আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের মধ্যে ভয়ংকর লড়াই

আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের মধ্যে ভয়ংকর লড়াই

Spread the love

টুডে ডেস্ক :

বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধ চলছে। করোনাভাইরাস অতিমারীর মধ্যেই এই নিয়ে চারদিনে পড়ল যুদ্ধ। যুদ্ধে আর্মেনিয়ার বিপক্ষে আজারবাইজানের হয়ে পাকিস্তানের সেনারা যুদ্ধ করছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

আজারবাইজানের দুজন স্থানীয় ব্যক্তির মধ্যে টেলিফোনে আলাপের সময় দেশটিতে পাকিস্তানের সেনাদের উপস্থিতির বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এবার আল-আরাবিয়্যাহ অনলাইনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আজারবাইজানকে অস্ত্র দিচ্ছে ইজরায়েল।

উভয়পক্ষই বিদেশি সৈনিক ভাড়া করার অভিযোগ করেছে। তুরস্ক তো সরাসরিই আজারবাইজানের সমর্থন দিয়ে বলেছে, এই অঞ্চলে শান্তির ক্ষেত্রে প্রধান হুমকি হল আর্মেনিয়া। সে কারণে সিরিয়া থেকে বাকুতে যোদ্ধা পাঠানোর কথা বলেছে তুরস্ক। অন্যদিকে আর্মেনিয়ায় সেনা ঘাঁটি রয়েছে রাশিয়ার। আর্মেনিয়ার হয়ে লড়াইয়ের জন্য সৈন্য পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে।

পরিস্থিতি ঘোরাল, বিশ্বে প্রতি ঘণ্টায় ২২৬ জনের প্রাণ কাড়ছে ঘাতক করোনা!

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর দেশ দুটি স্বাধীন হয়। আজারবাইজানের তুলনামূলক কম শক্তিশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাশিয়ার ইন্ধনে আর্মেনীয়রা ধীরে ধীরে নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলের আশেপাশের বিশাল ভূখণ্ড দখল করে নেয়। এ নিয়ে গত কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলছে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে।

রবিবার বিতর্কিত নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে প্রতিবেশী দেশ আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। এই সংঘাতের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে দুই দেশ। আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, রবিবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে হামলা চালায় আজারবাইজান। এর জবাবে আর্মেনিয়ার বাহিনী প্রতিপক্ষের দুটি হেলিকপ্টার, তিনটি ড্রোন ভূপাতিত ও তিনটি ট্যাংক ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে আজারবাইজানের দাবি, হামলার শিকার হওয়ার পর তারা পাল্টা হামলা চালিয়ে কয়েকটি গ্রাম তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়াও ২০ জন আর্মেনীয় সৈন্য হত্যা এবং ডজন খানেক ট্যাংক, কিছু ভারী অস্ত্র ধ্বংসের দাবি করেছে বাকু।

সরবরাহ করা জলে ‘মগজখেকো’ অ্যামিবা! টেক্সাসে মৃত্যু ছয়ের শিশুর

আর্মেনিয়া আর আজারবাইজানের মধ্যে এর আগেও বহুবার যুদ্ধ হয়েছে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত রাশিয়া ভেঙে মধ্য এশিয়ার আরও অনেক দেশের মতো আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের বহু আগে থেকেই এদের মাঝে নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়। স্বাধীনতার পরে থেমে থেমে যুদ্ধ চলে প্রায় তিন বছর। এই তিন বছরে অনেকবার সমঝোতার বৈঠকে বসলেও আর্মেনিয়ার একঘেয়েমিতে সব আলোচনা ভেস্তে যায়। এবং তখন থেকে প্রতি যুদ্ধে আর্মেনিয়া আজারবাইজানের একটু একটু করে ভূমি দখল করতে শুরু করে। এখন শুধু নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চলই নয়, আর্মেনিয়া আজারবাইজানের প্রায় ২০ শতাংশ অঞ্চল দখল করে রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন