সাতক্ষীরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

সাতক্ষীরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

অনিময়, দুর্নীতির আখড়া সাতক্ষীরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, সাতক্ষীরা জেলা ভ‚মিহীন সমিতির সভাপতি মোঃ কওছার আলী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদসহ ভ‚মিহীন নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলাম। এমনকি তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এধরনের কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে।
এর জের ধরেই ৭ জুলাই সদরের ফিংড়ি এলাকার ওমর আলীর ওয়ারেশদের চার শতক জমি ৪০ হাজার টাকার দলিল করার জন্য মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সাব রেজিষ্টারের টেবিলে রাখেন। ওই দলিল করতে সাব রেজিষ্টার তার কাছে অনৈতিক সুবিধা দাবি করলে তার সঙ্গে বচসা বেধে যায়। বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত দলিল লেখকদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি উপস্থিত আটজন দলিল লেখককে নিয়ে সভাপতিসহ কয়েকজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরামর্শ করে বুধবার থেকে কলম বিরতি ঘোষণা করেন। এভাবেই ঘুষ, দুর্নীতি ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করে কালো টাকার পাহাড় গড়ছেন সাতক্ষীরা জেলা রেজিষ্টার, সাব রেজিষ্ট্রার এবং তার সহযোগীরা। এ ছাড়াও জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে দলিল রেজিষ্ট্রির অভিযোগ তো আছেই। স¤প্রতি এসব ঘটনায় কয়েকজন দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল হলেও থেমে নেই তাদের দুর্নীতি। জেলা রেজিষ্টার কে ম্যানেজ করে সাব রেজিষ্ট্রার ও তার সহযোগিতা অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ঘুষের টাকা আদায় করার জন্য দলিল লেখক সমিতির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস সহ কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছেন। জেলা রেজিস্টারের নির্দেশে সাব রেজিষ্ট্রার রফিকুল আলমের কথামত প্রতিদিন প্রায় ১০লক্ষ টাকা জনসাধারণের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের মিশন বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে ও্ই চক্র। জেলা ও সাব রেজিষ্ট্রারের নেতৃত্বে বর্তমানে রেজিষ্ট্রি অফিস এখন অনিয়ম দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
সাতক্ষীরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম ও দুর্ণীতির শির্ষে থাকা কয়েকজন দলিল লেখক এর মধ্য হতে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে গত ইং ৩জুলাই ১৮ তারিখে দূর্নীতি দমন কমিশনের ৯৫ নং গণশুনানি অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা সদর রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতিসহ প্রভাবশালী ডর্জনর খানিক দলিল লেখক এর নামে অভিযোগ করা হয়। তার মধ্যে শীর্ষে থাকা দলিল লেখক মনিরুজ্জামান মনি (লাইসেন্স নং-০৯/০৬) আবুল কাশেম, রুহুল কুদ্দুস, এম এম. মজনু, শেখ মফিজুর রহমান, শেখ মাহবুুব উল্লাহ, হায়দার আলী, ওমর ফারুক, শেখ ইসতিয়ার, নাছির উদ্দীন, আল মাহমুদ সহ আরো কয়েকজন মিলে সাতক্ষীরা সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের সরকারি রাজস্ব ফাকির আখড়ায় পরিনত করে। সাতক্ষীরা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাতক্ষীরা সহকারি সেটেলমেন্ট অফিস ও বিভিন্ন তহশিলদারদের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে দলিল রেজিষ্ট্রি সম্পাদন করেন। যার প্রমাণ গত ৮ জুলাই ১৮ তারিখে ৫২৫১ নং দলিলে তহশিলদার মোকলেছুর রহমান ও তৎকালিন সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাতক্ষীরা এর স্বাক্ষর জাল করে মাছখোলা মৌজার ১৩-১৪ সালের ৮৯৫ নং কেসের ২৫৩৫ নং হোল্ডিং এর ৪০৬/১ খতিয়ানে ৬৭৫ দাগের জমি জাল মিউটিশন দ্বারা দূর্নীতিবাজ দলিল লেখক মনিরুজ্জামান মনির সহকারী আনছার আলীর দ্বারা দলিলটি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। এরকম জাল মিউটিশন দ্বারা হাজার হাজার দলিল সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে রেজিষ্ট্রি করা হয়। এতে করে দূর্নীতিবাজ দলিল লেখক ও সুবিদাভোগী জেলা রেজিস্টার মুন্সি রুহুল ইসলাম হাতিয়ে নেন লক্ষ লক্ষ টাকা।
এছাড়া রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে বহিস্কার হওয়া দলিল লেখক মনিরুজ্জামান মনির বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তারপরও ওই মনিরুজ্জামান মনি চলতি সালের ফেব্রæয়ারি মাসের সোনালী ব্যাংকের ২০লক্ষ টাকার মটগেজে ২নং মিউটিশনের কাগজ দিয়ে মটগেজ রেজিষ্ট্রি করেছেন। উক্ত কাজের জন্য তার কাছ থেকেও সাব রেজিষ্ট্রার রফিকুল আলম মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
এবিষয়ে আমাদের অভিযোগের ভিত্তিতের সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মহোদয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনা বিভাগীয় রেজিস্ট্রার বরাবর প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে তদন্তের দায়িত্ব পান যশোর জেলা রেজিষ্ট্রার শাহাজান আলী। অথচ ওই তদন্তটি আলোর মুখ দেখতে পাইনি।
ভ‚মিহীন নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সেই সময় যদি তদন্ত পূর্বক ওই দুর্নীতিবাজ জেলা রেজিষ্ট্রার মুন্সি রুহুল ইসলাম ও সাব রেজিষ্ট্রার রফিকুল আলমসহ তাদের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। তাহলে এধরনের অনিয়মের পুনারাবৃত্তি সাতক্ষীরা রেজিস্ট্রি অফিসে হত না। নেতৃবৃন্দ বলেন, অবিলম্বে দুর্নীতিবাজ সাব রেজিষ্ট্রারসহ তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণকরা না হলে রেজিষ্ট্রি অফিস ঘেরাওসহ মানববন্ধন কর্মসূচির পালিত হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

%d bloggers like this: