HEADLINE
বল্লীতে বজ্রপাতে শিশুর মৃ’ত্যু ভোমরা স্থলবন্দরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলাডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত বি’রো’ধে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খু’ন বৈষম্যের প্রতিবাদে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি সাতক্ষীরার উন্নয়ন ইস্যুতে ৫ এমপি’কে এক টেবিলে বসার আহবান সাতক্ষীরায় তামাক কোম্পানির বিজ্ঞাপণে সয়লাব, টার্গেটে কিশোর ও তরুণ সাতক্ষীরায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন সাতক্ষীরার পর এবার মাগুরার সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ! কলারোয়ায় এক কৃষকের ঝু’ল’ন্ত লা’শ উ’দ্ধা’র কলারোয়ায় স্বামীর পুরুষা’ঙ্গ কে’টে দ্বিতীয় স্ত্রী’র আ’ত্ম’হ’ত্যা
সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ০৯:৪০ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরায় তামাক কোম্পানির বিজ্ঞাপণে সয়লাব, টার্গেটে কিশোর ও তরুণ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি / ১৩৪
প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ মে, ২০২৪

জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ২০০৫ সালে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’ প্রণয়ন এবং ২০০৬ সালে সংশ্লিষ্ট বিধি জারি করা হয়। ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়। এই আইনের অন্যতম লক্ষ্য দেশে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা এবং নতুনদের তামাক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা-৫ এ তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সাতক্ষীরায় তামাক কোম্পানিগুলো আইন ভঙ্গ করে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিক্রেতাদের উৎসাহিত করছে। তামাক কোম্পানির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মূল লক্ষ্য হলো কিশোর ও তরুণেরা যারা এখনো ধূমপান করতে শুরু করেনি, তাদেরকে ধূমপানও তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণে উৎসাহিত করা। অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা এলাকার; শহীদ রিমু সরক, নিউমার্কেট, পুরাতন সাতক্ষীরা বাজার, সঙ্গীতা সিনেমা হল রোড, সাতক্ষীরা- কালীগঞ্জ মহাসড়ক, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, চালতেতলা বাজার, বড় বাজার রোড, সাতক্ষীরা- খুলনা রোড, সিটি কলেজ, সার্কিট হাউজ, বাস স্ট্যান্ড, লেক ভিউ রোডসহ ২৮৬ টি দোকানে নানাভাবে তামাক কোম্পানিগুলো তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে, বাজার, বাস স্টেশন ও জনবহুল এলাকায় তামাকের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার হার বেশি। বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে তামাক কোম্পানির মদদে কালার ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে, রঙ্গীন ড্যাংলার, সিগারেটের ফাকা প্যাকেট, লাইটিং বোর্ড, বিভিন্ন অফার সম্বলিত লিফলেট, বিনামূল্যে সিগারেট বিতরন, উপহার সামগ্রী বিতরন, ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস এর মাধ্যমে বিভিন্ন অফার সম্বলিত ভিডিও প্রদর্শনসহ নানা অভিনব ও আকর্ষণীয় উপায়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যা আইন অনুসারে সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ও আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এছাড়াও ক্রেতা ও বিক্রেতাকে বিভিন্ন সামগ্রী উপহার হিসেবে দেওয়া। পাশাপাশি প্রচারণা ও বিপণন কাজে তরুণদের ব্যবহার করে কিশোর ও তরুণদের ধূমপানে উদ্বুদ্ধ করতে তাদের মধ্যে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ করছে। আইনে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও বিক্রেতারা শিশু-কিশোরদের কাছে অবাধে সিগারেট বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। আইন বহির্ভূত এ সকল কার্যক্রমের মূলে রয়েছে দুটি বিদেশী সিগারেট কোম্পানি- ‘বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি (বিএটি) ও ‘জাপান টোব্যাকো কোম্পানি (জেটিআই)।

জনগণের সুরক্ষার জন্যই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তামাকের বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তামাক কোম্পানির প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় ‘বিক্রয়কেন্দ্র’গুলোতে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার পাশাপাশি বিক্রেতাদেরকে ‘পার্টনার’ হিসেবে চুক্তিবদ্ধ করে আর্থিক প্রণোদনা দিচ্ছে। এভাবে, বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, সিগারেটের কার্টনে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান না করা, সিগারেটের ক্রেতা বিক্রেতাদের উপহার সামগ্রী প্রদান, বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ, শিশু-কিশোরদের কাছে সিগারেট বিক্রি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এসব কাজেও তামাক কোম্পানির সরাসরি সংযোগ রয়েছে। তরুণদের মধ্যে ধূমপানসহ তামাকজাত দ্রব্য/ধূমপানে উৎসাহিত করছে।

সরকারের ২০৪০ সালের মধ্যে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রত্যক্ষ প্রচার-প্রচারণা, বিজ্ঞাপন ও প্রণোদনা নিষিদ্ধ হওয়ায় তামাক কোম্পানিগুলো এসব কসর্মসূচির মাধ্যমে তাদের নাম ও ব্র্যান্ডকে তরুণদের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। আইন লঙ্ঘন করে সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির আড়ালে ভালো ইমেজ গড়ে তোলাই তাদের মূখ্য উদ্দেশ্য। তামাক কোম্পানিগুলোর মদদে সাতক্ষীরা শহরের চা এর দোকানগুলো ধূমপানের আখড়ায় পরিণত হয়েছে এবং এতে কিছু কিছু মালিকও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন।

তামাক কোম্পানি কোনভাবেই রাষ্ট্রীয় আইনের উর্ধ্বে নয়। জনস্বাস্থ্যকে প্রধান্য দিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণ ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তামাক কোম্পানিগুলোকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ অর্জন ত্বরান্বিত হবে। এতে আমাদের সন্তান ও প্রিয়জনদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। এজন্য তামাক কোম্পানির সব ধরণের অপতৎপরতা বন্ধ করা জরুরী। এমতাবস্থায় জেলা ও উপজেলা টাক্সফোর্স কমিটির নিয়মিতি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা ও জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহনের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।


এই শ্রেণীর আরো সংবাদ