সাতক্ষীরায় আর এক প্রতারকের আবির্ভাব! আইনের চোখ ফাঁকি দিতে ভুক্তভোগীর নামে জিডি

সাতক্ষীরায় আর এক প্রতারকের আবির্ভাব! আইনের চোখ ফাঁকি দিতে ভুক্তভোগীর নামে জিডি

বিশেষ সংবাদদাতা, সাতক্ষীরা: যখন সাতক্ষীরায় শীর্ষ প্রতারক বাদশা মিয়া আটক হয়েছে ঠিক তখনই সাতক্ষীরা সদরের চুপড়িয়া গ্রামে নতুন আরেক শাহেদ করিমের আবির্ভাব হয়েছে। বলছিলাম উপজেলার চুপড়িয়া গ্রামের মুজিবর রহমানের পুত্র মোশারফ হোসেন এর কথা।

কার্যতঃ কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি শাহেদকেও ছাড়িয়ে গিয়েছেন। কেননা তিনি নিজেকে কখনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লোক, কখনও কলকাতা টিভির ম্যানেজিং এডিটর, বঙ্গবন্ধু জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন কমিটির পরিচালকসহ বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে এবং গাড়ীতে সরকারী স্টীকার লাগিয়ে সাতক্ষীরায় এসে মানুষের বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছেন। উল্লেখ্য যে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আল আমিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসা এমপিও ভুক্ত করে দেওয়ার নামে অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ২১ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার কারণে মাদ্রাসার সুপার বাদি হয়ে মোশারফ, তার পিতা মুজিবুর রহমান ও তার বোন তাজমুন নাহার এর বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।। বিষয়টি জেলা গোয়েন্দা শাখার ডিবি পুলিশ তদন্ত করেন। তদন্ত স্বার্থে বাদি ও ৩ প্রতারককে ডিবি পুলিশ অফিসে হাজির হবার আদেশ দেন তদন্ত কর্মকর্তা। সেখানে হাজির হন বিবাদী মুজিবর রহমান। কিন্তু হাজির হয়নি মোশারফ ও তার বোন তাজমুন নাহার। বিবাদী মুজিবর রহমান ৩০ অক্টোবর ২০২০ ইং তারিখে মধ্যে ২১ লাখ টাকা ফেরত দেবেন বলে ব্যাক্ত করেন মুজিবর ও ফোনের মাধ্যমে ব্যাক্ত করেন মোশারফ হোসেন বলে জানা যায়। কিন্তু ৩০ অক্টোবর টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও বিবাদীরা মাদ্রসার টাকা ফেরত না দিয়ে বহু বার বিবাদীরা একের পর এক তালবাহানা করে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০টি জাতীয়, আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকা ও বেসরকারী টিভি চ্যানেলে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রতারক মোশারফ হোসেন দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেন। কিন্তু কোন সুবিধা না করতে পেরে নিজের অপরাধকে ধামা চাপা দিতে গত ২০ শে এপ্রিল ২০২১ ইং তারিখে আল-আমিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি ভুয়া, মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত চাঁদাবাজির জিডি করেন, যার কোন ভিত্তি নেই। আর তার এই কাজকে সমর্থন/সহযোগিতা করতে সাতক্ষীরার কয়েকটি নাম সর্বস্ব পত্রিকা জিডির বিষয়টি রং চং মিশিয়ে প্রকাশ করেছে যা এই মহা ঠকবাজ, জোচ্চর, প্রতারক মোশারফকে সহযোগিতার নামান্তরই বটে! কিন্তু যখন সকল প্রমান সাপেক্ষ্যে এই প্রতারকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার জন্য তাদের নিকট বলা হয় তারা ঠিকই তখন এড়িয়ে যান। এ বিষয়ে প্রতারক মোশারফ ও যে সকল পত্রিকা মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করেছে তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আল-আমিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওঃ গোলাম রসুল।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দুর্নীতিদমন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা ও এলাকার সাধারণ মানুষ।

Print Friendly, PDF & Email
এই সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন