলিয়া গ্রামের তাণ্ডবের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

আহসান উল্লাহ বাবলু, উপজেলা প্রতিনিধিঃ আশাশুনির তেুঁতুলিয়া গ্রামের তাণ্ডবের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে আশাশুনি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুই পক্ষ। 
রবিবার (৯ আগষ্ট) সকাল ১১টায় আশাশুনি প্রেসক্লাবে হাজির হয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বর্বরোচিত তাণ্ডবে সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তেঁতুলিয়া গ্রামের আবু হাসানের স্ত্রী রোজিনা খাতুন। 
তিনি বলেন- শুক্রবার মাদ্রাসা ছাত্র নাজিমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেঁতুলিয়া গ্রামের রফিকুল সরদার, রবিউল সরদার, রুবেল সরদার, আলাউদ্দীনের নেতৃত্বে মসজিদে মাইকিং করে লোক জড়ো করে শতাধিক লোকজন দা, লাঠি, শাবল, হাতুড়ি নিয়ে আমার বাড়ী সংলগ্ন দোকানে হাজির হয়। এরপর শুরু হয় দোকানের সার্টার, জানালা ভাংচুর ও মালামাল লুটপাট। তারা ইট-পাটকেল ছুড়তে ছুড়তে বাড়ীর ভেতরে ঢুকে আমার মা কহিনুর বেগমকে মারপিট করে তার মুখে কালি লাগিয়ে দেয় এবং মারাত্মক আহত করে। হামলাকারীরা মায়ের টালির ঘর ভাংচুর করার পর আমার বিল্ডিংয়ের ছাদ, দুটি পানির ট্যাংকি,মটর সোলার, বৈদ্যুতিক মিটারসহ বিল্ডিংয়ের ভেতরে ৪টি রুমে থাকা যাবতীয় মালামাল লুটপাট ও ভাংচুর করে। এমনকি তারা আমার ঘরে রক্ষিত চাউল ও পরিধেয় কাপড়-চোপড় নিয়ে নদীতে ফেলে দিয়েছে। তাদের দাপটে হামলায় প্রচণ্ড অসুস্থ মা কহিনুর কে সন্ধ্যায় লোকচক্ষুর আড়ালে সাতক্ষীরা সদরে চিকিৎসা নিতে যেতে হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই আমার মা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ওই দিন যদি থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে না আসতেন তাহলে প্রতিপক্ষরা আমাদের মেরেই ফেলতেন। 
এদিকে প্রতিপক্ষের প্রকাশ্যে হুমকি-ধামকি শুনে বাড়ী যাওয়া নিরাপদ না বিধায় গত দুই দিন ধরে আমি আমার শিশু ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ও আত্মীয়দের বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছি। আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। হামলাকারীদের তাণ্ডবে আমার সাজানো সংসারের যাবতীয় মালামাল ধ্বংস হয়ে গেছে। দুই দিন যাবত প্রায় এক কাপড়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বাড়ীতে পানি খাবার মত একটি গ্লাসও অবশিষ্ট নেই। 
আমাকে সর্বশান্ত করার পরও হামলাকারী রফিকুল, রবিউল গংরা থেমে নেই। তারা বিষয়টাকে ধর্মীয় ইস্যু সৃষ্টি করে আমাকে জড়িয়ে নানা রকম কুৎসা রটিয়ে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করে চলেছে। আমি বা আমার মা কোন অন্যায় করে থাকলে দেশের প্রচলিত আইনে আমাদের যে শাস্তির বিধান আছে তা মাথা পেতে নিতে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু যারা উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে আমাদের ক্ষতি করেছে আমি তাদের আইনানুগ শাস্তি চাই। হামলাকারীরা এখনও প্রকাশ্যে আমাদের প্রাননাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সঠিক তদন্ত পূর্বক প্রকৃত দোষীদের আইনানুগ শাস্তি ও রোজিনা খাতুনের পরিবারের নিরাপত্তার দাবী জানিয়ে প্রশাসনের উর্ধতন কতর্ৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি। 
অপরদিকে একই দিন বিকালে আশাশুনি প্রেসক্লাবে হাজির হয়ে এই ঘটনার প্রতিপক্ষদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন তেঁতুলিয়া গ্রামের লাল মাহমুদ সরদারের ছেলে সমাজসেবক লুৎফর রহমান। তিনি স্থানীয় মেম্বর আইয়ুব আলী সরদারসহ অর্ধশতাধিক লোক নিয়ে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে বলেন- রোজিনা খাতুন তার নিজ বাড়ীতে দীর্ঘদিন ধরে দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে কয়েকবার শালিস করা হলেও সে শুধরায়নি বরং সমাজের কারও তোয়াক্কা না করে আরও অশালিন কর্মকাণ্ডের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। শুক্রবার ভোরে তারা পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক মাদ্রাসা ছাত্র নাজিমকে ধরে ঘরে আটকে রেখে মুখে আলকাতরা মাখিয়ে দেয়। সকালে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে নাজিমকে উদ্ধার করে স্থানীয় মেম্বরের কাছে নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে কহিনুর বেগমের কাছে শুনতে গেলে তারা উল্টো আমাদের গালি-গালাজ শুরু করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে আরম্ভ করে। মাদ্রাসা ছাত্রের উপর হামলার এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে রোজিনার বাড়ীতে হামলা চালায়। রোজিনা মসজিদ-মাদ্রাসার পাশেই দিনদুপুরে মেকাপ করে দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সে রাস্তায় চলাচলরত পথিককে কৌশলে ডেকে বাড়ীর ভেতরে নিয়ে তার সর্বস্ব লুট করে থাকে। এর প্রতিবাদ করলে তারা ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ তুলে তাদের বেকায়দায় ফেলে থাকে। তার এহেন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মসজিদের পাশ থেকে উচ্ছেদ করে ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে তৎপরতা দেখিয়েছে। এছাড়া রোজিনা মামলায় নিরীহ মানুষকে হয়রানী করতে রফিকুল হাজী ঘটনাস্থলে না থাকলেও তাকে জড়িয়ে মামলা দায়ের করেছে। আমরা গ্রামবাসীর পক্ষে মসজিদ-মাদ্রাসার পবিত্রতা বিনষ্টকারী চরিত্রহীন এই রোজিনার হাত থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 
এ ঘটনায় আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া জানান- তেঁতুলিয়ার ভাংচুরের ঘটনা শুনেই ফোর্স নিয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসি। এ ঘটনায় রোজিনা বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ ২২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে ৬(৮)২০ নং একটি মামলা দায়ের করেছেন। কেউই আইনের উর্ধে নন। তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

Print Friendly, PDF & Email

%d bloggers like this: