HEADLINE
সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বীমা দিবস পালিত ছাত্র রাজনীতি এখন কোন দিকে ছওয়াব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ”আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যাকাতের ভূমিকা” শীর্ষক সেমিনার ঝাউডাঙ্গা ভূমি অফিসের তহসিলদারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ দাঁতভাঙা বিলে মৎস্য ঘের থেকে অজ্ঞাত নারীর লা’শ উদ্ধার মুখে মাস্ক পরে দেবহাটায় একরাতে ৪টি দোকানে চুরি ভাগ্য খুলতে পারে খুলনা জেলা ছাত্রলীগের! স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সাতক্ষীরায় বেসরকারি ক্লিনিকে অভিযানে ভুয়া চিকিৎসকসহ দু’জনের কারাদণ্ড সাতক্ষীরা হার্ট ফাউন্ডেশনে সেবিকার কর্তব্য অবহেলায় বৃদ্ধার মৃ’ত্যুর অভিযোগ
শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন

সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাড়াতে হবে নারীর ভূমিকা

জহিরুল ইসলাম শাহীন / ১১৩১
প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩ জুন, ২০২৩

জহিরুল ইসলাম শাহীন: আদিকাল থেকে মানব সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে নারী ও পুরুষ এক সংঙ্গে বসবাস শুরু করেছে। বর্তমান সময় পর্যন্ত তা অক্ষুন্ন রয়েছে। সভ্যতার বিকাশে নারী পুরুষ একে অপরের সহযোগী এবং সহকর্মী হয়ে ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে শোষন নিপীড়ন জ¦ালা যন্ত্রনার, বঞ্চনার বিদ্রোহ করে তারা সভ্যতার আলো জ¦ালিয়েছে একের পর এক। পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় আটশত কোটি লোক বাস করে তার মধ্যে অর্ধেক নারী। তাই একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, পৃথিবীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়নে পুরুষের চেয়ে নারীদের ভূমিকা কোন ভাবেই কম নয়। প্রকৃত অর্থে নারী পুরুষের সম্মিলনেই সমাজ তথা দেশের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। সভ্যতার আজকের যে চুড়ান্ত বিজয় বা বিকাশ সাধন তার পেছনে লক্ষ লক্ষ বছরের মানবজাতির কঠোর শ্রম ও সাধনা রয়েছে। কৃষি কাজের সভ্যতার প্রথম বীজ বপন করেছিল নারী, পুুরুষ নিয়েছে সহযোগী ভূমিকা যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে নারী সমাজ আরও সক্রিয় হয়েছে সমাজ ও সভ্যতার বিকাশে। কল্যানের মুর্ত প্রতীক আজকের নারী সমাজ। বর্তমান সভ্যতায় আমরা যদি উন্নত বিশে^র দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাব যে, ইউরোপ আমেরিকায় নারীকে এবং এশিয়ার বেশ কিছু দেশে নারীকে উন্নত মর্যাদা দেওয়া হয়, শুধু উন্নত মর্যাদাই নয়, দেশ ও জাতি গঠনে নারীরা পুরুষের সাথে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে, কলকারখানায় উৎপাদন বাড়াচ্ছে, গবেষনায় নিয়োজিত আছে এবং বিভিন্ন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহন করছে। সমাজ সাজানো, পরিবার সাজানো, সন্তান লালন পালন করা, বাজার করা, দেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখা, পরিবারের বিভিন্ন বিষয়ে স্বামীর সাথে সহযোগিতা করা, গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে ভূমিকা রাখা এবং বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে ভূমিকা বর্তমানে নারীরা রাখছে তা ভোলার নয়, অর্থাৎ জাতি ও দেশ গঠনের এমন কোন জায়গা নেই যে সেখানে তাদের সোনার কাঠির পরশ লাগেনি। ঐ সব দেশে নারীদের অংশ গ্রহন ছাড়া সমাজ জাতি ও দেশ গঠিত হচ্ছে না বা তাদের সহযোগিতা ছাড়া চলতেও পারছে না। পাশ্চাত্য দেশের মত আমাদের দেশের অর্ধেক নারী সমাজকে ও গুরুত্বপূর্ন কাজে লাগাতে হবে। তাদের বেকার বসিয়ে রাখলে হবে না। সমগ্র জনশক্তির এই অর্ধেক নারী সমাজ যদি দেশের বিভিন্ন স্তরের বিভিন্ন কর্ম-কান্ডে লাগানো যায় তাহলে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে দেশ যে অল্প সময়ের মধ্যে অগ্রগতির দিকে ধাবিত হবে তা নিঃসন্দেহে বলা য়ায়। কাজেই এই অর্ধেক নারী সমাজকে ফেলে রেখে বা উপেক্ষা করে কখনোই দেশের বৃহত্তর কোন লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হাসিল করা সম্ভব হবে না। সমাজের যা কিছু কল্যান তা যদি করতে হয় তাহলে নারীকে সাথে নিয়ে করতে হবে। বিগত দুই যুগ ধরে দেখা যাচ্ছে সরকার এই সত্য টা উপলদ্ধি করতে পারছে এবং নারীদের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য যে নব্বই এর দশকে সকল ছাত্রীর উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। এখন যুগের পরিবর্তন আসছে এবং নারীদের শিক্ষার হার পুরুষের সমান সমান হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারীদের শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের উপবৃত্তি ৪০% নামিয়ে আনা হয়েছে। এটাতে কোন ক্ষতি হয় নাই বরং ঘরে ঘরে মেয়েরা এখন শিক্ষার দিকে আগ্রসর হচ্ছে এবং চাকুরীর ক্ষেত্রে মেয়েদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যে দেশে নারীরা স্বাধীনভাবে শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে এবং শিক্ষায় এগিয়ে যাবে সে দেশ তত বেশি উন্নত হবে এবং সমাজ থেকে অপসংস্কৃতি ও কুসংষ্কার দুর হবে। সুতরাং সুন্দর জাতি গঠনে নারীর ভূমিকা সর্বক্ষনই কাজে লাগাতে হবে। নারীকে উপেক্ষা করে বা বাদ দিয়ে বর্তমান পৃথিবীতে কোন কাজ করা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশের নারীরা আজ দেশের চা শিল্প, তামাক শিল্প, এবং গার্মেন্টস শিল্পসহ কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্ব ভূমিকা নিয়ে তাদের পরিবারকে বাচিয়ে রেখেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশের নারীরাও বিদেশ গিয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে এবং সেখানে সুনাম অর্জন করছে, এমনকি বিদেশ মিশনে বাংলাদেশ নারী পুলিশ এবং আর্মিরা সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে এবং জাতি সংঘে বাংলাদেশের সুনাম বয়ে নিয়ে আসছে। আমাদের জন্য এটা গর্বের এবং অহংকারের। দেশের নারী সমাজ কে আরও নারী শক্তিতে রুপান্তরিত করতে হবে। এমুহুর্তে যেকোন দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে নারীর ভূমিকা যথেষ্ট সমৃদ্ধশালী। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের দিকে দৃষ্টি দিরে দেখা যায়, এ দেশের অর্থনীতিতে নারী সমাজ যথেষ্ট অবদান রাখছে। আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান শাখা হচ্ছে কৃষি, শিল্প, বানিজ্য এবং বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রা (রেমিটেন্স) ইত্যাদি। এসব শাখার প্রতিটিতে তারা অবদান রাখছে। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ, মুলত কৃষির উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। সভ্যতার সূচনায় দেখা গেছে কৃষির প্রথম গোড়া পত্তন করেছিল নারীরা, বীজ বুনে যে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব তা নারীরাই প্রথম আবিষ্কার করেছিল। সে সময় পুরুষরা নিয়েছিল সহায়ক শক্তির ভূমিকা। আঁশির দশকে বাংলাদেশে একজন মহিলা ঘরের বাইরে যেতে সাহস পেত না, লেখা পড়া ও তেমন করতে সাহস পেত না। একে বারে সমাজের বোঝা হয়ে থাকতো তারা। নব্বই দশকের দিকে নারীদের বিরাট একটা অংশ ঘরের বাইরে আসা শুরু করলো এবং বিভিন্ন কর্মকান্ডে পুরুষদের সাথে কাধে কাধ মিলে হাতে হাত রেখে কাজ করা শুরু করলো। বিশেষভাবে কৃষিতে আজ আমাদের দেশের নারীরা একে বারে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত মাঠে ধান রোয়া, ধান কাটা, ধান বাধা, ধান ঝাড়া থেকে পাটের জমি নিংড়ানো এবং ধানের জমি পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে কৃষিজ ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত তারা গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে আসছে। এ ছাড়া বাড়ির আশে পাশে যে পতিত জমি পড়ে আছে সেখানে নারীরা আজ শাক সবজি আবাদ করে পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি অনাবাদি পতিত জমিকে আবাদ যোগ্য করে তুলছে। আমাদের দেশের অনেক শিল্পে কাঁচা মাল হিসেবে কৃষি পণ্য ব্যবহৃত হয় যা উৎপাদনে নারীদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। পোষাক শিল্পের অবদানের কথা তো ভোলার নয়। নারীদের বিশেষ অবদান থাকার কারনে আমেরিকা এবং ইউরোপের মার্কেট অনেক টা দখল করে রেখেছে বাংলাদেশ। প্রতি বছর পোষাক খাত থেকে প্রচুর পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশ ঐ নারীদের অংশ গ্রহন করার কল্যানে নারীদের অংশ গ্রহন পোশাক শিল্পে এ মুহুর্তে ৮০% সুতরাং তাদের অবদানকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। এ দেশে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের শাখা প্রচুর। সেখানে ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্ব ভূমিকা ব্যাপকভাবে আমাদের নারীদের। এ সমস্ত ক্ষুদ্র শিল্প এবং কুটির শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে আমাদের নারী সমাজ। আজকের নারীদের কল্যানে বাড়ীতে যথেষ্ট গরু ছাগল লালন পালন করা হাঁস মুরগী লালন পালন করা এবং বাড়ীর উঠানে বিভিন্ন গাছ গাছালি রোপন করা যেখানে থেকে কিছু অর্থ উপার্জন করে তারা তাদের স্্¦ামীকে এবং পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করছে এবং তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করার ক্ষেত্রে ও অবদান রাখতে পারছে। আমাদের নারীরা আজ ঘরে বসে বাশ বেতের বিভিন্ন জিনিস, মাটির হাড়ি, কলম, মালসা, আসবাবপত্র, খেলনা তৈরি করছে এবং অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার জন্য যথেষ্ট সাহায্য করছে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে চা শিল্পের ব্যাপক চাহিদা বাংলাদেশের চা শিল্প বিশে^র উন্নত দেশ গুলোতে বিশেষ সুনামের সাথে ক্রয় করে থাকে। এর পেছেনে অবদান আমাদের নারীদের। চা শ্রমিকদের মধ্যে ৮০% ই নারীরা। তাই সহজেই বলা যায় চা শিল্পের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে নারী সমাজের ভূমিকা অগ্রগামী। সুতরাং এ থেকে বোঝা যায় নারী সমাজকে আর ও শিক্ষিত করতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে সমাজ থেকে কুসংস্কার দুর হবে এবং দক্ষ ও যোগ্য জনবল হিসেবে গড়ে উঠবে। সুতারাং তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা জোরালো ভাবে দিতে হবে এবং বৈষম্যমূলক আচরন থেকে মুক্ত হতে হবে তখন দেখা যাবে দেশ গড়ার ক্ষেত্রে এবং অর্থনৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক উন্নয়নে উভযেরই অবদান সমান ভাবে পরিলক্ষিত হবে। একথা আমাদের ভূলে গেলে চলবে না যে শুধূ পুরুষরাই দেশ উন্নয়নে ভূমিক রাখছে নারীরা ও কোন অংশে পুরুষদের চেয়ে পিছিয়ে নেই। উভয়ের সমান প্রচেষ্টাই আমরা এগিয়ে নিতে পারছি দেশটাকে। তাই আসুন সবাই মিলে আমরা নারীর সকল ধরনের কর্মকান্ডকে গ্রহণ করি, তাদের মর্যাদা দিই, তাদের সম্মান করি। সকলের জানা উচিত নারী ছাড়া সমাজ, পরিবার এবং দেশ একেবারে অচল। সুতরাং যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টিতে, দেশ গঠনে এবং দেশের সার্বিক কল্যানময় কাজের জন্য তাদের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত এবং তাদের সত্যিকারের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা আজকের সমাজের, দেশের এবং সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

লেখক: জহিরুল ইসলাম শাহীন
সহঃ অধ্যাপক
বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ
কলারোয়া, সাতক্ষীরা।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ