বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

৮ বছরেও উদঘাটন হয়নি আ.লীগ নেতা আবু রায়হান হত্যার মোটিভ, অধরা খুনীরা

দেবহাটা প্রতিনিধি / ৬৯
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১

সহিংসতাকালীন জামায়ত-শিবিরের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নির্মম ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞের শিকার দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ আবু রায়হানের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী রবিবার।
২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় ঘোষনার পর সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরার দেবহাটাতেও নারকীয় তান্ডব চালায় বিএনপি ও জামায়ত-শিবিরের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। সেসময়ে ধর্মান্ধ জামায়ত-শিবির ক্যাডাররা একের পর এক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা, দলীয় কার্যালয় ও নেতাকর্মীদের বাড়ীঘর ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, মিছিল-পিকেটিংয়ের নামে গাছ কেটে সড়ক অবরোধ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দেয়া, গণপরিবহন ভাংচুর এমনকি রাস্তার ওপর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রতিকী কবরও রচনা করে।
তৎকালীন সময়ে বিএনপি ও জামায়ত-শিবিরের কাছে মুর্তিমান আতঙ্ক ছিলেন দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান। সরকারের উচ্চ পদস্থ মন্ত্রী-এমপি এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথেও আবু রায়হানের ছিল ব্যাপক সখ্যতা। ফলে দেবহাটাতে আবু রায়হানের কারনে একের পর এক ভন্ডুল হতে থাকে বিএনপি ও ও জামায়ত-শিবিরের নাশকতার পরিকল্পনা। এককথায় আওয়ামী লীগের ঢাল হয়ে বিএনপি ও জামায়ত-শিবিরের নাশকতা কর্মকান্ডে অন্যতম বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছিলেন আবু রায়হান। এতে করে তাদের পথের কাঁটা সরাতে আবু রায়হানকে হত্যার পরিকল্পনা শুরু করে বিএনপি ও জামায়ত-শিবির।
পরিকল্পনার একপর্যায়ে ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় পারুলিয়া বাস স্ট্যান্ডের পাশে উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের সাথে অবস্থানকালে অতর্কিত হামলা চালিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রভাবশালী নেতা আবু রায়হানকে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে নির্মম ও নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে বিএনপি ও জামায়ত শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা। নির্মম ও নৃশংস এ হত্যাযজ্ঞের ঘটনার ৮ বছর অতিবাহিত হলেও হত্যাকান্ডের নানা বিষয় এখনও আঁধারেই রয়ে গেছে। এমনকি হত্যাকান্ড কিংবা মুল পরিকল্পনাকারী ও কিলিং মিশনে অংশ নেয়া সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে সুনির্দ্দিষ্ট কোন ক্লু উদঘাটিত হয়নি বলে দাবী নিহত আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ আবু রায়হানের পরিবারের।
শহীদ আবু রায়হানের স্বজনরা জানান, হত্যাকান্ডের একদিন পর আবু রায়হানের মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ০৫, তাং- ২৩/১১/১৩। হত্যার পর প্রায় মাসব্যাপী দেবহাটাতে চিরুনী অভিযান চালিয়ে বহু জামায়ত-শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসকল গ্রেপ্তারকৃত ছাড়াও হত্যাকান্ডের পর থেকে মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগপর্যন্ত নাশকতায় সংশ্লিষ্ট ও কিলিং মিশনের সন্ধিগ্ধ বহু আসামীকে রায়হান হত্যা মামলার আসামী দেখিয়ে আদালতে প্রেরন করা হয়।
ফলে গ্রেপ্তারকৃত লম্বা লিষ্টের আসামীদের কারনে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের প্রকৃত মোটিভ, পরিকল্পনাকারী ও কিলিং মিশনে অংশ নেয়া হত্যাকারীদের চিহ্নিতের বিষয়টি দিনদিন ঝাপসা হয়ে ওঠে। এমনকি আবু রায়হান হত্যাকান্ডের অন্যতম মাস্টার মাইন্ড হিসেবে দেবহাটার কয়েক ডজন মামলার পলাতক আসামী এবং হিংস্র ও উগ্রপন্থী সশস্ত্র জামায়ত নেতা জিয়াউর রহমান ওরফে আফগান জিয়ার নাম বারবার সামনে উঠে আসলেও চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির চার্জশিটে সেই আলোচিত আফগান জিয়াসহ শীর্ষ জামায়ত-শিবির ক্যাডারদের নাম লিস্টের শেষের দিকে রেখে দায়সারা অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে বলেও দাবী আবু রায়হানের পরিবারের। চাঞ্চল্যকর এ মামলার কয়েকজন বাদে অধিকাংশ আসামীরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। আর দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর মোষ্ট ওয়ান্টেড আফগান জিয়া সম্প্রতি আদালতে আত্মসমর্পন করে কারাগারে রয়েছেন।
গেল কয়েক বছরে তদন্ত চলাকালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অফিসারের হাত বদল হয় রায়হান হত্যার ফাইল। সর্বশেষ ২০১৭ সালের শেষের দিকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলাটির তদন্ত শেষ হয়েছে দাবী করে প্রায় ১শ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এরপর থেকে অদ্যবধি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে রায়হান হত্যা মামলাটি।
হত্যাযজ্ঞের মুল মোটিভ উদঘাটন করে হত্যার পরিকল্পনা ও কিলিং মিশনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্ত মুলোক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন আবু রায়হানের পুত্র ছাত্রলীগ নেতা তন্ময়সহ পরিবারের সদস্যরা।
অন্যদিকে যে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আবু রায়হানকে দলের জন্য জীবন দিতে হলো, সেই আত্মত্যাগী নেতার কথা এখন মনেও নেই ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের। এমনকি দলের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের তেমন কোন উদ্যোগ না নেয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শহীদ আবু রায়হানের পরিবার।
আবু রায়হানের মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে উপজেলা আওয়ামীলীগের কোন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে কিনা তা জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারমান মুজিবর রহমান বলেন, রবিবার যে আবু রায়হানের মৃত্যু বার্ষিকী তা আমার স্মরণ ছিলনা। তাছাড়া এব্যাপারে আমাকে কেউ কিছু বলেনি। অন্যান্য বার আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক আবু রায়হানের মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপনের আয়োজন করেন, আপনারা তার কাছে একটু খোঁজ নিতে পারেন।
পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলীয়ভাবে কোন কিছু আয়োজন না হলেও, আমি ব্যক্তিগত ভবে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করবো।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ